মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

স্বীকৃতি, সংগ্রাম ও সম্ভাবনায় মা, তার হাতেই স্বপ্নের আলো

ঢাকায় গরবিনী মা সম্মাননা: অশ্রু, সংগ্রাম আর মাতৃত্বের বহুমাত্রিক মহিমা উদ্‌যাপন

ঢাকায় গরবিনী মা সম্মাননা: অশ্রু, সংগ্রাম আর মাতৃত্বের বহুমাত্রিক মহিমা উদ্‌যাপন
ছবি : সংগৃহীত

মায়ের মুখে প্রথম উচ্চারিত শব্দ থেকেই মানুষের পৃথিবী দেখা শুরু। সেই মায়ের ত্যাগ, নীরব ভালোবাসা, সংগ্রাম আর অদৃশ্য শক্তিকে কেন্দ্র করেই এবার রাজধানী ঢাকায় মা দিবস হয়ে উঠল কৃতজ্ঞতা, স্বীকৃতি ও সম্ভাবনার এক পরম মানবিক উৎসব। একদিকে সন্তানের সাফল্যের পেছনে নীরব প্রেরণা হয়ে থাকা মায়েদের সম্মাননা, অন্যদিকে সংসার সামলে সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার পেছনের লড়াইকে সম্মান জানানো—দুই ভিন্ন আয়োজন যেন একই সুতোয় গাঁথল মাতৃত্বের বহুমাত্রিক মহিমা।

মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আয়োজিত ১৩তম গরবিনী মা সম্মাননা অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠছিলেন একেকজন মা। আর তাঁদের সাথে সাথে মঞ্চে উঠে আসছিল বছরের পর বছর ধরে বয়ে বেড়ানো সংগ্রাম, অশ্রু, প্রার্থনা আর অবিচল সাহসের না বলা গল্প।

আলো ঝলমলে মঞ্চে যখন একে একে মায়াদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন করতালির আড়ালে যেন ভেসে উঠছিল অগণিত নিঃশব্দ ত্যাগের প্রতিধ্বনি। প্রশাসন, আইন ও বিচার, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, চিকিৎসা, সংগীত, অভিনয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত সন্তানের মায়েদের হাতে এবার তুলে দেওয়া হয় এই বিশেষ সম্মাননা।

সম্মাননা পেলেন যে ১০ রত্নগর্ভ মা :

এ বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ও দেশবরেণ্য সন্তানদের মায়েরা এই মঞ্চে সম্মানিত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন :

  • ফরহাত ইসলাম : রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের মা।
  • রোকেয়া রশীদ : নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বরিশালের বিচারক মোহা. রকিবুল ইসলামের মা।
  • রাজিফা আজাদ : ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামের মা।
  • সেলিমা হক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানিয়া হকের মা।
  • রাজিয়া আহমেদ : সাংবাদিক এ কে এম মনজুরুল ইসলামের মা।
  • সরস্বতী প্রসাদ : প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের মা।
  • সায়মা মনির মিনু : জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সোমনূর মনির কোনালের মা।
  • সৈয়দা শারমিন : জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণের মা।
  • ফাতেমা আক্তার কাজল : আলোচিত অভিনেতা ও নির্মাতা জিয়াউল হক পলাশের মা।
  • শিরিন আক্তার : ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক খাইরুল ইসলামের মা।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয় যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন অভিনেতা ও নির্মাতা জিয়াউল হক পলাশ। মায়ের অসুস্থতা, নিজের ব্যর্থতা এবং সংগ্রামের গল্প বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় তাঁর কণ্ঠ রোধ হয়ে আসছিল।


তিনি জানান, অতীতে এসএসসিতে তাঁর অকৃতকার্য হওয়ার দুঃসংবাদ শুনে মা ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘদিন প্যারালাইজড ছিলেন। জীবনের সেই অন্ধকার ও কঠিন সময়ে দুনিয়া পাশে না থাকলেও মায়ের নীরব সাহস ও দোয়াই তাঁকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

আরেকটি হৃদয়স্পর্শী গল্প ছিল ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক খাইরুল ইসলামের মায়ের। বাবার অকাল মৃত্যুর পর চরম অর্থসংকট আর সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও মা শিরিন আক্তার নিজের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে ছেলের পড়াশোনা চালু রেখেছিলেন। খাইরুলের সেই স্মৃতিচারণ যেন মিলনায়তনে উপস্থিত শত শত মায়ের চোখের কোণে পানি এনে দেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের এই ডিজিটাল যুগে নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করা মায়েদের জন্য আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। তবে প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে আমাদের এর ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী। স্বাগত বক্তব্য দেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী এবং পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনপ্রিয় সংবাদ পাঠিকা বিপাশা মজুমদার।

বিষয় : মা দিবস

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ঢাকায় গরবিনী মা সম্মাননা: অশ্রু, সংগ্রাম আর মাতৃত্বের বহুমাত্রিক মহিমা উদ্‌যাপন

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

মায়ের মুখে প্রথম উচ্চারিত শব্দ থেকেই মানুষের পৃথিবী দেখা শুরু। সেই মায়ের ত্যাগ, নীরব ভালোবাসা, সংগ্রাম আর অদৃশ্য শক্তিকে কেন্দ্র করেই এবার রাজধানী ঢাকায় মা দিবস হয়ে উঠল কৃতজ্ঞতা, স্বীকৃতি ও সম্ভাবনার এক পরম মানবিক উৎসব। একদিকে সন্তানের সাফল্যের পেছনে নীরব প্রেরণা হয়ে থাকা মায়েদের সম্মাননা, অন্যদিকে সংসার সামলে সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার পেছনের লড়াইকে সম্মান জানানো—দুই ভিন্ন আয়োজন যেন একই সুতোয় গাঁথল মাতৃত্বের বহুমাত্রিক মহিমা।

মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আয়োজিত ১৩তম গরবিনী মা সম্মাননা অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠছিলেন একেকজন মা। আর তাঁদের সাথে সাথে মঞ্চে উঠে আসছিল বছরের পর বছর ধরে বয়ে বেড়ানো সংগ্রাম, অশ্রু, প্রার্থনা আর অবিচল সাহসের না বলা গল্প।

আলো ঝলমলে মঞ্চে যখন একে একে মায়াদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন করতালির আড়ালে যেন ভেসে উঠছিল অগণিত নিঃশব্দ ত্যাগের প্রতিধ্বনি। প্রশাসন, আইন ও বিচার, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, চিকিৎসা, সংগীত, অভিনয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত সন্তানের মায়েদের হাতে এবার তুলে দেওয়া হয় এই বিশেষ সম্মাননা।

সম্মাননা পেলেন যে ১০ রত্নগর্ভ মা :

এ বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ও দেশবরেণ্য সন্তানদের মায়েরা এই মঞ্চে সম্মানিত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন :

  • ফরহাত ইসলাম : রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের মা।
  • রোকেয়া রশীদ : নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বরিশালের বিচারক মোহা. রকিবুল ইসলামের মা।
  • রাজিফা আজাদ : ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামের মা।
  • সেলিমা হক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানিয়া হকের মা।
  • রাজিয়া আহমেদ : সাংবাদিক এ কে এম মনজুরুল ইসলামের মা।
  • সরস্বতী প্রসাদ : প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের মা।
  • সায়মা মনির মিনু : জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সোমনূর মনির কোনালের মা।
  • সৈয়দা শারমিন : জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণের মা।
  • ফাতেমা আক্তার কাজল : আলোচিত অভিনেতা ও নির্মাতা জিয়াউল হক পলাশের মা।
  • শিরিন আক্তার : ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক খাইরুল ইসলামের মা।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয় যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন অভিনেতা ও নির্মাতা জিয়াউল হক পলাশ। মায়ের অসুস্থতা, নিজের ব্যর্থতা এবং সংগ্রামের গল্প বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় তাঁর কণ্ঠ রোধ হয়ে আসছিল।


তিনি জানান, অতীতে এসএসসিতে তাঁর অকৃতকার্য হওয়ার দুঃসংবাদ শুনে মা ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘদিন প্যারালাইজড ছিলেন। জীবনের সেই অন্ধকার ও কঠিন সময়ে দুনিয়া পাশে না থাকলেও মায়ের নীরব সাহস ও দোয়াই তাঁকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

আরেকটি হৃদয়স্পর্শী গল্প ছিল ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক খাইরুল ইসলামের মায়ের। বাবার অকাল মৃত্যুর পর চরম অর্থসংকট আর সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও মা শিরিন আক্তার নিজের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে ছেলের পড়াশোনা চালু রেখেছিলেন। খাইরুলের সেই স্মৃতিচারণ যেন মিলনায়তনে উপস্থিত শত শত মায়ের চোখের কোণে পানি এনে দেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের এই ডিজিটাল যুগে নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করা মায়েদের জন্য আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। তবে প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে আমাদের এর ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী। স্বাগত বক্তব্য দেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী এবং পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনপ্রিয় সংবাদ পাঠিকা বিপাশা মজুমদার।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো