অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ছোট্ট শহর ম্যাকাই। একসময় যার পরিচয় গড়ে উঠেছিল কেবল চিনিশিল্প আর কয়লাখনিকে কেন্দ্র করে। তবে ২০১০-এর দশকে কয়লার বিশ্ববাজার মন্দার কবলে পড়লে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে শহরটি। বন্ধ হয়ে যেতে থাকে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, মানুষও শহর ছাড়তে শুরু করে। ঠিক তখনই কয়েকজন ক্রীড়াপ্রেমী ও দূরদর্শী স্থানীয় নেতৃত্ব খুঁজে পান নতুন আশার আলো—খেলাধুলা ও পর্যটনকে মূল হাতিয়ার বানিয়ে বদলে ফেলা যায় শহরের ভাগ্য।
সেই বহু বছরের প্রচেষ্টার বড় ও ঐতিহাসিক পরীক্ষা হয়ে গেল সম্প্রতি। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সিরিজের শেষ ম্যাচটি দুই দিনে শেষ হলেও, তা ম্যাকাইয়ের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে এবং অর্থনীতিতে এনে দিয়েছে অভূতপূর্ব চাঞ্চল্য।
দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ম্যাকাইয়ে বসবাস করা রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী অ্যাড্রিয়ান কনরসের মতে, এমন উৎসবমুখর পরিবেশ আগে কখনও দেখেনি এই শহর। টেস্ট ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকদের ঢল নামে। খেলা দেখতে আসা মানুষের ভিড়ে তাঁর রেস্তোরাঁর বিক্রি রাতারাতি তিন গুণ বেড়ে যায়। রঙিন পোশাক আর অস্ট্রেলীয় জার্সি পরা মানুষের কোলাহলে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে নিস্তব্ধ শহরটি।
২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর মেয়র গ্রেগ উইলিয়ামসন খেলাধুলা ও আঞ্চলিক পর্যটনকে টেনে তুলতে বার্ষিক ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার বিনিয়োগের কৌশল নেন। ৭৮ বছরের পুরোনো 'হ্যারাপ পার্ক' স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুতে রূপ দিতে ইতিমধ্যে সরকারি ও রাজ্য তহবিল থেকে প্রায় ৪ কোটি ৩৫ লাখ ডলার অর্থায়ন করা হয়েছে। তৈরি হয়েছে অত্যাধুনিক গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড ও ব্রডকাস্ট সুবিধা। এখন আরও অর্থায়নের মাধ্যমে অনসাইট হোটেল ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে।
কুইন্সল্যান্ড ক্রিকেট ও স্থানীয় সংগঠকরা মনে করছেন, জিম্বাবুয়ে বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলগুলোর বিপক্ষে আন্তর্জাতিক সিরিজের জন্য ম্যাকাই হতে পারে একটি আদর্শ আঞ্চলিক ভেন্যু। তবে ক্রিকেট মানচিত্রে টিকে থাকতে হলে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। আগামী ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত থাকলে সেখানে অন্যতম আয়োজক শহর হিসেবে বিশ্ব দরবারে আত্মপ্রকাশ করাই এখন ম্যাকাইয়ের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ছোট্ট শহর ম্যাকাই। একসময় যার পরিচয় গড়ে উঠেছিল কেবল চিনিশিল্প আর কয়লাখনিকে কেন্দ্র করে। তবে ২০১০-এর দশকে কয়লার বিশ্ববাজার মন্দার কবলে পড়লে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে শহরটি। বন্ধ হয়ে যেতে থাকে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, মানুষও শহর ছাড়তে শুরু করে। ঠিক তখনই কয়েকজন ক্রীড়াপ্রেমী ও দূরদর্শী স্থানীয় নেতৃত্ব খুঁজে পান নতুন আশার আলো—খেলাধুলা ও পর্যটনকে মূল হাতিয়ার বানিয়ে বদলে ফেলা যায় শহরের ভাগ্য।
সেই বহু বছরের প্রচেষ্টার বড় ও ঐতিহাসিক পরীক্ষা হয়ে গেল সম্প্রতি। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সিরিজের শেষ ম্যাচটি দুই দিনে শেষ হলেও, তা ম্যাকাইয়ের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে এবং অর্থনীতিতে এনে দিয়েছে অভূতপূর্ব চাঞ্চল্য।
দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ম্যাকাইয়ে বসবাস করা রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী অ্যাড্রিয়ান কনরসের মতে, এমন উৎসবমুখর পরিবেশ আগে কখনও দেখেনি এই শহর। টেস্ট ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকদের ঢল নামে। খেলা দেখতে আসা মানুষের ভিড়ে তাঁর রেস্তোরাঁর বিক্রি রাতারাতি তিন গুণ বেড়ে যায়। রঙিন পোশাক আর অস্ট্রেলীয় জার্সি পরা মানুষের কোলাহলে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে নিস্তব্ধ শহরটি।
২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর মেয়র গ্রেগ উইলিয়ামসন খেলাধুলা ও আঞ্চলিক পর্যটনকে টেনে তুলতে বার্ষিক ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার বিনিয়োগের কৌশল নেন। ৭৮ বছরের পুরোনো 'হ্যারাপ পার্ক' স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুতে রূপ দিতে ইতিমধ্যে সরকারি ও রাজ্য তহবিল থেকে প্রায় ৪ কোটি ৩৫ লাখ ডলার অর্থায়ন করা হয়েছে। তৈরি হয়েছে অত্যাধুনিক গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড ও ব্রডকাস্ট সুবিধা। এখন আরও অর্থায়নের মাধ্যমে অনসাইট হোটেল ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে।
কুইন্সল্যান্ড ক্রিকেট ও স্থানীয় সংগঠকরা মনে করছেন, জিম্বাবুয়ে বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলগুলোর বিপক্ষে আন্তর্জাতিক সিরিজের জন্য ম্যাকাই হতে পারে একটি আদর্শ আঞ্চলিক ভেন্যু। তবে ক্রিকেট মানচিত্রে টিকে থাকতে হলে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। আগামী ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত থাকলে সেখানে অন্যতম আয়োজক শহর হিসেবে বিশ্ব দরবারে আত্মপ্রকাশ করাই এখন ম্যাকাইয়ের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

আপনার মতামত লিখুন