দেশজুড়ে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ, আর তার সঙ্গেই মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট। এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, যা লাখো শিক্ষার্থীর জীবনের প্রথম বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই চরম বাস্তবতায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও মানসিক স্থিতি কতটা বজায় থাকবে? এবং এই সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা আসলে কতটা কার্যকর?
বৈশাখের শুরু থেকেই প্রকৃতি যেভাবে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে, তা শুধু অস্বস্তিকরই নয়, বরং স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কিশোর বয়সী পরীক্ষার্থীদের জন্য এই গরমে দীর্ঘসময় একাগ্রচিত্তে পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে যখন শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি মনোযোগ ও অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, তখন বিদ্যুতের এই লুকোচুরি তাদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটাচ্ছে।
পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি অনেকাংশেই নির্ভর করে শান্ত ও নিরিবিলি রাতের পড়াশোনার ওপর। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। গরমে অস্বস্তি, আলো না থাকা আর ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তাদের মনোযোগের ধারাবাহিকতা ভেঙে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় তাদের শারীরিক সক্ষমতা কমছে এবং মানসিক চাপ বাড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পরীক্ষার খাতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষার্থী অগ্রাধিকার নীতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। অন্তত সন্ধ্যা ও রাতের নির্দিষ্ট সময়গুলোতে লোডশেডিং কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সময়সূচি আগে থেকে জানানো হলে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়ার রুটিন সেভাবে সাজাতে পারত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে লোডশেডিংয়ের বৈষম্য। রাজধানীতে যেখানে লোডশেডিং তুলনামূলক কম, সেখানে পল্লি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একটি জাতীয় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দেশের সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান পরিবেশ ও সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে এখনই পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা (যেমন: জেনারেটর বা সোলার) নিয়ে ভাবা উচিত। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন থাকতে হবে যাতে এই গরমে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে না পড়ে।
পরিশেষে বলতে চাই, পরীক্ষার্থীরা কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, তারা দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক। একটি রাতের অস্বস্তি বা একটি দিনের বিদ্যুৎহীনতা তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমকে ম্লান করে দিতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সবার আগে স্থান দেওয়া উচিত। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আর সঠিক পরিকল্পনাই পারে এই সংকটে আমাদের সন্তানদের পাশে দাঁড়াতে।
বিষয় : বিদ্যুৎ সংকট এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
দেশজুড়ে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ, আর তার সঙ্গেই মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট। এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, যা লাখো শিক্ষার্থীর জীবনের প্রথম বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই চরম বাস্তবতায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও মানসিক স্থিতি কতটা বজায় থাকবে? এবং এই সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা আসলে কতটা কার্যকর?
বৈশাখের শুরু থেকেই প্রকৃতি যেভাবে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে, তা শুধু অস্বস্তিকরই নয়, বরং স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কিশোর বয়সী পরীক্ষার্থীদের জন্য এই গরমে দীর্ঘসময় একাগ্রচিত্তে পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে যখন শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি মনোযোগ ও অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, তখন বিদ্যুতের এই লুকোচুরি তাদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটাচ্ছে।
পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি অনেকাংশেই নির্ভর করে শান্ত ও নিরিবিলি রাতের পড়াশোনার ওপর। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। গরমে অস্বস্তি, আলো না থাকা আর ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তাদের মনোযোগের ধারাবাহিকতা ভেঙে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় তাদের শারীরিক সক্ষমতা কমছে এবং মানসিক চাপ বাড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পরীক্ষার খাতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষার্থী অগ্রাধিকার নীতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। অন্তত সন্ধ্যা ও রাতের নির্দিষ্ট সময়গুলোতে লোডশেডিং কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সময়সূচি আগে থেকে জানানো হলে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়ার রুটিন সেভাবে সাজাতে পারত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে লোডশেডিংয়ের বৈষম্য। রাজধানীতে যেখানে লোডশেডিং তুলনামূলক কম, সেখানে পল্লি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একটি জাতীয় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দেশের সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান পরিবেশ ও সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে এখনই পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা (যেমন: জেনারেটর বা সোলার) নিয়ে ভাবা উচিত। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন থাকতে হবে যাতে এই গরমে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে না পড়ে।
পরিশেষে বলতে চাই, পরীক্ষার্থীরা কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, তারা দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক। একটি রাতের অস্বস্তি বা একটি দিনের বিদ্যুৎহীনতা তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমকে ম্লান করে দিতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সবার আগে স্থান দেওয়া উচিত। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আর সঠিক পরিকল্পনাই পারে এই সংকটে আমাদের সন্তানদের পাশে দাঁড়াতে।

আপনার মতামত লিখুন