মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বড়বেলায় কেন দ্রুত ফুরিয়ে যায় সময়?

কেন ছোটবেলায় সময় কাটতে চাইত না, আর এখন দ্রুত ফুরিয়ে যায়? জানুন বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

কেন ছোটবেলায় সময় কাটতে চাইত না, আর এখন দ্রুত ফুরিয়ে যায়? জানুন বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
ছবি : সংগৃহীত

স্মৃতি হাতড়ালে আজও মনে পড়ে শৈশবের সেই অন্তহীন দুপুরগুলোর কথা। তখন একটা গ্রীষ্মের ছুটি মনে হতো অনন্তকাল। অথচ আজ বড় হয়ে মনে হয়, এই তো সেদিন নতুন বছর শুরু হলো, আর দেখতে দেখতে ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে মাসগুলো হাওয়ায় মিলিয়ে গেল! কেন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সময়ের গতিবেগ এতটা আলাদা? সময়ের এই রহস্যময় উপলব্ধি নিয়ে গবেষক ও মনোবিজ্ঞানীরা কিছু চমকপ্রদ কারণ খুঁজে পেয়েছেন।

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান বেজান এবং অনেক মনোবিজ্ঞানীর মতে, আমাদের মস্তিষ্ক অনেকটা ক্যামেরার মতো ছবি ধারণ করে। শিশুরা যখন ছোট থাকে, তাদের মস্তিষ্ক প্রতি সেকেন্ডে অনেক বেশি মেন্টাল ইমেজ বা মানসিক ছবি প্রসেস করতে পারে। প্রতিটি নতুন অভিজ্ঞতা তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের এই সক্ষমতা কিছুটা ধীর হয়ে যায়। প্রাপ্তবয়স্করা প্রতি সেকেন্ডে কম ছবি গ্রহণ করে, ফলে তাদের কাছে মনে হয় সময় খুব দ্রুত বয়ে যাচ্ছে।

শিশুদের কাছে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি অভিজ্ঞতাই নতুন। প্রথমবার একটি রঙিন প্রজাপতি দেখা কিংবা বৃষ্টির শব্দ শোনার রোমাঞ্চ তাদের মস্তিষ্ককে অনেক বেশি তথ্য জমা রাখতে সাহায্য করে, যা সময়কে দীর্ঘায়িত করে। অন্যদিকে, বড়দের জীবনে নতুনত্ব খুব কম। প্রতিদিনের রুটিন কাজ এবং একই ধরনের অভিজ্ঞতার কারণে মস্তিষ্ক নতুন কোনো স্মৃতি আলাদা করে ধরে রাখে না। যখন জীবনে নতুনত্বের অভাব ঘটে, তখন সময় দ্রুত পিছলে যায় বলে মনে হয়।


মনোবিজ্ঞানীরা এর একটি গাণিতিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। ১০ বছর বয়সী একটি শিশুর কাছে তার জীবনের দুই মাস হলো মোট জীবনের ১.৬ শতাংশ। কিন্তু ৪০ বছর বয়সী মানুষের কাছে সেই একই দুই মাস হলো জীবনের মাত্র ০.৪ শতাংশ। অর্থাৎ, জীবনের মোট অভিজ্ঞতার তুলনায় শিশুরা সময়ের একেকটি খণ্ডকে অনেক বড় হিসেবে দেখে, যা বড়দের কাছে নিতান্তই নগণ্য।

শিশুদের মধ্যে রৈখিক সময় বা অতীত-ভবিষ্যতের ধরাবাঁধা কোনো ধারণা নেই। তারা ঘড়ি বা ক্যালেন্ডারের নিয়মে অভ্যস্ত নয়, তারা বাঁচে বর্তমানে। তাদের কাছে সময় মানে হলো ক্ষুধা পাওয়া বা ঘুমানোর সময় হওয়া। বিপরীতে, বড়রা সব সময় ঘড়ি ধরে চলে এবং ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা বা অতীতের স্মৃতিতে ডুবে থাকে। ফলে বর্তমান সময়টা তাদের হাত থেকে দ্রুত ফসকে যায়।


কীভাবে ধীর করবেন সময়ের চাকা?

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, জীবনকে অর্থবহ এবং দীর্ঘ মনে করার জন্য কিছু অভ্যাস জরুরি:

  • নতুন কিছু করুন: প্রতিদিনের রুটিন ভেঙে নতুন কোনো শখ বা কাজে যুক্ত হোন। এতে মস্তিষ্ক সজাগ থাকে।
  • সক্রিয় থাকুন: শারীরিক ব্যায়াম ও হাঁটাচলা সময়ের উপলব্ধিকে ধীর করতে সাহায্য করে।
  • মেডিটেশন: বর্তমানে বাস করার চেষ্টা করুন। শিশুদের মতো চারপাশের শব্দ, দৃশ্য এবং অনুভূতিগুলো সচেতনভাবে অনুভব করুন।

সময় সবার জন্য সমান গতিতে চললেও, আমাদের মন একে একেকভাবে ব্যাখ্যা করে। শৈশবের সেই অনন্ত দুপুর হয়তো ফিরে আসবে না, কিন্তু বর্তমান মুহূর্তে বাঁচার চেষ্টা করলে বড়বেলাকেও আমরা আরও দীর্ঘ ও স্মৃতিময় করে তুলতে পারি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


কেন ছোটবেলায় সময় কাটতে চাইত না, আর এখন দ্রুত ফুরিয়ে যায়? জানুন বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

স্মৃতি হাতড়ালে আজও মনে পড়ে শৈশবের সেই অন্তহীন দুপুরগুলোর কথা। তখন একটা গ্রীষ্মের ছুটি মনে হতো অনন্তকাল। অথচ আজ বড় হয়ে মনে হয়, এই তো সেদিন নতুন বছর শুরু হলো, আর দেখতে দেখতে ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে মাসগুলো হাওয়ায় মিলিয়ে গেল! কেন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সময়ের গতিবেগ এতটা আলাদা? সময়ের এই রহস্যময় উপলব্ধি নিয়ে গবেষক ও মনোবিজ্ঞানীরা কিছু চমকপ্রদ কারণ খুঁজে পেয়েছেন।

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান বেজান এবং অনেক মনোবিজ্ঞানীর মতে, আমাদের মস্তিষ্ক অনেকটা ক্যামেরার মতো ছবি ধারণ করে। শিশুরা যখন ছোট থাকে, তাদের মস্তিষ্ক প্রতি সেকেন্ডে অনেক বেশি মেন্টাল ইমেজ বা মানসিক ছবি প্রসেস করতে পারে। প্রতিটি নতুন অভিজ্ঞতা তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের এই সক্ষমতা কিছুটা ধীর হয়ে যায়। প্রাপ্তবয়স্করা প্রতি সেকেন্ডে কম ছবি গ্রহণ করে, ফলে তাদের কাছে মনে হয় সময় খুব দ্রুত বয়ে যাচ্ছে।

শিশুদের কাছে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি অভিজ্ঞতাই নতুন। প্রথমবার একটি রঙিন প্রজাপতি দেখা কিংবা বৃষ্টির শব্দ শোনার রোমাঞ্চ তাদের মস্তিষ্ককে অনেক বেশি তথ্য জমা রাখতে সাহায্য করে, যা সময়কে দীর্ঘায়িত করে। অন্যদিকে, বড়দের জীবনে নতুনত্ব খুব কম। প্রতিদিনের রুটিন কাজ এবং একই ধরনের অভিজ্ঞতার কারণে মস্তিষ্ক নতুন কোনো স্মৃতি আলাদা করে ধরে রাখে না। যখন জীবনে নতুনত্বের অভাব ঘটে, তখন সময় দ্রুত পিছলে যায় বলে মনে হয়।


মনোবিজ্ঞানীরা এর একটি গাণিতিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। ১০ বছর বয়সী একটি শিশুর কাছে তার জীবনের দুই মাস হলো মোট জীবনের ১.৬ শতাংশ। কিন্তু ৪০ বছর বয়সী মানুষের কাছে সেই একই দুই মাস হলো জীবনের মাত্র ০.৪ শতাংশ। অর্থাৎ, জীবনের মোট অভিজ্ঞতার তুলনায় শিশুরা সময়ের একেকটি খণ্ডকে অনেক বড় হিসেবে দেখে, যা বড়দের কাছে নিতান্তই নগণ্য।

শিশুদের মধ্যে রৈখিক সময় বা অতীত-ভবিষ্যতের ধরাবাঁধা কোনো ধারণা নেই। তারা ঘড়ি বা ক্যালেন্ডারের নিয়মে অভ্যস্ত নয়, তারা বাঁচে বর্তমানে। তাদের কাছে সময় মানে হলো ক্ষুধা পাওয়া বা ঘুমানোর সময় হওয়া। বিপরীতে, বড়রা সব সময় ঘড়ি ধরে চলে এবং ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা বা অতীতের স্মৃতিতে ডুবে থাকে। ফলে বর্তমান সময়টা তাদের হাত থেকে দ্রুত ফসকে যায়।


কীভাবে ধীর করবেন সময়ের চাকা?

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, জীবনকে অর্থবহ এবং দীর্ঘ মনে করার জন্য কিছু অভ্যাস জরুরি:

  • নতুন কিছু করুন: প্রতিদিনের রুটিন ভেঙে নতুন কোনো শখ বা কাজে যুক্ত হোন। এতে মস্তিষ্ক সজাগ থাকে।
  • সক্রিয় থাকুন: শারীরিক ব্যায়াম ও হাঁটাচলা সময়ের উপলব্ধিকে ধীর করতে সাহায্য করে।
  • মেডিটেশন: বর্তমানে বাস করার চেষ্টা করুন। শিশুদের মতো চারপাশের শব্দ, দৃশ্য এবং অনুভূতিগুলো সচেতনভাবে অনুভব করুন।


সময় সবার জন্য সমান গতিতে চললেও, আমাদের মন একে একেকভাবে ব্যাখ্যা করে। শৈশবের সেই অনন্ত দুপুর হয়তো ফিরে আসবে না, কিন্তু বর্তমান মুহূর্তে বাঁচার চেষ্টা করলে বড়বেলাকেও আমরা আরও দীর্ঘ ও স্মৃতিময় করে তুলতে পারি।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো