মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত—অর্থাৎ আগের তুলনায় এক ঘণ্টা কম। বর্তমানে অফিস সময় ছিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। অন্যদিকে ব্যাংকের লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং ব্যাংক বন্ধ হবে বিকেল ৪টার মধ্যে।
এ ছাড়া দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে, যা আজ শুক্রবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে। যদিও এর আগে বাংলাদেশ দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতি রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল, সরকার আরও আগে—সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে—বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে হোটেল, ফার্মেসি, কাঁচাবাজার এবং জরুরি সেবাসংক্রান্ত দোকানগুলো এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে।
এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয় বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে রাত পৌনে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা চলে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্ত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী তিন মাস সরকারি ব্যয় কমাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে নতুন কোনো যানবাহন (গাড়ি, জলযান বা আকাশযান) এবং কম্পিউটার সরঞ্জাম কেনা হবে না। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
এছাড়া সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভ্রমণ ব্যয়ও ৩০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। পাশাপাশি বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন, তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার থেকে পৃথক নির্দেশনা দেবে। তবে শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।
ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ইলেকট্রিক বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব বাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিনা শুল্কে আমদানি করতে পারবে, তবে বাণিজ্যিকভাবে আমদানি করলে ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। শর্ত অনুযায়ী বাসগুলো অবশ্যই নতুন হতে হবে।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস পরিচালনার একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছিল। এতে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব ছিল। একদিন অনলাইন ক্লাস হলে পরদিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রেও শিক্ষকরা সশরীর উপস্থিত থেকে পাঠদান করবেন এবং ব্যবহারিক ক্লাস সশরীরেই অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরসহ প্রায় ৪০ দিনের ছুটির পর গত রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলেছে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে এখন আংশিক অনলাইন শিক্ষা চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রোববার জানা যাবে।
বৈঠকে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন সংশোধনের খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার ফলে পরীক্ষায় সংঘটিত সব ধরনের অপরাধের বিচার করা সম্ভব হবে।
সরকার মনে করছে, এসব পদক্ষেপ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা এবং জনজীবনে শৃঙ্খলা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই উদ্যোগগুলো কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত—অর্থাৎ আগের তুলনায় এক ঘণ্টা কম। বর্তমানে অফিস সময় ছিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। অন্যদিকে ব্যাংকের লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং ব্যাংক বন্ধ হবে বিকেল ৪টার মধ্যে।
এ ছাড়া দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে, যা আজ শুক্রবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে। যদিও এর আগে বাংলাদেশ দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতি রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল, সরকার আরও আগে—সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে—বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে হোটেল, ফার্মেসি, কাঁচাবাজার এবং জরুরি সেবাসংক্রান্ত দোকানগুলো এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে।
এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয় বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে রাত পৌনে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা চলে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্ত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী তিন মাস সরকারি ব্যয় কমাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে নতুন কোনো যানবাহন (গাড়ি, জলযান বা আকাশযান) এবং কম্পিউটার সরঞ্জাম কেনা হবে না। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
এছাড়া সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভ্রমণ ব্যয়ও ৩০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। পাশাপাশি বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন, তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার থেকে পৃথক নির্দেশনা দেবে। তবে শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।
ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ইলেকট্রিক বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব বাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিনা শুল্কে আমদানি করতে পারবে, তবে বাণিজ্যিকভাবে আমদানি করলে ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। শর্ত অনুযায়ী বাসগুলো অবশ্যই নতুন হতে হবে।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস পরিচালনার একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছিল। এতে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব ছিল। একদিন অনলাইন ক্লাস হলে পরদিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রেও শিক্ষকরা সশরীর উপস্থিত থেকে পাঠদান করবেন এবং ব্যবহারিক ক্লাস সশরীরেই অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরসহ প্রায় ৪০ দিনের ছুটির পর গত রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলেছে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে এখন আংশিক অনলাইন শিক্ষা চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রোববার জানা যাবে।
বৈঠকে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন সংশোধনের খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার ফলে পরীক্ষায় সংঘটিত সব ধরনের অপরাধের বিচার করা সম্ভব হবে।
সরকার মনে করছে, এসব পদক্ষেপ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা এবং জনজীবনে শৃঙ্খলা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই উদ্যোগগুলো কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন