মারগাওয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে ম্যাচ তখন গড়িয়েছে যোগ করা সময়ে। মাঠের ও গ্যালারির সবার ধারণা ছিল খেলা হয়তো অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, কারণ স্কোরবোর্ডে তখন ১-১ সমতা। ঠিক সেই মহানাটকীয় মুহূর্তেই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন বদলি ফরোয়ার্ড মোসাম্মৎ সাগরিকা। যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তের সেই চোখধাঁধানো গোলটি বাংলাদেশকে পৌঁছে দিল কাঙ্ক্ষিত শিরোপার মঞ্চে। সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নেপালকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো নারী সাফের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ।
তবে ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহজ বা সুখকর ছিল না। প্রথম মিনিট থেকেই প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে কোণঠাসা করে রাখে নেপাল। ম্যাচের ৩ মিনিটে রাশমি কুমারী এবং ৯ মিনিটে রেখা পৌডেলের দুটি নিশ্চিত শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার। তবে ২৩ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। দীপা শাহীর নিখুঁত কর্নার থেকে বক্সে বল পেয়ে নেপালের ডিফেন্ডার গীতা রানা আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। পিছিয়ে পড়ার পর ৩৬ মিনিটে আরও একবার বড় বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ, তবে প্রীতি রাইয়ের দূরপাল্লার শট মিলি আক্তার আঙুলের ছোঁয়ায় ক্রসবারে লাগিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।
ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে ৪০ মিনিটেই সাহসী দুটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ কোচ পিটার বাটলার। উমেহলা মারমা ও সৌরভী আকন্দ প্রীতির জায়গায় তিনি মাঠে নামান শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে। কোচের এই কৌশলী পরিবর্তনের পরই আক্রমণের গতি এক লাফে বেড়ে যায় বাংলাদেশের। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে কর্নার থেকে সরাসরি অবিশ্বাস্য এক গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ঋতুপর্ণা চাকমা, ফুটবল পরিভাষায় যা অলিম্পিক গোল নামে পরিচিত। বিরতির ঠিক আগে তাঁর আরেকটি জোরালো শট কর্নারের বিনিময়ে কোনোমতে ঠেকান নেপালের গোলরক্ষক আঞ্জিলা সুব্বা।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই লিড নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। বিরতির পর মাঝমাঠ শক্ত করতে মনিকা চাকমাকে মাঠে নামায় বাংলাদেশ। তবে ৪৭ মিনিটে বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের মারাত্মক ভুলে বল পেয়ে যান নেপালের রেখা পৌডেল, কিন্তু তাঁর শট ভাগ্যিস গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে ৬৪ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের চমৎকার ক্রস থেকে মনিকা চাকমার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে আনিকার পরিবর্তে মাঠে নামেন তরুণ স্ট্রাইকার সাগরিকা। বদলি হিসেবে নেমেই নেপালের রক্ষণভাগে কাঁপুনি ধরিয়ে দেন তিনি। ৭৮ মিনিটে তাঁর একটি জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন নেপালি কিপার আঞ্জিলা সুব্বা। ম্যাচ যখন নিশ্চিতভাবেই অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে সেই ঐতিহাসিক নির্ধারক মুহূর্ত।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৯৩ মিনিট) ডান প্রান্ত দিয়ে শামসুন্নাহারের পা থেকে আসা পাসটি ধরে নেপালের রক্ষণভাগের ফাঁক গলে বল জালে জড়িয়ে দেন সাগরিকা। আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ শিবির। সাগরিকার এই নাটকীয় গোলেই নেপালকে বিদায় করে টানা তৃতীয় শিরোপার আশা বাঁচিয়ে রেখে ফাইনালের মঞ্চে পা রাখল বাংলাদেশ।
ম্যাচ সংক্ষিপ্ত :
টুর্নামেন্ট: সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ (সেমিফাইনাল)
ফলাফল: বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী (টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উত্তীর্ণ)।
গোলদাতা :
বিষয় : খেলা বাংলাদেশ ফুটবল ফুটবল নারী ফুটবল

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
মারগাওয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে ম্যাচ তখন গড়িয়েছে যোগ করা সময়ে। মাঠের ও গ্যালারির সবার ধারণা ছিল খেলা হয়তো অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, কারণ স্কোরবোর্ডে তখন ১-১ সমতা। ঠিক সেই মহানাটকীয় মুহূর্তেই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন বদলি ফরোয়ার্ড মোসাম্মৎ সাগরিকা। যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তের সেই চোখধাঁধানো গোলটি বাংলাদেশকে পৌঁছে দিল কাঙ্ক্ষিত শিরোপার মঞ্চে। সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নেপালকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো নারী সাফের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ।
তবে ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহজ বা সুখকর ছিল না। প্রথম মিনিট থেকেই প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে কোণঠাসা করে রাখে নেপাল। ম্যাচের ৩ মিনিটে রাশমি কুমারী এবং ৯ মিনিটে রেখা পৌডেলের দুটি নিশ্চিত শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার। তবে ২৩ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। দীপা শাহীর নিখুঁত কর্নার থেকে বক্সে বল পেয়ে নেপালের ডিফেন্ডার গীতা রানা আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। পিছিয়ে পড়ার পর ৩৬ মিনিটে আরও একবার বড় বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ, তবে প্রীতি রাইয়ের দূরপাল্লার শট মিলি আক্তার আঙুলের ছোঁয়ায় ক্রসবারে লাগিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।
ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে ৪০ মিনিটেই সাহসী দুটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ কোচ পিটার বাটলার। উমেহলা মারমা ও সৌরভী আকন্দ প্রীতির জায়গায় তিনি মাঠে নামান শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে। কোচের এই কৌশলী পরিবর্তনের পরই আক্রমণের গতি এক লাফে বেড়ে যায় বাংলাদেশের। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে কর্নার থেকে সরাসরি অবিশ্বাস্য এক গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ঋতুপর্ণা চাকমা, ফুটবল পরিভাষায় যা অলিম্পিক গোল নামে পরিচিত। বিরতির ঠিক আগে তাঁর আরেকটি জোরালো শট কর্নারের বিনিময়ে কোনোমতে ঠেকান নেপালের গোলরক্ষক আঞ্জিলা সুব্বা।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই লিড নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। বিরতির পর মাঝমাঠ শক্ত করতে মনিকা চাকমাকে মাঠে নামায় বাংলাদেশ। তবে ৪৭ মিনিটে বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের মারাত্মক ভুলে বল পেয়ে যান নেপালের রেখা পৌডেল, কিন্তু তাঁর শট ভাগ্যিস গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে ৬৪ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের চমৎকার ক্রস থেকে মনিকা চাকমার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে আনিকার পরিবর্তে মাঠে নামেন তরুণ স্ট্রাইকার সাগরিকা। বদলি হিসেবে নেমেই নেপালের রক্ষণভাগে কাঁপুনি ধরিয়ে দেন তিনি। ৭৮ মিনিটে তাঁর একটি জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন নেপালি কিপার আঞ্জিলা সুব্বা। ম্যাচ যখন নিশ্চিতভাবেই অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে সেই ঐতিহাসিক নির্ধারক মুহূর্ত।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৯৩ মিনিট) ডান প্রান্ত দিয়ে শামসুন্নাহারের পা থেকে আসা পাসটি ধরে নেপালের রক্ষণভাগের ফাঁক গলে বল জালে জড়িয়ে দেন সাগরিকা। আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ শিবির। সাগরিকার এই নাটকীয় গোলেই নেপালকে বিদায় করে টানা তৃতীয় শিরোপার আশা বাঁচিয়ে রেখে ফাইনালের মঞ্চে পা রাখল বাংলাদেশ।
ম্যাচ সংক্ষিপ্ত :
টুর্নামেন্ট: সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ (সেমিফাইনাল)
ফলাফল: বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী (টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উত্তীর্ণ)।
গোলদাতা :

আপনার মতামত লিখুন