মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা: বরিশালের করকাঠি জেলেপল্লীতে মানবিক বিপর্যয় ও হাহাকার

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা: বরিশালের করকাঠি জেলেপল্লীতে মানবিক বিপর্যয় ও হাহাকার

মির্জাপুরে মহেড়া স্টেশনে নীলসাগর এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যাহত

মির্জাপুরে মহেড়া স্টেশনে নীলসাগর এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যাহত

মুকসুদপুর সার্কেল এএসপি নাফিছুর রহমানের বিদায়, নতুন দায়িত্ব গ্রহণ সুবীর কুমার সাহার

মুকসুদপুর সার্কেল এএসপি নাফিছুর রহমানের বিদায়, নতুন দায়িত্ব গ্রহণ সুবীর কুমার সাহার

পরিবহন মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

পরিবহন মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

মুকসুদপুরে পিকআপ ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ, বাবা ও ৩ বছরের মেয়ের মৃত্যু

মুকসুদপুরে পিকআপ ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ, বাবা ও ৩ বছরের মেয়ের মৃত্যু

কাশিয়ানীতে বাজার ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সরজমিনে পরিদর্শন এমপি সেলিমুজ্জামান সেলিমের

কাশিয়ানীতে বাজার ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সরজমিনে পরিদর্শন এমপি সেলিমুজ্জামান সেলিমের

মুকসুদপুরে যানজট নিরসনে বাইপাস ও জলাবদ্ধতা কাটাতে ড্রেনেজ প্রকল্পের উদ্যোগ এমপি সেলিমুজ্জামান সেলিমের

মুকসুদপুরে যানজট নিরসনে বাইপাস ও জলাবদ্ধতা কাটাতে ড্রেনেজ প্রকল্পের উদ্যোগ এমপি সেলিমুজ্জামান সেলিমের

ফরিদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দুর্ঘটনা, নিহত ৫

ফরিদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দুর্ঘটনা, নিহত ৫

সারাদেশ

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা: বরিশালের করকাঠি জেলেপল্লীতে মানবিক বিপর্যয় ও হাহাকার

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা: বরিশালের করকাঠি জেলেপল্লীতে মানবিক বিপর্যয় ও হাহাকার
ইলিশ শিকারে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞায় বরিশালের করকাঠি জেলেপল্লীর মৎস্যজীবীরা ট্রলার ও জাল তীরে তুলে অলস দিন কাটাচ্ছেন, তৈরি হয়েছে চরম আর্থিক সংকট। —ছবি: সংগৃহীত

মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রধান প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বরিশালের সদর উপজেলার করকাঠি জেলেপল্লীর শত শত মৎস্যজীবী পরিবারে নেমে এসেছে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও তীব্র খাদ্য সংকট। প্রাত্যহিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল এসব পরিবার এখন পরিবারের সদস্য ও শিশুদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে জেলেদের এই মানবেতর জীবনের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে ‘বিয়ন্ড দ্য শোর: ফিশারমেন, ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট’ (Beyond the Shore: Fishermen, Climate Resilience & Employment) শীর্ষক একটি অ্যাকশন গবেষণা প্রজেক্ট টিমের অনুসন্ধানে।

গবেষণা দলের মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকারিভাবে যে চাল দেওয়া হয়, তা অনেক পরিবারের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে যেসব জেলের কোনো বিকল্প আয়ের পথ বা জমাকৃত সঞ্চয় নেই, তারা পুরোপুরি দেনা ও সুদের ওপর নির্ভর করে দিন কাটাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, করকাঠি পল্লীর প্রতি ১০ জন জেলের মধ্যে ৩ থেকে ৪ জনেরই কোনো সরকারি ‘জেলে কার্ড’ বা নিবন্ধন নেই। এর ফলে সরকারি যেটুকু সহায়তা বা চাল বরাদ্দ আসে, তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এই বাস্তবতায় প্রকৃত কার্ডবিহীন জেলেদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং কার্ডধারী তালিকা অবিলম্বে হালনাগাদ করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কেবল সরকারি ভিজিএফ চালের ওপর নির্ভর না করে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বিকল্প আয়ের পথ তৈরির তাগিদ উঠে এসেছে মাঠপর্যায়ের তথ্যে। জরিপে জেলেরা জানান, বাধ্য হয়ে অনেকে অটো রিকশা চালানো বা দিনমজুরির চেষ্টা করলেও শারীরিক সক্ষমতা, পর্যাপ্ত কারিগরি শিক্ষা ও মূলধনের অভাবে সবাই তা করতে পারেন না। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় পর্যায়ে হস্তশিল্প বা কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলেদের এই দুর্ভোগ কেবল ২২ দিনের সাময়িক বিষয় নয়; বরং প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রজনন সুরক্ষার স্বার্থে তাদের প্রতিনিয়তই সংকটে পড়তে হয়। তাই কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ না দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর এবং কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে (এনজিও) সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলো।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা: বরিশালের করকাঠি জেলেপল্লীতে মানবিক বিপর্যয় ও হাহাকার

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রধান প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বরিশালের সদর উপজেলার করকাঠি জেলেপল্লীর শত শত মৎস্যজীবী পরিবারে নেমে এসেছে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও তীব্র খাদ্য সংকট। প্রাত্যহিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল এসব পরিবার এখন পরিবারের সদস্য ও শিশুদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে জেলেদের এই মানবেতর জীবনের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে ‘বিয়ন্ড দ্য শোর: ফিশারমেন, ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট’ (Beyond the Shore: Fishermen, Climate Resilience & Employment) শীর্ষক একটি অ্যাকশন গবেষণা প্রজেক্ট টিমের অনুসন্ধানে।

গবেষণা দলের মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকারিভাবে যে চাল দেওয়া হয়, তা অনেক পরিবারের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে যেসব জেলের কোনো বিকল্প আয়ের পথ বা জমাকৃত সঞ্চয় নেই, তারা পুরোপুরি দেনা ও সুদের ওপর নির্ভর করে দিন কাটাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, করকাঠি পল্লীর প্রতি ১০ জন জেলের মধ্যে ৩ থেকে ৪ জনেরই কোনো সরকারি ‘জেলে কার্ড’ বা নিবন্ধন নেই। এর ফলে সরকারি যেটুকু সহায়তা বা চাল বরাদ্দ আসে, তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এই বাস্তবতায় প্রকৃত কার্ডবিহীন জেলেদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং কার্ডধারী তালিকা অবিলম্বে হালনাগাদ করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কেবল সরকারি ভিজিএফ চালের ওপর নির্ভর না করে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বিকল্প আয়ের পথ তৈরির তাগিদ উঠে এসেছে মাঠপর্যায়ের তথ্যে। জরিপে জেলেরা জানান, বাধ্য হয়ে অনেকে অটো রিকশা চালানো বা দিনমজুরির চেষ্টা করলেও শারীরিক সক্ষমতা, পর্যাপ্ত কারিগরি শিক্ষা ও মূলধনের অভাবে সবাই তা করতে পারেন না। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় পর্যায়ে হস্তশিল্প বা কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলেদের এই দুর্ভোগ কেবল ২২ দিনের সাময়িক বিষয় নয়; বরং প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রজনন সুরক্ষার স্বার্থে তাদের প্রতিনিয়তই সংকটে পড়তে হয়। তাই কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ না দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর এবং কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে (এনজিও) সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলো।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো