অস্ট্রেলিয়ার মতো ছয়বারের বিশ্বকাপজয়ী দলকে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ বা বাংলাওয়াশ করার এক সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া করল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। মিরপুরের মাঠে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ৩ বল হাতে রেখে ১ উইকেটের নাটকীয় জয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে সক্ষম হয় অস্ট্রেলিয়া।
প্রথম ও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দুর্দান্ত জয় পাওয়ায় আগেই সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দীর্ঘ ২১ বছর পর দ্বিতীয় জয় পাওয়ার পাশাপাশি সিরিজ জয়ের এক অনন্য নজির গড়েছে টাইগাররা। তবে শেষ ম্যাচে এসে জয়ের একদম কাছাকাছি গিয়েও হার মানতে হয় স্বাগতিকদের।
২৭৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা উড়ন্ত করলেও ইনিংসের শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু উইকেটের এক প্রান্তে ব্যাটসম্যানরা আসা-যাওয়ার মিছিলে অংশ নিলেও অপর প্রান্ত একাই আগলে রাখেন ওপেনার কুপার কনোলি। দলকে জয়ের দুয়ারে নিয়ে গিয়ে শেষ মুহূর্তে আউট হওয়ার আগে তিনি ১৩৪ বলে ১৩টি চার আর ৬টি ছক্কার সাহায্যে ১৪৯ রানের এক ম্যাচ জেতানো দানবীয় ইনিংস খেলেন। দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন মার্নাস লাবুশেন। মূলত কনোলির এই অতিমানবীয় ও দায়িত্বশীল ইনিংসের সুবাদেই শেষ পর্যন্ত ১ উইকেটের জয় পায় অসিরা।
আজ রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই আগের ম্যাচের তারকা সৌম্য সরকার মাত্র ২ রানে সাজঘরে ফেরেন। এরপর তানজিদ হাসান তামিম (১৯) ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (২৪) দ্রুত বিদায় নিলে ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দল।
সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরেন লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়। তাঁরা ১০৯ বলে ৯৫ রানের এক দুর্দান্ত জুটি গড়েন। দলীয় ১৫৩ রানে লিটন দাস ৭৮ বলে ৫৮ রান (৪টি চার ও ২টি ছক্কা) করে রিটায়ার্ডহার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। এরপর তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত জুটি বেঁধে ৮১ বলে ৯০ রানের আরেকটি লড়াকু পার্টনারশিপ গড়েন। হৃদয় ৮৮ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৮৩ রানের একটি ঝলমলে ইনিংস খেলে দলীয় ২৪৬ রানে আউট হন। শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৫১ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫১ রান করে অপরাজিত থাকলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
টার্গেট তাড়া করতে নামা অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটিতে ৪০ রান ওঠার পর মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। পেসার শরীফুলের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ২১ রানে ফেরেন জশ ইংলিস। ওয়ান ডাউনে নামা ম্যাট রেনশকে দ্বিতীয় বলেই বোল্ড করেন শরিফুল। এরপর তারকা অলরাউন্ডার সৌম্য সরকারের অবিশ্বাস্য সুন্দর ও চোখ ধাঁধানো এক ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন অজি ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি (৮)।
চতুর্থ উইকেটে কুপার কনোলির সঙ্গে মার্নাস লাবুশেন ৭৭ বলে ৬৪ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ১৩৪ রানে লাবুশেন (২৩) আউট হওয়ার পর পঞ্চম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান সেঞ্চুরিয়ান কনোলি। শেষ ওভারে গিয়ে ম্যাচের উত্তেজনা চরম তুঙ্গে পৌঁছালেও ৩ বল বাকি থাকতে ১ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ক্যাঙ্গারু বাহিনী।
হোয়াইটওয়াশ এড়াতে না পারলেও, পুরো সিরিজে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের ঘরেই রেখেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
বিষয় : বাংলাদেশ ক্রিকেট

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার মতো ছয়বারের বিশ্বকাপজয়ী দলকে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ বা বাংলাওয়াশ করার এক সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া করল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। মিরপুরের মাঠে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ৩ বল হাতে রেখে ১ উইকেটের নাটকীয় জয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে সক্ষম হয় অস্ট্রেলিয়া।
প্রথম ও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দুর্দান্ত জয় পাওয়ায় আগেই সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দীর্ঘ ২১ বছর পর দ্বিতীয় জয় পাওয়ার পাশাপাশি সিরিজ জয়ের এক অনন্য নজির গড়েছে টাইগাররা। তবে শেষ ম্যাচে এসে জয়ের একদম কাছাকাছি গিয়েও হার মানতে হয় স্বাগতিকদের।
২৭৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা উড়ন্ত করলেও ইনিংসের শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু উইকেটের এক প্রান্তে ব্যাটসম্যানরা আসা-যাওয়ার মিছিলে অংশ নিলেও অপর প্রান্ত একাই আগলে রাখেন ওপেনার কুপার কনোলি। দলকে জয়ের দুয়ারে নিয়ে গিয়ে শেষ মুহূর্তে আউট হওয়ার আগে তিনি ১৩৪ বলে ১৩টি চার আর ৬টি ছক্কার সাহায্যে ১৪৯ রানের এক ম্যাচ জেতানো দানবীয় ইনিংস খেলেন। দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন মার্নাস লাবুশেন। মূলত কনোলির এই অতিমানবীয় ও দায়িত্বশীল ইনিংসের সুবাদেই শেষ পর্যন্ত ১ উইকেটের জয় পায় অসিরা।
আজ রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই আগের ম্যাচের তারকা সৌম্য সরকার মাত্র ২ রানে সাজঘরে ফেরেন। এরপর তানজিদ হাসান তামিম (১৯) ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (২৪) দ্রুত বিদায় নিলে ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দল।
সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরেন লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়। তাঁরা ১০৯ বলে ৯৫ রানের এক দুর্দান্ত জুটি গড়েন। দলীয় ১৫৩ রানে লিটন দাস ৭৮ বলে ৫৮ রান (৪টি চার ও ২টি ছক্কা) করে রিটায়ার্ডহার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। এরপর তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত জুটি বেঁধে ৮১ বলে ৯০ রানের আরেকটি লড়াকু পার্টনারশিপ গড়েন। হৃদয় ৮৮ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৮৩ রানের একটি ঝলমলে ইনিংস খেলে দলীয় ২৪৬ রানে আউট হন। শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৫১ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫১ রান করে অপরাজিত থাকলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
টার্গেট তাড়া করতে নামা অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটিতে ৪০ রান ওঠার পর মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। পেসার শরীফুলের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ২১ রানে ফেরেন জশ ইংলিস। ওয়ান ডাউনে নামা ম্যাট রেনশকে দ্বিতীয় বলেই বোল্ড করেন শরিফুল। এরপর তারকা অলরাউন্ডার সৌম্য সরকারের অবিশ্বাস্য সুন্দর ও চোখ ধাঁধানো এক ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন অজি ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি (৮)।
চতুর্থ উইকেটে কুপার কনোলির সঙ্গে মার্নাস লাবুশেন ৭৭ বলে ৬৪ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ১৩৪ রানে লাবুশেন (২৩) আউট হওয়ার পর পঞ্চম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান সেঞ্চুরিয়ান কনোলি। শেষ ওভারে গিয়ে ম্যাচের উত্তেজনা চরম তুঙ্গে পৌঁছালেও ৩ বল বাকি থাকতে ১ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ক্যাঙ্গারু বাহিনী।
হোয়াইটওয়াশ এড়াতে না পারলেও, পুরো সিরিজে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের ঘরেই রেখেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

আপনার মতামত লিখুন