মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

২৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান; বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অজিদের হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল শান্তর দল

ডারউইনে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়

ডারউইনে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ছবি: সংগৃহীত

লাল-সবুজের ক্রিকেট ইতিহাসে এর চেয়ে রোমাঞ্চকর, এর চেয়ে শিহরণ জাগানিয়া মুহূর্ত সম্ভবত আর আসেনি! ডারউইনের বাইশ গজে আজ কেবল একটি টেস্ট ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়নি; বরং লেখা হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট-রূপকথার সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

টেস্ট ক্রিকেটে টানা চার দিনজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের নিজেদের মাটিতেই বধ করল বাংলাদেশ। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে থাকা অজিদের বিপক্ষে ৯ নম্বরে থাকা দলের এমন অবিশ্বাস্য ও একচ্ছত্র দাপুটে জয় বিশ্বক্রিকেটকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য নিজেদের ডেরায় এই পরাজয় হজম করা কঠিন হলেও বাংলাদেশের জন্য এটি বহুকাল স্মৃতিতে ধরে রাখার মতো এক পরম অর্জন। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের মতো প্রত্যেকে ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেটের মালিকদের নিয়ে গঠিত বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে অজিদের মাঠেই এই জয় সত্যিই অসাধারণ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্ট জয়ের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার প্রহর অবশেষে সার্থক হলো। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল, যার ফলে এই সিরিজটিতে বাংলাদেশের আর কোনোভাবেই হারের সুযোগ নেই।

২৩ বছর আগে ২০০৩ সালে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে এসে মূল সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছিল। তবে ১৩ আগস্ট ম্যাচের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের পেসাররা যেভাবে কামিন্সদের ওপর বোলিং তোপ দাগালেন, তাতেই জয়ের শক্ত ভিত তৈরি হয়ে যায়।

প্রথম ইনিংসে স্পিডস্টার হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের তাণ্ডবে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল হাফ-সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে প্রথম ইনিংসে এটিই টাইগারদের সর্বকালের সেরা ও সর্বোচ্চ লিডের রেকর্ড।

২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে চরম চাপের মুখে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই হাসান মাহমুদের জোড়া আঘাতে স্বাগতিকরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তবে ক্যামেরন গ্রিনের লড়াকু সেঞ্চুরিতে ভর করে কোনোমতে ইনিংস পরাজয় এড়ায় অজিরা। শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি জাদুতে লিড বেশি দূর এগোতে পারেনি।


জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। রান তাড়ায় নেমে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ শূন্য রানে ফিরলেও সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক বাকি পথটুকু নির্বিঘ্নে পাড়ি দিয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। কোনো উইকেট না হারিয়ে অনায়াসেই লক্ষ্য স্পর্শ করে ঐতিহাসিক জয়ের ট্রফিতে হাত ছোঁয়ায় বাংলাদেশ। ডারউইন এখন পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে, আর টেস্ট ক্রিকেটে উন্মোচিত হলো এক নতুন দিগন্ত।

বিষয় : বাংলাদেশ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ডারউইনে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

লাল-সবুজের ক্রিকেট ইতিহাসে এর চেয়ে রোমাঞ্চকর, এর চেয়ে শিহরণ জাগানিয়া মুহূর্ত সম্ভবত আর আসেনি! ডারউইনের বাইশ গজে আজ কেবল একটি টেস্ট ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়নি; বরং লেখা হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট-রূপকথার সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

টেস্ট ক্রিকেটে টানা চার দিনজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের নিজেদের মাটিতেই বধ করল বাংলাদেশ। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে থাকা অজিদের বিপক্ষে ৯ নম্বরে থাকা দলের এমন অবিশ্বাস্য ও একচ্ছত্র দাপুটে জয় বিশ্বক্রিকেটকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য নিজেদের ডেরায় এই পরাজয় হজম করা কঠিন হলেও বাংলাদেশের জন্য এটি বহুকাল স্মৃতিতে ধরে রাখার মতো এক পরম অর্জন। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের মতো প্রত্যেকে ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেটের মালিকদের নিয়ে গঠিত বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে অজিদের মাঠেই এই জয় সত্যিই অসাধারণ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্ট জয়ের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার প্রহর অবশেষে সার্থক হলো। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল, যার ফলে এই সিরিজটিতে বাংলাদেশের আর কোনোভাবেই হারের সুযোগ নেই।

২৩ বছর আগে ২০০৩ সালে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে এসে মূল সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছিল। তবে ১৩ আগস্ট ম্যাচের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের পেসাররা যেভাবে কামিন্সদের ওপর বোলিং তোপ দাগালেন, তাতেই জয়ের শক্ত ভিত তৈরি হয়ে যায়।

প্রথম ইনিংসে স্পিডস্টার হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের তাণ্ডবে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল হাফ-সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে প্রথম ইনিংসে এটিই টাইগারদের সর্বকালের সেরা ও সর্বোচ্চ লিডের রেকর্ড।

২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে চরম চাপের মুখে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই হাসান মাহমুদের জোড়া আঘাতে স্বাগতিকরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তবে ক্যামেরন গ্রিনের লড়াকু সেঞ্চুরিতে ভর করে কোনোমতে ইনিংস পরাজয় এড়ায় অজিরা। শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি জাদুতে লিড বেশি দূর এগোতে পারেনি।


জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। রান তাড়ায় নেমে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ শূন্য রানে ফিরলেও সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক বাকি পথটুকু নির্বিঘ্নে পাড়ি দিয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। কোনো উইকেট না হারিয়ে অনায়াসেই লক্ষ্য স্পর্শ করে ঐতিহাসিক জয়ের ট্রফিতে হাত ছোঁয়ায় বাংলাদেশ। ডারউইন এখন পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে, আর টেস্ট ক্রিকেটে উন্মোচিত হলো এক নতুন দিগন্ত।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো