জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও এল-নিনোর আকস্মিক হানায় তীব্র খরার মুখোমুখি হয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পানামা খাল। অনাবৃষ্টির কারণে খালের পানি সরবরাহের প্রধান কৃত্রিম জলাধারগুলোর পানির স্তর উদ্বেগজনকভাবে নেমে গেছে। উদ্ভুত সংকটজনক পরিস্থিতি সামাল দিতে ও খালের পানির গভীরতা ধরে রাখতে প্রতিদিন জাহাজ চলাচলের সংখ্যা সীমিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পানামা খাল কর্তৃপক্ষ (এসিপি)।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পানামা খাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, খালের পানির স্তর বজায় রাখতে এখন থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক পণ্যবাহী ও বাণিজ্যিক নৌযানকে এই সরু ও কৌশলগত জলপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।
ঘোষিত নতুন সময়সূচি ও নীতি অনুযায়ী, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩৪টি করে বাণিজ্যিক জাহাজকে পানামা খাল অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে। পরবর্তী ধাপে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই সংখ্যা আরও কমিয়ে দৈনিক ৩২টিতে নামিয়ে আনা হবে। উল্লেখ্য, স্বাভাবিক আবহাওয়া ও পূর্ণ স্বাভাবিক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০টি বৃহৎ বাণিজ্যিক জাহাজ পারাপার করে থাকে।
খাল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘস্থায়ী অনাবৃষ্টি এবং এল-নিনোর বিরূপ প্রভাবে খালের পানির মূল আধার কৃত্রিম ‘গাতুন লেক’-এর পানির উচ্চতা ও ধারণক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। লেকে পানির গভীরতা কমায় গভীর ড্রাফটের বড় আকারের পণ্যবাহী জাহাজগুলো চলাচলে বড় ধরনের কারিগরি জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা নৌচলাচলের স্বাভাবিক নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ পরিবাহিত হয় এই পানামা খালের ওপর নির্ভর করে। ফলে এখানে জাহাজ পারাপার সীমিত করার এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে নতুন করে বড় ধরনের চাপ ও স্থবিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহারের কারণে বিশ্ববাজারে পণ্য পরিবহনের খরচ ও সময় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
এর আগে ২০২৩ সালেও অঞ্চলটিতে চরম খরা ও অনাবৃষ্টিজনিত তীব্র পানির সংকটের কারণে পানামা খালে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
বিষয় : আমেরিকা পানামা খাল

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও এল-নিনোর আকস্মিক হানায় তীব্র খরার মুখোমুখি হয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পানামা খাল। অনাবৃষ্টির কারণে খালের পানি সরবরাহের প্রধান কৃত্রিম জলাধারগুলোর পানির স্তর উদ্বেগজনকভাবে নেমে গেছে। উদ্ভুত সংকটজনক পরিস্থিতি সামাল দিতে ও খালের পানির গভীরতা ধরে রাখতে প্রতিদিন জাহাজ চলাচলের সংখ্যা সীমিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পানামা খাল কর্তৃপক্ষ (এসিপি)।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পানামা খাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, খালের পানির স্তর বজায় রাখতে এখন থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক পণ্যবাহী ও বাণিজ্যিক নৌযানকে এই সরু ও কৌশলগত জলপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।
ঘোষিত নতুন সময়সূচি ও নীতি অনুযায়ী, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩৪টি করে বাণিজ্যিক জাহাজকে পানামা খাল অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে। পরবর্তী ধাপে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই সংখ্যা আরও কমিয়ে দৈনিক ৩২টিতে নামিয়ে আনা হবে। উল্লেখ্য, স্বাভাবিক আবহাওয়া ও পূর্ণ স্বাভাবিক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০টি বৃহৎ বাণিজ্যিক জাহাজ পারাপার করে থাকে।
খাল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘস্থায়ী অনাবৃষ্টি এবং এল-নিনোর বিরূপ প্রভাবে খালের পানির মূল আধার কৃত্রিম ‘গাতুন লেক’-এর পানির উচ্চতা ও ধারণক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। লেকে পানির গভীরতা কমায় গভীর ড্রাফটের বড় আকারের পণ্যবাহী জাহাজগুলো চলাচলে বড় ধরনের কারিগরি জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা নৌচলাচলের স্বাভাবিক নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ পরিবাহিত হয় এই পানামা খালের ওপর নির্ভর করে। ফলে এখানে জাহাজ পারাপার সীমিত করার এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে নতুন করে বড় ধরনের চাপ ও স্থবিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহারের কারণে বিশ্ববাজারে পণ্য পরিবহনের খরচ ও সময় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
এর আগে ২০২৩ সালেও অঞ্চলটিতে চরম খরা ও অনাবৃষ্টিজনিত তীব্র পানির সংকটের কারণে পানামা খালে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন