পিরোজপুর পৌর শহরের ব্যস্ততম পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুটি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শহরের সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে এই আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে পিরোজপুর পৌর ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাফিসকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পিরোজপুর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে ছাত্রদলের স্থানীয় একটি পক্ষ অবস্থান করছিল। এ সময় প্রতিপক্ষের সশস্ত্র কর্মীরা অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বেঁধে যায়। আকস্মিক এই হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ পথচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত পাঁচজনকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জিহাদ মাতুব্বরকে (যাঁর পিতার নাম মিজান মাতুব্বর, বাড়ি জিয়াংগর উপজেলা) উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত অপর চারজন হলেন—শানের (বাড়ি মাছিমপুর গ্রাম), তাশফি (কালীবাড়ি এলাকার মিঠুর ছেলে), নীরব (শিকারপুর গ্রামের আউয়ালের ছেলে) এবং নাঈম (মাহিদুলের ছেলে, বাড়ি জুজখোলা গ্রাম)। আহতদের স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানা থেকে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত হলেও স্থানীয় জনগণের মাঝে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে এই ঘটনার বিষয়ে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন কুমার গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সময় তিনি ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত হয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা বা এ ধরনের হিংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়, তবে তার বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের যেই হোক না কেন, প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এ ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
পিরোজপুর পৌর শহরের ব্যস্ততম পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুটি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শহরের সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে এই আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে পিরোজপুর পৌর ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাফিসকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পিরোজপুর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে ছাত্রদলের স্থানীয় একটি পক্ষ অবস্থান করছিল। এ সময় প্রতিপক্ষের সশস্ত্র কর্মীরা অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বেঁধে যায়। আকস্মিক এই হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ পথচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত পাঁচজনকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জিহাদ মাতুব্বরকে (যাঁর পিতার নাম মিজান মাতুব্বর, বাড়ি জিয়াংগর উপজেলা) উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত অপর চারজন হলেন—শানের (বাড়ি মাছিমপুর গ্রাম), তাশফি (কালীবাড়ি এলাকার মিঠুর ছেলে), নীরব (শিকারপুর গ্রামের আউয়ালের ছেলে) এবং নাঈম (মাহিদুলের ছেলে, বাড়ি জুজখোলা গ্রাম)। আহতদের স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানা থেকে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত হলেও স্থানীয় জনগণের মাঝে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে এই ঘটনার বিষয়ে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন কুমার গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সময় তিনি ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত হয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা বা এ ধরনের হিংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়, তবে তার বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের যেই হোক না কেন, প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এ ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মতামত