মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

৩-২ গোলের মহানাটকীয় জয়ে শেষ আটে আলবিসেলেস্তেরা

মেসির রেকর্ড ও রোমেরোর গোল: কেপ ভার্দে বধ করে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা

মেসির রেকর্ড ও রোমেরোর গোল: কেপ ভার্দে বধ করে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা
ছবি : সংগৃহীত

অতিরিক্ত সময়ের চরম নাটকীয়তা আর রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে লড়াকু কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল বা শেষ আট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে আলবিসেলেস্তেরা প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে আফ্রিকান পরাশক্তি মিসরকে, যারা অন্য ম্যাচে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে কোয়ার্টারের টিকিট কেটেছে। আগামী মঙ্গলবার রাত ১০টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে শুরু হবে আর্জেন্টিনা-মিসরের সেই ব্লকবাস্টার ম্যাচ।

নকআউট পর্বের এই ম্যাচে শেষ আটে উঠতে আর্জেন্টিনাকে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে। মায়ামির মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। গ্রুপ পর্বে কোনো ম্যাচ না হেরে, ৩টি ড্রয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা কেপ ভার্দে শুরু থেকেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দেয়।

ম্যাচের ২৯ মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙেন আলবিসেলেস্তেদের মহাতারকা লিওনেল মেসি। লিসান্দ্রো মার্তিনেসের পাস থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অধিনায়ক। তবে বিরতির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আফ্রিকা মহাদেশের লড়াকু দলটি। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্ডেসের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক গোলে কেপ ভার্দেকে ১-১ সমতায় ফেরান দেরোয় দুয়ার্তে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবারও নাটকের মোড় ঘোরে। ৯২ মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের আলতো শটে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস। কিন্তু হাল ছাড়েনি কেপ ভার্দে। ১০৩ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ইয়ানিক সেমেদোর পাস থেকে সিডনি ক্যাব্রাল গোল করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২।

ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ১১১ মিনিটে আসে আর্জেন্টিনার সেই কাঙ্ক্ষিত ও ঐতিহাসিক গোল। লিওনেল মেসির নিখুঁত কর্নার কিক থেকে ডি-বক্সে শূন্যে ভেসে দুর্দান্ত হেডে বল প্রতিপক্ষের জালে জড়ান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। এই গোলেই ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।


জয়সূচক গোলের জোগান (অ্যাসিস্ট) দিয়ে আজ ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার বহু বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯টি অ্যাসিস্টের একক মালিক এখন এলএম১০ (LM10)। সেই সঙ্গে ২০০৬ থেকে ২০২৬—টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করার অনন্য ও ঐতিহাসিক নজির গড়লেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর।

বিষয় : আর্জেন্টিনা ফুটবল ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


মেসির রেকর্ড ও রোমেরোর গোল: কেপ ভার্দে বধ করে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

অতিরিক্ত সময়ের চরম নাটকীয়তা আর রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে লড়াকু কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল বা শেষ আট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে আলবিসেলেস্তেরা প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে আফ্রিকান পরাশক্তি মিসরকে, যারা অন্য ম্যাচে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে কোয়ার্টারের টিকিট কেটেছে। আগামী মঙ্গলবার রাত ১০টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে শুরু হবে আর্জেন্টিনা-মিসরের সেই ব্লকবাস্টার ম্যাচ।

নকআউট পর্বের এই ম্যাচে শেষ আটে উঠতে আর্জেন্টিনাকে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে। মায়ামির মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। গ্রুপ পর্বে কোনো ম্যাচ না হেরে, ৩টি ড্রয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা কেপ ভার্দে শুরু থেকেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দেয়।

ম্যাচের ২৯ মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙেন আলবিসেলেস্তেদের মহাতারকা লিওনেল মেসি। লিসান্দ্রো মার্তিনেসের পাস থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অধিনায়ক। তবে বিরতির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আফ্রিকা মহাদেশের লড়াকু দলটি। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্ডেসের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক গোলে কেপ ভার্দেকে ১-১ সমতায় ফেরান দেরোয় দুয়ার্তে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবারও নাটকের মোড় ঘোরে। ৯২ মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের আলতো শটে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস। কিন্তু হাল ছাড়েনি কেপ ভার্দে। ১০৩ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ইয়ানিক সেমেদোর পাস থেকে সিডনি ক্যাব্রাল গোল করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২।

ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ১১১ মিনিটে আসে আর্জেন্টিনার সেই কাঙ্ক্ষিত ও ঐতিহাসিক গোল। লিওনেল মেসির নিখুঁত কর্নার কিক থেকে ডি-বক্সে শূন্যে ভেসে দুর্দান্ত হেডে বল প্রতিপক্ষের জালে জড়ান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। এই গোলেই ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।


জয়সূচক গোলের জোগান (অ্যাসিস্ট) দিয়ে আজ ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার বহু বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯টি অ্যাসিস্টের একক মালিক এখন এলএম১০ (LM10)। সেই সঙ্গে ২০০৬ থেকে ২০২৬—টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করার অনন্য ও ঐতিহাসিক নজির গড়লেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো