মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেহেরপুরের গাংনীতে আগাম আমন কাটা শুরু: উৎপাদন খরচ না পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি নেই

মেহেরপুরের গাংনীতে আগাম আমন কাটা শুরু: উৎপাদন খরচ না পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি নেই

বালিয়াকান্দিতে আগাম ফুলকপিতে ভয়াবহ পচন রোগ, মারাত্মক ক্ষতির মুখে চাষিরা

বালিয়াকান্দিতে আগাম ফুলকপিতে ভয়াবহ পচন রোগ, মারাত্মক ক্ষতির মুখে চাষিরা

বাড়ে খরচের ধকল, মেলে না সমাধান: গাংনীতে আমন খেতে মাজরা ও গোড়া পচা রোগের হানা

বাড়ে খরচের ধকল, মেলে না সমাধান: গাংনীতে আমন খেতে মাজরা ও গোড়া পচা রোগের হানা

পাইকগাছার নার্সারিগুলোতে গুটি কলমের ব্যস্ততা, শ্রমসংকটে বাড়তি খরচের চাপ

পাইকগাছার নার্সারিগুলোতে গুটি কলমের ব্যস্ততা, শ্রমসংকটে বাড়তি খরচের চাপ

ফরিদপুরে কৃষিতে নতুন দিগন্ত: সালথায় প্রথমবারের মতো ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ!

ফরিদপুরে কৃষিতে নতুন দিগন্ত: সালথায় প্রথমবারের মতো ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ!

হাওরে কৃষকের হাহাকার: পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে ডুবছে সোনালি স্বপ্ন

হাওরে কৃষকের হাহাকার: পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে ডুবছে সোনালি স্বপ্ন

সবুজ মাঠ এখন সোনালি রঙে রঙিন: হাসি ফুটবে কি মুকসুদপুরের কৃষকের মুখে?

সবুজ মাঠ এখন সোনালি রঙে রঙিন: হাসি ফুটবে কি মুকসুদপুরের কৃষকের মুখে?

হলুদ প্রান্তরে কৃষকের হাসি: চরফ্যাশনে সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা

হলুদ প্রান্তরে কৃষকের হাসি: চরফ্যাশনে সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা

কৃষি

মেহেরপুরের গাংনীতে আগাম আমন কাটা শুরু: উৎপাদন খরচ না পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি নেই

মেহেরপুরের গাংনীতে আগাম আমন কাটা শুরু: উৎপাদন খরচ না পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি নেই
মেহেরপুরের গাংনীতে আগাম আমন ধান কাটা শুরু হলেও সার, ডিজেল ও সেচ খরচ বাড়ার বিপরীতে ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের মনে নেই ফসল কাটার চিরচেনা আনন্দ। —ছবি: নাহিদ হোসেন

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় আগাম রোপা আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। সোনালী ধানে চারপাশ ছেয়ে যাওয়ার পর কৃষকদের ঘরে ফসল তোলার মহা ব্যস্ততা থাকার কথা থাকলেও মাঠজুড়ে নেই সেই চিরচেনা উৎসবের আমেজ। সার, ডিজেল, কীটনাশক ও সেচসহ উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত আমন মৌসুম মানেই কৃষাণ-কৃষাণীদের মনে আনন্দ আর গ্রামীণ জনপদে জারি গানের সুর। কিন্তু এবার উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের বড় ধরনের ব্যবধান সেই আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে। স্থানীয় ফড়িয়া ও ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি মণ ধান মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।

হিসাব অনুযায়ী, জমি চাষ ও চারা রোপণ থেকে শুরু করে ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত এক বিঘা জমিতে খরচ পড়ছে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলেও বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ ২০ মণ ধান পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান বাজারদরে প্রতি মণ ধান ৮০০ টাকা হিসাবে ১৬ হাজার টাকায় তা বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে অনেক কৃষকেরই মূল উৎপাদন খরচটুকু উঠছে না।

ছবি: নাহিদ হোসেন

ভুক্তভোগী কৃষক জফের আলী আক্ষেপ করে জানান, সারের সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও বাড়তি দামে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। কেবল এক বস্তা সার কিনতে গেলেই প্রায় আড়াই মণ ধানের দাম চলে যাচ্ছে। ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকের পক্ষে আর আবাদ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরেক ধানচাষি মো. হানিফ আলী বলেন, ২৫ কাঠা জমিতে আমন আবাদ করতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে ফড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। কৃষকের পরিশ্রমের কোনো মূল্যায়ন না থাকায় তারা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

এদিকে অতিরিক্ত খরচের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে সেচ ব্যবস্থার জটিলতাকে দায়ী করছেন কৃষকরা। কৃষক জাকের আলী জানান, পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে এবার আমন ক্ষেতে আট থেকে ১০ বারের পরিবর্তে ২৫ থেকে ৩০ বার সেচ দিতে হয়েছে। ফলে খরচ আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি (১৪ হাজার হেক্টর)।


এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উপজেলায় আগাম আমন কাটা শুরু হয়েছে এবং ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। তবে কৃষকেরা উৎপাদন খরচ বেশি হওয়া ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার যে সংকটে পড়েছেন, তা নিরসনে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। পাশাপাশি সারের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


মেহেরপুরের গাংনীতে আগাম আমন কাটা শুরু: উৎপাদন খরচ না পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি নেই

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় আগাম রোপা আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। সোনালী ধানে চারপাশ ছেয়ে যাওয়ার পর কৃষকদের ঘরে ফসল তোলার মহা ব্যস্ততা থাকার কথা থাকলেও মাঠজুড়ে নেই সেই চিরচেনা উৎসবের আমেজ। সার, ডিজেল, কীটনাশক ও সেচসহ উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত আমন মৌসুম মানেই কৃষাণ-কৃষাণীদের মনে আনন্দ আর গ্রামীণ জনপদে জারি গানের সুর। কিন্তু এবার উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের বড় ধরনের ব্যবধান সেই আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে। স্থানীয় ফড়িয়া ও ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি মণ ধান মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।

হিসাব অনুযায়ী, জমি চাষ ও চারা রোপণ থেকে শুরু করে ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত এক বিঘা জমিতে খরচ পড়ছে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলেও বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ ২০ মণ ধান পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান বাজারদরে প্রতি মণ ধান ৮০০ টাকা হিসাবে ১৬ হাজার টাকায় তা বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে অনেক কৃষকেরই মূল উৎপাদন খরচটুকু উঠছে না।

ছবি: নাহিদ হোসেন

ভুক্তভোগী কৃষক জফের আলী আক্ষেপ করে জানান, সারের সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও বাড়তি দামে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। কেবল এক বস্তা সার কিনতে গেলেই প্রায় আড়াই মণ ধানের দাম চলে যাচ্ছে। ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকের পক্ষে আর আবাদ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরেক ধানচাষি মো. হানিফ আলী বলেন, ২৫ কাঠা জমিতে আমন আবাদ করতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে ফড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। কৃষকের পরিশ্রমের কোনো মূল্যায়ন না থাকায় তারা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

এদিকে অতিরিক্ত খরচের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে সেচ ব্যবস্থার জটিলতাকে দায়ী করছেন কৃষকরা। কৃষক জাকের আলী জানান, পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে এবার আমন ক্ষেতে আট থেকে ১০ বারের পরিবর্তে ২৫ থেকে ৩০ বার সেচ দিতে হয়েছে। ফলে খরচ আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি (১৪ হাজার হেক্টর)।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উপজেলায় আগাম আমন কাটা শুরু হয়েছে এবং ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। তবে কৃষকেরা উৎপাদন খরচ বেশি হওয়া ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার যে সংকটে পড়েছেন, তা নিরসনে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। পাশাপাশি সারের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো