ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে অটোরিকশাচালক আরজান মিয়া ওরফে আব্দুল্লাহ (১৯) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার প্রধান আসামিসহ এ পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামিকে নিয়ে নাসিরনগরের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পিবিআই।
গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি মোঃ তানভীর আহমেদ ওরফে তুহিন (৩৫)। তিনি জেলার কসবা উপজেলার নয়নপুর গ্রামের মোঃ সেন্টু মিয়ার ছেলে। এর আগে গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কসবা উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই হত্যাকান্ডে জড়িত অপর দুই আসামি শিহাব হোসেন চৌধুরী ও রাহাব আলী জুয়েলকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত অপর আসামি মোঃ মাহফুজুর রহমান রিমানকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর এই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করা হয়েছে। পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নাসিরনগর সরকারি কলেজের সামনে কাশবনের ভেতর থেকে চোখ, মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো এবং পা রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার চিকনপুর গ্রামের মোঃ আউয়ালের ছেলে আরজান মিয়া ওরফে আব্দুল্লাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তথ্যপ্রযুক্তি এবং নিবিড় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি তানভীরকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে এবং তার সহযোগী সুয়েব মিয়া ও মাহফুজুর রহমান রিমান মিলে আব্দুল্লাহকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা ১ হাজার টাকায় আব্দুল্লাহর অটোরিকশাটি লাখাইয়ের বামৈ বাজার থেকে রিজার্ভ ভাড়া নিয়ে নাসিরনগরের সাহেব বাড়ি এলাকায় আসে। এরপর সুয়েব ও রিমান চালক আব্দুল্লাহর হাত-পা চেপে ধরে এবং সুয়েব গলায় চাপ দিয়ে ও মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে নির্মমভাবে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকান্ড শেষে লাশ কাশবনে ফেলে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে এবং ইতিপূর্বে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকান্ডে জড়িত অপর পলাতক আসামি সুয়েব মিয়াকে গ্রেপ্তারে পিবিআই-এর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
বিডি প্রতিদিন/এএম

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে অটোরিকশাচালক আরজান মিয়া ওরফে আব্দুল্লাহ (১৯) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার প্রধান আসামিসহ এ পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামিকে নিয়ে নাসিরনগরের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পিবিআই।
গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি মোঃ তানভীর আহমেদ ওরফে তুহিন (৩৫)। তিনি জেলার কসবা উপজেলার নয়নপুর গ্রামের মোঃ সেন্টু মিয়ার ছেলে। এর আগে গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কসবা উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই হত্যাকান্ডে জড়িত অপর দুই আসামি শিহাব হোসেন চৌধুরী ও রাহাব আলী জুয়েলকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত অপর আসামি মোঃ মাহফুজুর রহমান রিমানকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর এই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করা হয়েছে। পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নাসিরনগর সরকারি কলেজের সামনে কাশবনের ভেতর থেকে চোখ, মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো এবং পা রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার চিকনপুর গ্রামের মোঃ আউয়ালের ছেলে আরজান মিয়া ওরফে আব্দুল্লাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তথ্যপ্রযুক্তি এবং নিবিড় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি তানভীরকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে এবং তার সহযোগী সুয়েব মিয়া ও মাহফুজুর রহমান রিমান মিলে আব্দুল্লাহকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা ১ হাজার টাকায় আব্দুল্লাহর অটোরিকশাটি লাখাইয়ের বামৈ বাজার থেকে রিজার্ভ ভাড়া নিয়ে নাসিরনগরের সাহেব বাড়ি এলাকায় আসে। এরপর সুয়েব ও রিমান চালক আব্দুল্লাহর হাত-পা চেপে ধরে এবং সুয়েব গলায় চাপ দিয়ে ও মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে নির্মমভাবে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকান্ড শেষে লাশ কাশবনে ফেলে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে এবং ইতিপূর্বে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকান্ডে জড়িত অপর পলাতক আসামি সুয়েব মিয়াকে গ্রেপ্তারে পিবিআই-এর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
বিডি প্রতিদিন/এএম
