মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতা

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বাংলাদেশের সময়োপযোগী পদক্ষেপ

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বাংলাদেশের সময়োপযোগী পদক্ষেপ

বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, তার আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই ওঠানামা আমাদের জাতীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে চাপ সৃষ্টি করাটাই স্বাভাবিক। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার যে ধরনের সমন্বিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা সংকট নিয়ন্ত্রণে আশার আলো দেখাচ্ছে।

বিকল্প উৎসের সন্ধান ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ

জ্বালানি আমদানিতে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর না থেকে সরকার সরবরাহের উৎস বহুমুখীকরণ করেছে। ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ব্রুনেই এবং আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে সক্রিয় যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ এবং চীনের সাথে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার উদ্যোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করছে। এছাড়া স্পট মার্কেট থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করে মজুদ ঠিক রাখার বিষয়টি সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে প্রমাণ করে।

সাশ্রয়ী নীতি ও জনগণের অংশগ্রহণ

সরকার কেবল সরবরাহ বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়নি, বরং ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিমিতিবোধ ও সাশ্রয়ী হওয়ার ডাক দিয়েছে। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার রোধ, আলোকসজ্জা পরিহার এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহনের ব্যবহারের মতো পাঁচ দফা নির্দেশনা একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। তবে এই নির্দেশনার সফলতা নির্ভর করছে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর। সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর ফলে সব শ্রেণির মানুষের কাছে জ্বালানি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে, যা বিশৃঙ্খলা এড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে।

মাঠপর্যায়ে তদারকি ও স্বচ্ছতা

বিভাগীয় পর্যায়ে জ্বালানি বণ্টন সমন্বয় এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধির ফলে অবৈধ মজুতদারি ও পাচার রোধ করা সহজ হচ্ছে। প্রশাসনিক এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। সংকটের সময় গুজব রোধ এবং সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যা বর্তমান ব্যবস্থাপনায় প্রতিফলিত হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পথনকশা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি

দীর্ঘমেয়াদী সংকট কাটাতে সরকার এখন থেকেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও দেশীয় খনিজ সম্পদ উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করছে। প্রযুক্তিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব থেকে দেশ অনেকাংশেই মুক্ত থাকবে।

সংকট আসবে, কিন্তু তা মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন। সরকার যে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। আমরা বিশ্বাস করি, সরকারের এই দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং জনগণের সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমেই বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হোক এখন আমাদের প্রধান জাতীয় লক্ষ্য।

বিষয় : বাংলাদেশ জ্বালানি সংকট

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বাংলাদেশের সময়োপযোগী পদক্ষেপ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, তার আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই ওঠানামা আমাদের জাতীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে চাপ সৃষ্টি করাটাই স্বাভাবিক। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার যে ধরনের সমন্বিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা সংকট নিয়ন্ত্রণে আশার আলো দেখাচ্ছে।

বিকল্প উৎসের সন্ধান ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ

জ্বালানি আমদানিতে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর না থেকে সরকার সরবরাহের উৎস বহুমুখীকরণ করেছে। ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ব্রুনেই এবং আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে সক্রিয় যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ এবং চীনের সাথে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার উদ্যোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করছে। এছাড়া স্পট মার্কেট থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করে মজুদ ঠিক রাখার বিষয়টি সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে প্রমাণ করে।

সাশ্রয়ী নীতি ও জনগণের অংশগ্রহণ

সরকার কেবল সরবরাহ বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়নি, বরং ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিমিতিবোধ ও সাশ্রয়ী হওয়ার ডাক দিয়েছে। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার রোধ, আলোকসজ্জা পরিহার এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহনের ব্যবহারের মতো পাঁচ দফা নির্দেশনা একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। তবে এই নির্দেশনার সফলতা নির্ভর করছে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর। সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর ফলে সব শ্রেণির মানুষের কাছে জ্বালানি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে, যা বিশৃঙ্খলা এড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে।

মাঠপর্যায়ে তদারকি ও স্বচ্ছতা

বিভাগীয় পর্যায়ে জ্বালানি বণ্টন সমন্বয় এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধির ফলে অবৈধ মজুতদারি ও পাচার রোধ করা সহজ হচ্ছে। প্রশাসনিক এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। সংকটের সময় গুজব রোধ এবং সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যা বর্তমান ব্যবস্থাপনায় প্রতিফলিত হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পথনকশা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি

দীর্ঘমেয়াদী সংকট কাটাতে সরকার এখন থেকেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও দেশীয় খনিজ সম্পদ উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করছে। প্রযুক্তিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব থেকে দেশ অনেকাংশেই মুক্ত থাকবে।

সংকট আসবে, কিন্তু তা মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন। সরকার যে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। আমরা বিশ্বাস করি, সরকারের এই দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং জনগণের সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমেই বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হোক এখন আমাদের প্রধান জাতীয় লক্ষ্য।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো