কলকাতার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গা পূজা মণ্ডপে এক ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানির মর্মান্তিক সংবাদ পাওয়া গেছে। সংকীর্ণ প্রবেশপথ, হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি এবং ছুটির দিনের উপচে পড়া ভিড়ের মারাত্মক সংমিশ্রণেই এই বিপর্যয় ঘটে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানা এলাকার সারদা পার্ক সংলগ্ন চোরবাগান মণ্ডপে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের রাম মন্দিরের নিকটবর্তী ৯০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী পূজায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বাইরে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষ একযোগে মণ্ডপের ভেতরে ঢোকার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। মণ্ডপের ভেতরে ও বাইরে যাওয়ার পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাব থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মানুষ যখন ভেতরে প্রবেশের জন্য প্রবল ধাক্কাধাক্কি করছিলেন, ঠিক তখনই ভিড়ের চাপে কয়েকজন মাটিতে পড়ে যান। তাদের ওপর দিয়ে হুড়মুড় করে হাজারো মানুষ গড়িয়ে যাওয়ার ফলে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অনেকের জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনা ঘটে এবং দ্রুত তাদের মোটরসাইকেল ও স্থানীয় যানবাহনে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে মণ্ডপের একটি অংশ ভেঙে পড়ার কারণেও পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শী ও কুমোরটুলির বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী সোনু পাল বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানান, তিনি তার মায়ের সঙ্গে পূজা দেখতে এসেছিলেন। বৃষ্টির সময় হঠাৎ মানুষের অসহনীয় চাপের মুখে পড়ে তার মা চোখের সামনেই প্রাণ হারিয়েছেন। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সময় সেখানে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক বা পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উদ্ধারকাজ তদারকি করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীসহ রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্তারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসা সেবার খোঁজখবর নেন এবং এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
বিষয় : বিশ্ব সংবাদ নিহত ভারত কলকাতা দুর্গাপূজা

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
কলকাতার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গা পূজা মণ্ডপে এক ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানির মর্মান্তিক সংবাদ পাওয়া গেছে। সংকীর্ণ প্রবেশপথ, হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি এবং ছুটির দিনের উপচে পড়া ভিড়ের মারাত্মক সংমিশ্রণেই এই বিপর্যয় ঘটে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানা এলাকার সারদা পার্ক সংলগ্ন চোরবাগান মণ্ডপে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের রাম মন্দিরের নিকটবর্তী ৯০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী পূজায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বাইরে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষ একযোগে মণ্ডপের ভেতরে ঢোকার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। মণ্ডপের ভেতরে ও বাইরে যাওয়ার পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাব থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মানুষ যখন ভেতরে প্রবেশের জন্য প্রবল ধাক্কাধাক্কি করছিলেন, ঠিক তখনই ভিড়ের চাপে কয়েকজন মাটিতে পড়ে যান। তাদের ওপর দিয়ে হুড়মুড় করে হাজারো মানুষ গড়িয়ে যাওয়ার ফলে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অনেকের জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনা ঘটে এবং দ্রুত তাদের মোটরসাইকেল ও স্থানীয় যানবাহনে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে মণ্ডপের একটি অংশ ভেঙে পড়ার কারণেও পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শী ও কুমোরটুলির বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী সোনু পাল বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানান, তিনি তার মায়ের সঙ্গে পূজা দেখতে এসেছিলেন। বৃষ্টির সময় হঠাৎ মানুষের অসহনীয় চাপের মুখে পড়ে তার মা চোখের সামনেই প্রাণ হারিয়েছেন। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সময় সেখানে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক বা পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উদ্ধারকাজ তদারকি করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীসহ রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্তারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসা সেবার খোঁজখবর নেন এবং এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

আপনার মতামত লিখুন