বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ (প্রায় ১৭৯ কোটি) মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র ফুটে উঠেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই গতি গত বছরের তুলনায় বেশ আশাব্যঞ্জক। গত বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। হিসাব অনুযায়ী, এই ১৫ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ৯২ লাখ ডলার।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের এই ধারা ছিল বেশ শক্তিশালী। জুলাই থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৭৯৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ।
এর আগে গত মার্চ মাসে দেশে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো এক মাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার এবং ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
রেমিট্যান্স প্রবাহের সাম্প্রতিক চিত্র:
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসীদের আস্থার প্রতিফলন ঘটছে এই রেমিট্যান্স প্রবাহে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন (৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ) ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসীদের সচেতনতা বাড়ায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বছরের বাকি সময়টাতেও রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ অব্যাহত থাকবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করবে।
দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলায় প্রবাসীদের এই অবদানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
বিষয় : রেমিট্যান্স প্রবাসী আয় বাংলাদেশ ব্যাংক

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ (প্রায় ১৭৯ কোটি) মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র ফুটে উঠেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই গতি গত বছরের তুলনায় বেশ আশাব্যঞ্জক। গত বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। হিসাব অনুযায়ী, এই ১৫ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ৯২ লাখ ডলার।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের এই ধারা ছিল বেশ শক্তিশালী। জুলাই থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৭৯৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ।
এর আগে গত মার্চ মাসে দেশে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো এক মাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার এবং ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
রেমিট্যান্স প্রবাহের সাম্প্রতিক চিত্র:
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসীদের আস্থার প্রতিফলন ঘটছে এই রেমিট্যান্স প্রবাহে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন (৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ) ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসীদের সচেতনতা বাড়ায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বছরের বাকি সময়টাতেও রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ অব্যাহত থাকবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করবে।
দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলায় প্রবাসীদের এই অবদানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আপনার মতামত লিখুন