সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদ সদস্যদের বিশেষ বৈঠকের মাধ্যমে শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। দুপুর আড়াইটার দিকে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার নিয়ম সংসদ সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন।
সিইসি জানান, সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর বিধান অনুযায়ী এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন প্রার্থী।
বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী প্রথমে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী অলি আহমদের (বীরবিক্রম) নাম ঘোষণা করেন সিইসি। তিনি সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। এরপর দ্বিতীয় প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁকে স্বাগত জানান।
নাম ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেন। ব্যালট পেপারে সংসদ সদস্যদের ক্রমিক নম্বর, নাম ও বিভক্তি নম্বর উল্লেখ রয়েছে। নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে সদস্যরা ব্যালট গ্রহণ করছেন।
ব্যালটে দুই প্রার্থীর নাম বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে মুদ্রিত রয়েছে। পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্ধারিত স্থানে নিজের পূর্ণ নাম বাংলা অথবা ইংরেজিতে স্বাক্ষর করে ভোট দিচ্ছেন সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভির সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, বিশেষ এই বৈঠকে স্পিকারের জন্য নির্ধারিত আসনটি খালি রয়েছে। সংসদের ভেতরে সিইসিসহ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের জন্য সংসদের ভেতরে আলাদা একটি আসন রাখা হয়েছে। সেখানে বসেই তিনি এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যালটে স্বাক্ষর করেন।
এরপর সংসদ সদস্যদের আসনের সামনের নির্ধারিত স্থানে রাখা ব্যালট বাক্সে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পর্যায়ক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় ভোটার হিসেবে ব্যালট জমা দেন।
একই সময়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও ব্যালট পেপার পৌঁছে দেন। তাঁর পাশের আসনে বসেছিলেন রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানকেও নিজ আসনে বসে ব্যালটে স্বাক্ষর করতে দেখা যায়।
পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যালট বাক্সে ভোট দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল ভোট দেওয়ার পর বিএনপির সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।
ভোটদান শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় শফিকুর রহমানের সঙ্গে তাঁর করমর্দন ও কথোপকথন করতে দেখা যায়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণ শেষ হলে ব্যালট গণনা করা হবে।
সিইসি জানিয়েছেন, বৈধ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম বৃহস্পতিবারই ঘোষণা করা হবে। পরে নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদ সদস্যদের বিশেষ বৈঠকের মাধ্যমে শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। দুপুর আড়াইটার দিকে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার নিয়ম সংসদ সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন।
সিইসি জানান, সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর বিধান অনুযায়ী এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন প্রার্থী।
বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী প্রথমে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী অলি আহমদের (বীরবিক্রম) নাম ঘোষণা করেন সিইসি। তিনি সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। এরপর দ্বিতীয় প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁকে স্বাগত জানান।
নাম ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেন। ব্যালট পেপারে সংসদ সদস্যদের ক্রমিক নম্বর, নাম ও বিভক্তি নম্বর উল্লেখ রয়েছে। নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে সদস্যরা ব্যালট গ্রহণ করছেন।
ব্যালটে দুই প্রার্থীর নাম বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে মুদ্রিত রয়েছে। পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্ধারিত স্থানে নিজের পূর্ণ নাম বাংলা অথবা ইংরেজিতে স্বাক্ষর করে ভোট দিচ্ছেন সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভির সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, বিশেষ এই বৈঠকে স্পিকারের জন্য নির্ধারিত আসনটি খালি রয়েছে। সংসদের ভেতরে সিইসিসহ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের জন্য সংসদের ভেতরে আলাদা একটি আসন রাখা হয়েছে। সেখানে বসেই তিনি এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যালটে স্বাক্ষর করেন।
এরপর সংসদ সদস্যদের আসনের সামনের নির্ধারিত স্থানে রাখা ব্যালট বাক্সে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পর্যায়ক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় ভোটার হিসেবে ব্যালট জমা দেন।
একই সময়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও ব্যালট পেপার পৌঁছে দেন। তাঁর পাশের আসনে বসেছিলেন রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানকেও নিজ আসনে বসে ব্যালটে স্বাক্ষর করতে দেখা যায়।
পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যালট বাক্সে ভোট দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল ভোট দেওয়ার পর বিএনপির সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।
ভোটদান শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় শফিকুর রহমানের সঙ্গে তাঁর করমর্দন ও কথোপকথন করতে দেখা যায়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণ শেষ হলে ব্যালট গণনা করা হবে।
সিইসি জানিয়েছেন, বৈধ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম বৃহস্পতিবারই ঘোষণা করা হবে। পরে নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন