মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

৩০০ বছর ধরে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে এক দারোগা বাড়ি

মাদারীপুরের ৩০০ বছরের প্রাচীন দারোগা বাড়ি: হারানো ঐতিহ্যের এক বিষণ্ণ সাক্ষী

মাদারীপুরের ৩০০ বছরের প্রাচীন দারোগা বাড়ি: হারানো ঐতিহ্যের এক বিষণ্ণ সাক্ষী
ছবি : সংগৃহীত

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের টুবিয়া গ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন স্থাপত্য। জরাজীর্ণ ভবন, খসে পড়া পলেস্তারা আর আগাছায় ঘেরা এই বাড়িটি স্থানীয়ভাবে দারোগা বাড়ি নামে পরিচিত। প্রায় তিন শতাব্দী প্রাচীন এই স্থাপনাটি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ তার নিজস্ব জৌলুশ হারিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তবুও এর নির্মাণশৈলী আর ঐতিহাসিক গাম্ভীর্য আজও পর্যটক ও গবেষকদের মুগ্ধ করে চলেছে।

ইতিহাসের পাতা উল্টালে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে সুজয় সারেং নামে একজন পুলিশ কর্মকর্তা (দারোগা) এই সুদৃশ্য বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। পাঁচ একর বিশাল এলাকা জুড়ে বাগান, পুকুর আর নান্দনিক কারুকাজের এই দোতলা ভবনটি তখন ওই অঞ্চলের আভিজাত্যের প্রতীক ছিল। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের উত্তাল সময়ে সুজয় সারেংয়ের পরিবার দেশত্যাগ করে ভারতে চলে গেলে বাড়িটি তার আপনজনদের সংস্পর্শ হারায়। এরপর থেকেই এটি অযত্ন আর অবহেলার কবলে পড়ে।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় স্থানীয়ভাবে বাড়িটিকে ঘিরে ভূতের বাড়ির মতো নানা কাল্পনিক ও ভীতিকর গল্প ডালপালা মেলেছে। বর্তমানে এই জমিতে বসবাসরত রিজিয়া বেগম অভিযোগ করেন যে, এটি মূলত একটি চক্রান্ত। তিনি বলেন, আমি ৫০ বছর ধরে এই বাড়িতে আছি। এখন এটি বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় পাশের একটি টিনের ঘরে থাকছি। এলাকার স্বার্থান্বেষী কিছু মানুষ আমাদের ভয় দেখিয়ে উচ্ছেদ করার জন্য বাড়িটিকে ভূতের বাড়ি বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে যাতে তারা এই মূল্যবান জায়গাটি দখল করতে পারে।

গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা ওমর হাসানসহ এলাকার সচেতন মানুষ এই ঐতিহাসিক ভবনটি রক্ষার জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি কেবল একটি ভবন নয়, এটি মাদারীপুরের ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। মাদারীপুরের ইতিহাস গবেষক সুবল বিশ্বাসের মতে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যদি এখনই এটি সংস্কারের উদ্যোগ না নেয়, তবে খুব শীঘ্রই এই মূল্যবান নিদর্শনটি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। এটি সংরক্ষণ করা হলে মাদারীপুরে পর্যটন শিল্পের নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।


এই প্রাচীন স্থাপনাটির বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। তিনি জানান, বাড়িটির বর্তমান অবস্থা এবং ঐতিহাসিক মূল্য যাচাই করে জেলা প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে বিস্তারিত জানানো হবে। সরকারিভাবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই স্মৃতি রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


মাদারীপুরের ৩০০ বছরের প্রাচীন দারোগা বাড়ি: হারানো ঐতিহ্যের এক বিষণ্ণ সাক্ষী

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের টুবিয়া গ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন স্থাপত্য। জরাজীর্ণ ভবন, খসে পড়া পলেস্তারা আর আগাছায় ঘেরা এই বাড়িটি স্থানীয়ভাবে দারোগা বাড়ি নামে পরিচিত। প্রায় তিন শতাব্দী প্রাচীন এই স্থাপনাটি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ তার নিজস্ব জৌলুশ হারিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তবুও এর নির্মাণশৈলী আর ঐতিহাসিক গাম্ভীর্য আজও পর্যটক ও গবেষকদের মুগ্ধ করে চলেছে।

ইতিহাসের পাতা উল্টালে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে সুজয় সারেং নামে একজন পুলিশ কর্মকর্তা (দারোগা) এই সুদৃশ্য বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। পাঁচ একর বিশাল এলাকা জুড়ে বাগান, পুকুর আর নান্দনিক কারুকাজের এই দোতলা ভবনটি তখন ওই অঞ্চলের আভিজাত্যের প্রতীক ছিল। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের উত্তাল সময়ে সুজয় সারেংয়ের পরিবার দেশত্যাগ করে ভারতে চলে গেলে বাড়িটি তার আপনজনদের সংস্পর্শ হারায়। এরপর থেকেই এটি অযত্ন আর অবহেলার কবলে পড়ে।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় স্থানীয়ভাবে বাড়িটিকে ঘিরে ভূতের বাড়ির মতো নানা কাল্পনিক ও ভীতিকর গল্প ডালপালা মেলেছে। বর্তমানে এই জমিতে বসবাসরত রিজিয়া বেগম অভিযোগ করেন যে, এটি মূলত একটি চক্রান্ত। তিনি বলেন, আমি ৫০ বছর ধরে এই বাড়িতে আছি। এখন এটি বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় পাশের একটি টিনের ঘরে থাকছি। এলাকার স্বার্থান্বেষী কিছু মানুষ আমাদের ভয় দেখিয়ে উচ্ছেদ করার জন্য বাড়িটিকে ভূতের বাড়ি বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে যাতে তারা এই মূল্যবান জায়গাটি দখল করতে পারে।

গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা ওমর হাসানসহ এলাকার সচেতন মানুষ এই ঐতিহাসিক ভবনটি রক্ষার জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি কেবল একটি ভবন নয়, এটি মাদারীপুরের ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। মাদারীপুরের ইতিহাস গবেষক সুবল বিশ্বাসের মতে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যদি এখনই এটি সংস্কারের উদ্যোগ না নেয়, তবে খুব শীঘ্রই এই মূল্যবান নিদর্শনটি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। এটি সংরক্ষণ করা হলে মাদারীপুরে পর্যটন শিল্পের নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।


এই প্রাচীন স্থাপনাটির বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। তিনি জানান, বাড়িটির বর্তমান অবস্থা এবং ঐতিহাসিক মূল্য যাচাই করে জেলা প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে বিস্তারিত জানানো হবে। সরকারিভাবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই স্মৃতি রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো