যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। দীর্ঘ ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিহকে আটক করা হয়েছে। লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত হলেও নিখোঁজ অপর শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির ভাগ্য নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
গত ১৬ এপ্রিল ফ্লোরিডার টাম্পা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও তার বান্ধবী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। তাদের খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার ও প্রবাসীরা স্থানীয় পুলিশের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ তদন্তের পর শনিবার লিমনের মরদেহ পাওয়ার খবর নিশ্চিত করে হিলসবোরো শেরিফ অফিস।
জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি। ছবি: কাউন্ট শেরিফের কার্যালয়
শেরিফ অফিসের তদন্ত অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিহ। তার বিরুদ্ধে আনলফুল মুভিং অফ এ ডেড বডি বা অবৈধভাবে মরদেহ স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে। গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন যে, লিমনকে হত্যার পর হিশাম নিজে বড় একটি গার্বেজ ব্যাগে মরদেহটি ভরে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়ে আসেন। শুধু তাই নয়, সে লিমনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও ঘটনাস্থলের তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করার (Tampering with Evidence) চেষ্টাও করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছে, ব্যক্তিগত হিংসার কারণেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
হিশাম ও নিহত জামিল লিমন টাম্পার লেক ফরেস্ট এলাকার একটি ফ্ল্যাটে রুমমেট হিসেবে বসবাস করতেন। হিশাম জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক এবং একসময় ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডার (USF) শিক্ষার্থী ছিল। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়লেও বর্তমানে সে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুক্ত ছিল না। পুলিশ রেকর্ড বলছে, হিশামের আগে থেকেই ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স বা ঘরোয়া সহিংসতার অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে।
নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টিকে জোরপূর্বক আটকে রাখার (False Imprisonment) অভিযোগও হিশামের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের অভিযানটিও ছিল সিনেমার মতো। হিশাম পালাতে চেষ্টা করলে ড্রোন এবং সোয়াট টিম ব্যবহার করে তাকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। বর্তমানে সে কারাগারে আটক রয়েছে। পুলিশ তাকে জেরা করে বৃষ্টির অবস্থান জানার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশে অবস্থানরত বৃষ্টির ভাই ফেসবুকের এক পোস্টে দাবি করেছেন যে, তার বোন আর বেঁচে নেই। যদিও পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বৃষ্টির বিষয়ে কিছু জানায়নি।
এই ঘটনায় ফ্লোরিডায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রবাসীরা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। দীর্ঘ ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিহকে আটক করা হয়েছে। লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত হলেও নিখোঁজ অপর শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির ভাগ্য নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
গত ১৬ এপ্রিল ফ্লোরিডার টাম্পা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও তার বান্ধবী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। তাদের খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার ও প্রবাসীরা স্থানীয় পুলিশের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ তদন্তের পর শনিবার লিমনের মরদেহ পাওয়ার খবর নিশ্চিত করে হিলসবোরো শেরিফ অফিস।
জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি। ছবি: কাউন্ট শেরিফের কার্যালয়
শেরিফ অফিসের তদন্ত অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিহ। তার বিরুদ্ধে আনলফুল মুভিং অফ এ ডেড বডি বা অবৈধভাবে মরদেহ স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে। গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন যে, লিমনকে হত্যার পর হিশাম নিজে বড় একটি গার্বেজ ব্যাগে মরদেহটি ভরে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়ে আসেন। শুধু তাই নয়, সে লিমনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও ঘটনাস্থলের তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করার (Tampering with Evidence) চেষ্টাও করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছে, ব্যক্তিগত হিংসার কারণেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
হিশাম ও নিহত জামিল লিমন টাম্পার লেক ফরেস্ট এলাকার একটি ফ্ল্যাটে রুমমেট হিসেবে বসবাস করতেন। হিশাম জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক এবং একসময় ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডার (USF) শিক্ষার্থী ছিল। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়লেও বর্তমানে সে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুক্ত ছিল না। পুলিশ রেকর্ড বলছে, হিশামের আগে থেকেই ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স বা ঘরোয়া সহিংসতার অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে।
নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টিকে জোরপূর্বক আটকে রাখার (False Imprisonment) অভিযোগও হিশামের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের অভিযানটিও ছিল সিনেমার মতো। হিশাম পালাতে চেষ্টা করলে ড্রোন এবং সোয়াট টিম ব্যবহার করে তাকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। বর্তমানে সে কারাগারে আটক রয়েছে। পুলিশ তাকে জেরা করে বৃষ্টির অবস্থান জানার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশে অবস্থানরত বৃষ্টির ভাই ফেসবুকের এক পোস্টে দাবি করেছেন যে, তার বোন আর বেঁচে নেই। যদিও পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বৃষ্টির বিষয়ে কিছু জানায়নি।
এই ঘটনায় ফ্লোরিডায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রবাসীরা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন