বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যখনই আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া নিশ্চিত হয়েছে, ঠিক তখন থেকেই বিশ্বজুড়ে ছড়াচ্ছে চরম উত্তেজনা। মাঠের লড়াইয়ে আলবিসেলেস্তেদের মাস্টারমাইন্ড কোচ লিওনেল স্কালোনি যতই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে এটিকে নিছক একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবে দেখার চেষ্টা করুন না কেন, এই দুই প্রতিপক্ষের অতীত ইতিহাস ফুটবলপ্রেমীদের অজানা নয়। আর সে কারণেই ম্যাচটি ঘিরে মাঠ ও মাঠের বাইরে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।
বাংলাদেশ সময় পরশু (১৫ জুলাই) রাত ১টায় আমেরিকার আটলান্টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। যে স্টেডিয়ামে খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে, সেটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৭৫ হাজার। গ্যালারিতে দুই দেশের উন্মত্ত সমর্থকদের আলাদা বসানোর সুযোগ খুবই কম।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শহরজুড়ে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ, ফ্যান জোন, বিনোদন এলাকা এবং অন্যান্য জনসমাগমপূর্ণ স্থানে কৌশলগতভাবে অবস্থান নেবেন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা।
চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের আচরণ এখন পর্যন্ত বেশ প্রশংসিত হলেও, পরশু রাতে মায়ামিতে ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচ শেষে চারজন ইংলিশ সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন বৈধ টিকিট ছাড়াই স্টেডিয়ামে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। তবে টিকিট সংক্রান্ত ঝামেলার চেয়েও আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ফকল্যান্ড যুদ্ধ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কের কারণেই মূলত স্থানীয় পুলিশ এই ম্যাচের নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত।
আটলান্টা পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে :
বিশ্বকাপের এই হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচ আয়োজন এবং শহরে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর আগমনকে বিবেচনা করে পুরো আটলান্টায় জননিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা এবং বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা যেন নিরাপদে এই ঐতিহাসিক ফুটবল ম্যাচটি উপভোগ করতে পারেন তা নিশ্চিত করা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই পরাশক্তি। যার মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে তিন ম্যাচে, আর বাকি দুটিতে জিতেছে আর্জেন্টিনা। তবে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচটি হয়েছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত হ্যান্ড অব গড এবং অবিশ্বাস্য গোল অব দ্য সেঞ্চুরি—দুটি ঐতিহাসিক ঘটনাই ঘটেছিল মেক্সিকোর আসতেকা স্টেডিয়ামের সেই ম্যাচে। ২-১ গোলের সেই জয়ে ম্যারাডোনা যেন ফকল্যান্ড যুদ্ধের এক বহুল প্রতীক্ষিত প্রতিশোধ নিয়েছিলেন ফুটবল দিয়ে। সেবার ফাইনালে জার্মানিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল (ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ইংল্যান্ড) খেলছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। আগামীকাল ডালাসে প্রথম সেমিতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। আর পরশু আটলান্টায় লড়বে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে মহাকাব্যিক ফাইনাল।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যখনই আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া নিশ্চিত হয়েছে, ঠিক তখন থেকেই বিশ্বজুড়ে ছড়াচ্ছে চরম উত্তেজনা। মাঠের লড়াইয়ে আলবিসেলেস্তেদের মাস্টারমাইন্ড কোচ লিওনেল স্কালোনি যতই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে এটিকে নিছক একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবে দেখার চেষ্টা করুন না কেন, এই দুই প্রতিপক্ষের অতীত ইতিহাস ফুটবলপ্রেমীদের অজানা নয়। আর সে কারণেই ম্যাচটি ঘিরে মাঠ ও মাঠের বাইরে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।
বাংলাদেশ সময় পরশু (১৫ জুলাই) রাত ১টায় আমেরিকার আটলান্টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। যে স্টেডিয়ামে খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে, সেটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৭৫ হাজার। গ্যালারিতে দুই দেশের উন্মত্ত সমর্থকদের আলাদা বসানোর সুযোগ খুবই কম।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শহরজুড়ে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ, ফ্যান জোন, বিনোদন এলাকা এবং অন্যান্য জনসমাগমপূর্ণ স্থানে কৌশলগতভাবে অবস্থান নেবেন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা।
চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের আচরণ এখন পর্যন্ত বেশ প্রশংসিত হলেও, পরশু রাতে মায়ামিতে ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচ শেষে চারজন ইংলিশ সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন বৈধ টিকিট ছাড়াই স্টেডিয়ামে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। তবে টিকিট সংক্রান্ত ঝামেলার চেয়েও আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ফকল্যান্ড যুদ্ধ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কের কারণেই মূলত স্থানীয় পুলিশ এই ম্যাচের নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত।
আটলান্টা পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে :
বিশ্বকাপের এই হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচ আয়োজন এবং শহরে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর আগমনকে বিবেচনা করে পুরো আটলান্টায় জননিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা এবং বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা যেন নিরাপদে এই ঐতিহাসিক ফুটবল ম্যাচটি উপভোগ করতে পারেন তা নিশ্চিত করা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই পরাশক্তি। যার মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে তিন ম্যাচে, আর বাকি দুটিতে জিতেছে আর্জেন্টিনা। তবে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচটি হয়েছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত হ্যান্ড অব গড এবং অবিশ্বাস্য গোল অব দ্য সেঞ্চুরি—দুটি ঐতিহাসিক ঘটনাই ঘটেছিল মেক্সিকোর আসতেকা স্টেডিয়ামের সেই ম্যাচে। ২-১ গোলের সেই জয়ে ম্যারাডোনা যেন ফকল্যান্ড যুদ্ধের এক বহুল প্রতীক্ষিত প্রতিশোধ নিয়েছিলেন ফুটবল দিয়ে। সেবার ফাইনালে জার্মানিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল (ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ইংল্যান্ড) খেলছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। আগামীকাল ডালাসে প্রথম সেমিতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। আর পরশু আটলান্টায় লড়বে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে মহাকাব্যিক ফাইনাল।

আপনার মতামত লিখুন