মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মুখে বাংলাদেশের টেলিকম খাত: হুমকির মুখে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি

বিপন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা : ডিজিটাল বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ?

বিপন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা : ডিজিটাল বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ?
ছবি : দৈনিক নতুন আলো

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় কোনো দেশের অগ্রগতির প্রধান মাপকাঠি হলো তার নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো। বাংলাদেশ যখন স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপকল্প নিয়ে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই দেশের মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতে এক অশনিসংকেত দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা এখন এক মহাবিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব সম্প্রতি বিটিআরসিকে দেওয়া চিঠিতে যে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে, তা কেবল একটি খাতের সংকট নয়, বরং পুরো জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। যখন একটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়, তখন সেই দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

আমরা দেখছি, লোডশেডিংয়ের সময় মোবাইল টাওয়ার বা বিটিএস সচল রাখতে জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সারা দেশে হাজার হাজার টাওয়ার সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৮১ হাজার লিটারের বেশি ডিজেল ও অকটেন প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রাপ্যতার অভাবে এই বিপুল চাহিদা মেটানো অপারেটরদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। কেবল জ্বালানি সংকটই নয়, দুর্গম এলাকাগুলোতে জ্বালানি পৌঁছানোর পথে প্রশাসনিক ও পরিবহন জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে দেশের অনেক প্রান্তিক মানুষ দিনের বড় একটি সময় নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকছেন, যা ডিজিটাল বৈষম্যকে আরও প্রকট করছে।


টেলিকম নেটওয়ার্ক কেবল কথা বলার মাধ্যম নয়, এটি এখন আমাদের ব্যাংকিং, ই-কমার্স, শিক্ষা এবং জরুরি সরকারি সেবার মূল ভিত্তি। অপারেটরদের ডেটা সেন্টারগুলো যদি জ্বালানি সংকটে কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তবে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। অনলাইন ব্যাংকিং লেনদেন স্থবির হয়ে পড়বে, এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা সম্ভব হবে না, এমনকি জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মতো মাধ্যমগুলোও অকেজো হয়ে পড়বে। এই ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্নতা দেশের জননিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।

টেলিযোগাযোগকে একটি অত্যাবশ্যকীয় সেবা হিসেবে গণ্য করে সরকারকে এখনই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে আসতে হবে। অ্যামটব যে দাবিগুলো জানিয়েছে—যেমন গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এবং ডিপো থেকে সরাসরি জ্বালানি সরবরাহের অনুমতি দেওয়া—তা অত্যন্ত যৌক্তিক। বিটিআরসি জানিয়েছে তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে, কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা করার মতো সময় এখন আর নেই।

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সমাজ আধুনিক যুগে অচল। ডিজিটাল দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে বৈদেশিক বিনিয়োগ যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্থবিরতা নেমে আসবে। তাই স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সবার আগে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে টেলিকম খাতকে রক্ষা করতে হবে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই আসন্ন ডিজিটাল বিপর্যয় থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


বিপন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা : ডিজিটাল বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ?

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় কোনো দেশের অগ্রগতির প্রধান মাপকাঠি হলো তার নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো। বাংলাদেশ যখন স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপকল্প নিয়ে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই দেশের মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতে এক অশনিসংকেত দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা এখন এক মহাবিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব সম্প্রতি বিটিআরসিকে দেওয়া চিঠিতে যে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে, তা কেবল একটি খাতের সংকট নয়, বরং পুরো জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। যখন একটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়, তখন সেই দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

আমরা দেখছি, লোডশেডিংয়ের সময় মোবাইল টাওয়ার বা বিটিএস সচল রাখতে জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সারা দেশে হাজার হাজার টাওয়ার সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৮১ হাজার লিটারের বেশি ডিজেল ও অকটেন প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রাপ্যতার অভাবে এই বিপুল চাহিদা মেটানো অপারেটরদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। কেবল জ্বালানি সংকটই নয়, দুর্গম এলাকাগুলোতে জ্বালানি পৌঁছানোর পথে প্রশাসনিক ও পরিবহন জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে দেশের অনেক প্রান্তিক মানুষ দিনের বড় একটি সময় নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকছেন, যা ডিজিটাল বৈষম্যকে আরও প্রকট করছে।


টেলিকম নেটওয়ার্ক কেবল কথা বলার মাধ্যম নয়, এটি এখন আমাদের ব্যাংকিং, ই-কমার্স, শিক্ষা এবং জরুরি সরকারি সেবার মূল ভিত্তি। অপারেটরদের ডেটা সেন্টারগুলো যদি জ্বালানি সংকটে কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তবে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। অনলাইন ব্যাংকিং লেনদেন স্থবির হয়ে পড়বে, এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা সম্ভব হবে না, এমনকি জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মতো মাধ্যমগুলোও অকেজো হয়ে পড়বে। এই ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্নতা দেশের জননিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।

টেলিযোগাযোগকে একটি অত্যাবশ্যকীয় সেবা হিসেবে গণ্য করে সরকারকে এখনই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে আসতে হবে। অ্যামটব যে দাবিগুলো জানিয়েছে—যেমন গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এবং ডিপো থেকে সরাসরি জ্বালানি সরবরাহের অনুমতি দেওয়া—তা অত্যন্ত যৌক্তিক। বিটিআরসি জানিয়েছে তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে, কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা করার মতো সময় এখন আর নেই।

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সমাজ আধুনিক যুগে অচল। ডিজিটাল দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে বৈদেশিক বিনিয়োগ যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্থবিরতা নেমে আসবে। তাই স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সবার আগে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে টেলিকম খাতকে রক্ষা করতে হবে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই আসন্ন ডিজিটাল বিপর্যয় থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো