ইসলাম ধর্মে দরুদ শরিফ পাঠ করা মুসলমানদের জন্য আল্লাহর অসীম রহমত ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)‑এর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি কেবল সাধারণ কোনো জিকির বা ইবাদত নয়; বরং এটি প্রিয় নবীর প্রতি গভীর সম্মান, ভালোবাসা ও আনুগত্যের এক অনন্য প্রকাশ।
ইসলামিক পরিভাষায় ‘দরুদ’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ শুভকামনা, কল্যাণ ও শান্তি প্রার্থনা। শরিয়তের পরিভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)‑এর ওপর আল্লাহর রহমত, বরকত ও শান্তি কামনা করাকেই দরুদ বলা হয়।
আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে মুমিনদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, হে মুমিনগণ, তোমরা তার(মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ওপর দরুদ পাঠ কর এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ কর।
হাদিসে দরুদ পাঠের বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। খলিফা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, “দোয়া আকাশ ও জমিনের মাঝখানে আটকে থাকে, যতক্ষণ না তুমি নবীর ওপর দরুদ পাঠ কর, তা উপরে ওঠে না” (তিরমিজি‑৪৮৬)। এ কারণে যেকোনো দোয়ার শুরুতে ও শেষে দরুদ পাঠ করা দোয়ার আদব এবং তা কবুলের অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। তিরমিজির ৪৮৪ নম্বর হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, কিয়ামতের দিনে নবীজির সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি হবেন যিনি দুনিয়াতে সর্বাধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করতেন। অন্যদিকে, তিরমিজিরের আরেকটি হাদিস (৩৫৪৬) সতর্ক করেছে যে, মানুষের সামনে মহানবীর নাম উচ্চারিত হওয়া সত্ত্বেও যারা দরুদ পাঠ করে না, তারা কৃপণতার অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র হাদিসের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দরুদ পাঠের বেশ কিছু বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। প্রথমত, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর সুন্নতে ইব্রাহিমির আদলে দরুদ পাঠ করা সুনির্দিষ্ট সুন্নত (বুখারি‑৩৩৭০, মুসলিম‑৪০৬)। দ্বিতীয়ত, সভা‑সমাবেশ, ওয়াজ‑নসিহত কিংবা যেকোনো মজলিসে যখনই মহানবীর নাম মোবারক উচ্চারিত হবে, তখনই সঙ্গে সঙ্গে দরুদ পাঠ করা উচিত। তৃতীয়ত, যেকোনো ভালো কাজের শুরুতে ও দোয়ার আদব রক্ষার্থে দরুদ পাঠ করা উত্তম। এছাড়া আজান শেষের সঙ্গে সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)‑এর ওপর দরুদ পাঠ করার বিধান রয়েছে (মুসলিম‑৩৮৪)। বিশেষ করে পবিত্র জুমা দিন এবং এর আগের রাতেও অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করার তাগিদ ও সুপারিশ রয়েছে (আবু দাউদ‑১০৪৭)।
মসজিদে প্রবেশের সময়, মদিনায় রওজা মোবারক জিয়ারতে, বিপদ‑আপদের সময়ে কিংবা কোনো বই, পত্রিকা বা চিঠিতে প্রিয় নবীর নাম লেখার সঙ্গে সঙ্গে দরুদ যোগ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, দরুদ শরিফ পাঠের আমলটি কোনো নির্দিষ্ট সময় বা স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মুমিন মুসলমানের প্রতিটি মুহূর্ত হতে পারে দরুদময়। কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত বিশেষ মুহূর্তগুলোতে এটি অধিক সওয়াব ও বরকত বয়ে আনে। প্রতিটি মুমিনের উচিত তার দৈনন্দিন জীবনে, নামাজের পরে, দোয়ার আগে‑পরে, জুমার দিনে এবং সব বিপদ‑আপদে নিয়মিত দরুদ পাঠের সুন্দর অভ্যাস গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত, বরকত এবং প্রিয় নবীজির নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে নিয়মিত দরুদ শরিফ পাঠ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ইসলাম ধর্মে দরুদ শরিফ পাঠ করা মুসলমানদের জন্য আল্লাহর অসীম রহমত ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)‑এর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি কেবল সাধারণ কোনো জিকির বা ইবাদত নয়; বরং এটি প্রিয় নবীর প্রতি গভীর সম্মান, ভালোবাসা ও আনুগত্যের এক অনন্য প্রকাশ।
ইসলামিক পরিভাষায় ‘দরুদ’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ শুভকামনা, কল্যাণ ও শান্তি প্রার্থনা। শরিয়তের পরিভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)‑এর ওপর আল্লাহর রহমত, বরকত ও শান্তি কামনা করাকেই দরুদ বলা হয়।
আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে মুমিনদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, হে মুমিনগণ, তোমরা তার(মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ওপর দরুদ পাঠ কর এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ কর।
হাদিসে দরুদ পাঠের বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। খলিফা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, “দোয়া আকাশ ও জমিনের মাঝখানে আটকে থাকে, যতক্ষণ না তুমি নবীর ওপর দরুদ পাঠ কর, তা উপরে ওঠে না” (তিরমিজি‑৪৮৬)। এ কারণে যেকোনো দোয়ার শুরুতে ও শেষে দরুদ পাঠ করা দোয়ার আদব এবং তা কবুলের অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। তিরমিজির ৪৮৪ নম্বর হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, কিয়ামতের দিনে নবীজির সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি হবেন যিনি দুনিয়াতে সর্বাধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করতেন। অন্যদিকে, তিরমিজিরের আরেকটি হাদিস (৩৫৪৬) সতর্ক করেছে যে, মানুষের সামনে মহানবীর নাম উচ্চারিত হওয়া সত্ত্বেও যারা দরুদ পাঠ করে না, তারা কৃপণতার অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র হাদিসের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দরুদ পাঠের বেশ কিছু বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। প্রথমত, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর সুন্নতে ইব্রাহিমির আদলে দরুদ পাঠ করা সুনির্দিষ্ট সুন্নত (বুখারি‑৩৩৭০, মুসলিম‑৪০৬)। দ্বিতীয়ত, সভা‑সমাবেশ, ওয়াজ‑নসিহত কিংবা যেকোনো মজলিসে যখনই মহানবীর নাম মোবারক উচ্চারিত হবে, তখনই সঙ্গে সঙ্গে দরুদ পাঠ করা উচিত। তৃতীয়ত, যেকোনো ভালো কাজের শুরুতে ও দোয়ার আদব রক্ষার্থে দরুদ পাঠ করা উত্তম। এছাড়া আজান শেষের সঙ্গে সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)‑এর ওপর দরুদ পাঠ করার বিধান রয়েছে (মুসলিম‑৩৮৪)। বিশেষ করে পবিত্র জুমা দিন এবং এর আগের রাতেও অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করার তাগিদ ও সুপারিশ রয়েছে (আবু দাউদ‑১০৪৭)।
মসজিদে প্রবেশের সময়, মদিনায় রওজা মোবারক জিয়ারতে, বিপদ‑আপদের সময়ে কিংবা কোনো বই, পত্রিকা বা চিঠিতে প্রিয় নবীর নাম লেখার সঙ্গে সঙ্গে দরুদ যোগ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, দরুদ শরিফ পাঠের আমলটি কোনো নির্দিষ্ট সময় বা স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মুমিন মুসলমানের প্রতিটি মুহূর্ত হতে পারে দরুদময়। কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত বিশেষ মুহূর্তগুলোতে এটি অধিক সওয়াব ও বরকত বয়ে আনে। প্রতিটি মুমিনের উচিত তার দৈনন্দিন জীবনে, নামাজের পরে, দোয়ার আগে‑পরে, জুমার দিনে এবং সব বিপদ‑আপদে নিয়মিত দরুদ পাঠের সুন্দর অভ্যাস গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত, বরকত এবং প্রিয় নবীজির নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে নিয়মিত দরুদ শরিফ পাঠ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

মতামত