মুকসুদপুর    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
আপডেট : মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ

এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ

দেশের যোগাযোগ ও কৃষির উন্নয়নে মেগা প্রকল্প: গুরুত্ব পাচ্ছে পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ

দেশের যোগাযোগ ও কৃষির উন্নয়নে মেগা প্রকল্প: গুরুত্ব পাচ্ছে পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ

ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা

অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মৈত্রী লীগের সৌজন্য সাক্ষাৎ: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে জোর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মৈত্রী লীগের সৌজন্য সাক্ষাৎ: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে জোর

চকরিয়ায় বাস ও সবজিবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

চকরিয়ায় বাস ও সবজিবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলায় প্রধানমন্ত্রী: আধুনিকায়ন ও দ্রুত পণ্য খালাসের নির্দেশ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলায় প্রধানমন্ত্রী: আধুনিকায়ন ও দ্রুত পণ্য খালাসের নির্দেশ

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ও গোলাগুলি: মেঘের রাজ্যের নেপথ্যে কোন সংঘাত?

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ও গোলাগুলি: মেঘের রাজ্যের নেপথ্যে কোন সংঘাত?

জাতীয়

দেশের যোগাযোগ ও কৃষির উন্নয়নে মেগা প্রকল্প: গুরুত্ব পাচ্ছে পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ

দেশের যোগাযোগ ও কৃষির উন্নয়নে মেগা প্রকল্প: গুরুত্ব পাচ্ছে পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। —ছবি: সংগৃহীত

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন, কৃষি খাতের সুরক্ষা এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা ব্যারেজ, ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ। এই প্রকল্প তিনটির প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সার্বিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পানিসম্পদ, সড়ক পরিবহন এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সচিব এবং সরকারের উচ্চপদস্থ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গণমাধ্যমকে জানান, পদ্মা ব্যারেজ, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতু দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় প্রকল্প। এই মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পূর্বে সামগ্রিক পরিকল্পনা এবং ভৌত কাজের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় ও সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্যই মূলত আজকের এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

মন্ত্রী জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি ইতিপূর্বেই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটি একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। অন্যদিকে, পদ্মা নদীতে ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের বিষয়টি নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দেশের বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়নের স্বার্থে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যা সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পদ্মা ব্যারেজ ও ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় সেতুর সম্ভাব্য পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, ব্যারেজের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে এর অপার সম্ভাবনাগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা গভীরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ব্যারেজ ও সেতুর কার্যক্রমের মধ্যে যেন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়, বরং একটি যেন অন্যটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে—সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সমীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেতু দুটির নির্দিষ্ট অবস্থান, সুনির্দিষ্ট নকশা এবং মোট প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এর মাধ্যমে মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনবে। অন্যদিকে, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এটি ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে।


বৈঠকে প্রকল্পগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ, নির্বিঘ্ন জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় সাধনের বিষয়েও বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারের এই দূরদর্শী পদক্ষেপে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বিষয় : পদ্মা ব্যারাজ পদ্মা সেতু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়

দৈনিক নতুন আলো

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


দেশের যোগাযোগ ও কৃষির উন্নয়নে মেগা প্রকল্প: গুরুত্ব পাচ্ছে পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন, কৃষি খাতের সুরক্ষা এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা ব্যারেজ, ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ। এই প্রকল্প তিনটির প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সার্বিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পানিসম্পদ, সড়ক পরিবহন এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সচিব এবং সরকারের উচ্চপদস্থ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গণমাধ্যমকে জানান, পদ্মা ব্যারেজ, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতু দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় প্রকল্প। এই মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পূর্বে সামগ্রিক পরিকল্পনা এবং ভৌত কাজের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় ও সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্যই মূলত আজকের এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

মন্ত্রী জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি ইতিপূর্বেই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটি একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। অন্যদিকে, পদ্মা নদীতে ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের বিষয়টি নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দেশের বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়নের স্বার্থে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যা সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পদ্মা ব্যারেজ ও ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় সেতুর সম্ভাব্য পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, ব্যারেজের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে এর অপার সম্ভাবনাগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা গভীরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ব্যারেজ ও সেতুর কার্যক্রমের মধ্যে যেন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়, বরং একটি যেন অন্যটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে—সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সমীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেতু দুটির নির্দিষ্ট অবস্থান, সুনির্দিষ্ট নকশা এবং মোট প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এর মাধ্যমে মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনবে। অন্যদিকে, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এটি ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে প্রকল্পগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ, নির্বিঘ্ন জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় সাধনের বিষয়েও বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারের এই দূরদর্শী পদক্ষেপে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো