মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

একাই বাংলাদেশকে হারিয়ে দিচ্ছেন কুপার কনোলি!

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হারল বাংলাদেশ

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হারল বাংলাদেশ
২৭ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলেছেন কুপার কনোলি। ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় কুপার কনোলি নামটা এখনো বিশ্বজুড়ে খুব বেশি পরিচিত হয়ে ওঠেনি। তবে নামের ওজন যা-ই হোক, অস্ট্রেলিয়ার এই তরুণ ব্যাটারের নামটা যে বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্ত ও টিম ম্যানেজমেন্ট লম্বা সময় ধরে মনে রাখবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মূলত এই এক তরুণ তুর্কির ব্যাটিং তাণ্ডবেই ব্যাক-টু-ব্যাক দুই ম্যাচে জয়ের মুখ থেকে ফিরতে হলো বাংলাদেশকে। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচের পর এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও কনোলির ব্যাটে চড়েই বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দিল সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল অজিদের ধবলধোলাই (হোয়াইটওয়াশ) করার। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ২৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি নিয়ে জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। শেষ দিকে পেসার শরীফুল ইসলামের আগুন ঝরানো বোলিংয়ে যখন অজিদের হার সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই দেয়াল হয়ে দাঁড়ান কুপার কনোলি। একপ্রান্ত আগলে রেখে ১৪৯ রানের এক অবিশ্বাস্য ও মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে এক ঐতিহাসিক জয় এনে দেন তিনি।

সেই ওয়ানডের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হলো কুড়ি ওভারের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের লড়াই। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য কনোলিকে ইনিংসের মাঝপথেই ফেরানো গিয়েছিল, কিন্তু তার আগেই তিনি যা করার করে দিয়ে গেছেন। চতুর ব্যাটিংয়ে অজিদের এমন এক সুবিধাজনক স্থানে রেখে যান, যেখান থেকে ম্যাচ জেতা সফরকারীদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র ছিল।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ১৩১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই অজি ওপেনার জশ ইংলিসের (৫) উইকেট তুলে নিয়ে গ্যালারিতে আশার আলো জ্বালান বাংলাদেশি বোলাররা। এরপর অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শকেও (১৩) দ্রুত সাজঘরে ফেরত পাঠালে ৩৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল সফরকারীরা।

তবে দুই সিনিয়র সতীর্থকে হারালেও উইকেটের অন্য প্রান্তে বিন্দুমাত্র দমে যাননি কুপার কনোলি। উল্টো বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন তিনি। তাঁর এই ঝোড়ো কাউন্টার-অ্যাটাকে উল্টো চরম চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত বাংলাদেশি বোলার আব্দুল গাফফার সাকলাইনের করা ইনিংসের দশম ওভারের তৃতীয় বলে যখন কনোলি ক্যাচ দিয়ে ফিরছিলেন, ততক্ষণে ম্যাচ থেকে স্বাগতিকদের ছিটকে দিয়েছেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে মাত্র ২৭ বলে ৪৭ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন কনোলি, যা সাজানো ছিল ৪টি চার ও ৩টি নান্দনিক ছক্কায় (স্ট্রাইক রেট ১৭৪.০৭)।

কুপার কনোলির তৈরি করে দেওয়া সেই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে বাকি কাজটুকু সারেন অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটাররা। টিম ডেভিডের ২০, ম্যাট রেনশর ১৮ এবং নিখিল চৌধুরীর ১৮ রানের ছোট অথচ কার্যকরী ইনিংসগুলো অস্ট্রেলিয়ার জয়কে একদম সহজ বানিয়ে দেয়। শেষ দিকে এই ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়েও ম্যাচের ভাগ্য বদলাতে পারেননি বাংলাদেশি বোলাররা। ১৯তম ওভারেই ৪ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।


এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে চট্টগ্রামের উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং লাইনের সামনে স্রেফ অসহায় আত্মসমর্পণ করেন টাইগারেরা। তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, পারভেজ হোসেন ইমন কিংবা তাওহীদ হৃদয়ের মতো ইনফর্ম ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতার দিনে স্বাগতিকদের পক্ষে কেবল লড়াই করতে পেরেছেন শেখ মেহেদী হাসান (২৯*) ও সাইফ হাসান (২০)। বাকিদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ১ ওভার বাকি থাকতেই ১৩১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে লেগ-স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েলে ডেভিস ৩টি করে উইকেট নেন। এছাড়া ম্যাট রেনশ শিকার করেন ২টি উইকেট।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ: ১৩১/১০ (১৯ ওভার)

অস্ট্রেলিয়া: ১৩২/৬ (১৮.৩ ওভার)

ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

বিষয় : খেলা বাংলাদেশ ক্রিকেট ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হারল বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় কুপার কনোলি নামটা এখনো বিশ্বজুড়ে খুব বেশি পরিচিত হয়ে ওঠেনি। তবে নামের ওজন যা-ই হোক, অস্ট্রেলিয়ার এই তরুণ ব্যাটারের নামটা যে বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্ত ও টিম ম্যানেজমেন্ট লম্বা সময় ধরে মনে রাখবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মূলত এই এক তরুণ তুর্কির ব্যাটিং তাণ্ডবেই ব্যাক-টু-ব্যাক দুই ম্যাচে জয়ের মুখ থেকে ফিরতে হলো বাংলাদেশকে। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচের পর এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও কনোলির ব্যাটে চড়েই বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দিল সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল অজিদের ধবলধোলাই (হোয়াইটওয়াশ) করার। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ২৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি নিয়ে জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। শেষ দিকে পেসার শরীফুল ইসলামের আগুন ঝরানো বোলিংয়ে যখন অজিদের হার সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই দেয়াল হয়ে দাঁড়ান কুপার কনোলি। একপ্রান্ত আগলে রেখে ১৪৯ রানের এক অবিশ্বাস্য ও মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে এক ঐতিহাসিক জয় এনে দেন তিনি।

সেই ওয়ানডের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হলো কুড়ি ওভারের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের লড়াই। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য কনোলিকে ইনিংসের মাঝপথেই ফেরানো গিয়েছিল, কিন্তু তার আগেই তিনি যা করার করে দিয়ে গেছেন। চতুর ব্যাটিংয়ে অজিদের এমন এক সুবিধাজনক স্থানে রেখে যান, যেখান থেকে ম্যাচ জেতা সফরকারীদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র ছিল।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ১৩১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই অজি ওপেনার জশ ইংলিসের (৫) উইকেট তুলে নিয়ে গ্যালারিতে আশার আলো জ্বালান বাংলাদেশি বোলাররা। এরপর অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শকেও (১৩) দ্রুত সাজঘরে ফেরত পাঠালে ৩৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল সফরকারীরা।

তবে দুই সিনিয়র সতীর্থকে হারালেও উইকেটের অন্য প্রান্তে বিন্দুমাত্র দমে যাননি কুপার কনোলি। উল্টো বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন তিনি। তাঁর এই ঝোড়ো কাউন্টার-অ্যাটাকে উল্টো চরম চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত বাংলাদেশি বোলার আব্দুল গাফফার সাকলাইনের করা ইনিংসের দশম ওভারের তৃতীয় বলে যখন কনোলি ক্যাচ দিয়ে ফিরছিলেন, ততক্ষণে ম্যাচ থেকে স্বাগতিকদের ছিটকে দিয়েছেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে মাত্র ২৭ বলে ৪৭ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন কনোলি, যা সাজানো ছিল ৪টি চার ও ৩টি নান্দনিক ছক্কায় (স্ট্রাইক রেট ১৭৪.০৭)।

কুপার কনোলির তৈরি করে দেওয়া সেই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে বাকি কাজটুকু সারেন অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটাররা। টিম ডেভিডের ২০, ম্যাট রেনশর ১৮ এবং নিখিল চৌধুরীর ১৮ রানের ছোট অথচ কার্যকরী ইনিংসগুলো অস্ট্রেলিয়ার জয়কে একদম সহজ বানিয়ে দেয়। শেষ দিকে এই ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়েও ম্যাচের ভাগ্য বদলাতে পারেননি বাংলাদেশি বোলাররা। ১৯তম ওভারেই ৪ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।


এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে চট্টগ্রামের উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং লাইনের সামনে স্রেফ অসহায় আত্মসমর্পণ করেন টাইগারেরা। তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, পারভেজ হোসেন ইমন কিংবা তাওহীদ হৃদয়ের মতো ইনফর্ম ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতার দিনে স্বাগতিকদের পক্ষে কেবল লড়াই করতে পেরেছেন শেখ মেহেদী হাসান (২৯*) ও সাইফ হাসান (২০)। বাকিদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ১ ওভার বাকি থাকতেই ১৩১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে লেগ-স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েলে ডেভিস ৩টি করে উইকেট নেন। এছাড়া ম্যাট রেনশ শিকার করেন ২টি উইকেট।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ: ১৩১/১০ (১৯ ওভার)

অস্ট্রেলিয়া: ১৩২/৬ (১৮.৩ ওভার)

ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো