কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে জবাই, চামড়া ছাড়ানো, মাংস কাটা ও তা বণ্টন করা পর্যন্ত ঈদের পুরো দিনটি কাটে তীব্র ব্যস্ততায়। আর এসব কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিজের সাধের পোশাকে, বসার ঘরের কার্পেটে বা দামি আসবাবপত্রে রক্তের দাগ লেগে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। রক্তের দাগের বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি যত পুরোনো হয়, কাপড়ে তত বেশি স্থায়ী হয়ে বসে। বিশেষ করে, ভুলবশত গরম পানি বা তাপ লাগলে এই দাগ স্থায়ী রূপ নেয়, যা পরে তোলা প্রায় অসম্ভব।
তাই এবার কোরবানির ঈদে আপনার পোশাক ও ঘরের আসবাবপত্র দাগমুক্ত রাখার সহজ উপায়গুলো জেনে নিন :
১. কাপড়ে তাজা রক্তের দাগ লাগলে করণীয় :
কোরবানির কাজ করার সময় কাপড়ে রক্ত লাগলে দেরি না করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। দাগ লাগা অংশটি সঙ্গে সঙ্গে কলের ঠান্ডা পানির নিচে ধরুন। মনে রাখবেন, ভুলেও গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না। এরপর সাধারণ ডিটারজেন্ট বা কাপড় ধোয়ার সাবান দিয়ে ভালোভাবে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। প্রয়োজন হলে এই প্রক্রিয়াটি কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করুন।
২. পুরোনো বা শুকিয়ে যাওয়া দাগের ক্ষেত্রে :
রক্তের দাগ যদি শুকিয়ে যায়, তবে কাপড়টি অন্তত ৩০ মিনিট বা তার বেশি সময় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতেও দাগ না উঠলে হালকা গরম পানিতে এনজাইমযুক্ত প্রি-সোক ডিটারজেন্ট দিয়ে আরও আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর ধুয়ে নিয়ে সামান্য ৩ শতাংশ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দাগের ওপর ১ থেকে ৩ মিনিট রাখুন। পরে ভালোভাবে ধুয়ে ইস্ত্রি করে নিন। এছাড়া কাপড়ে কয়েক ফোঁটা অ্যামোনিয়া ব্যবহার করেও ধুয়ে নেওয়া যায়।
জরুরি সতর্কতা : কাপড়ের গায়ে থাকা কেয়ার লেবেল বা ধোয়ার নির্দেশিকা অবশ্যই আগে দেখে নেবেন। সিল্ক বা রেশমি কাপড়ে অ্যামোনিয়া ব্যবহারের আগে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে তা পাতলা করে নিতে হবে, তা না হলে কাপড়ের ক্ষতি হতে পারে।
৩. বসার ঘরের কার্পেট ও সিনথেটিক ফেব্রিকস :
ঈদের দিন ঘরে মেহমান বা লোকজনের আনাগোনায় কার্পেটে রক্ত লেগে গেলে এক চা-চামচ মৃদু (নন-অ্যালকালি) ডিটারজেন্ট আধা কাপ ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি দাগের ওপর অল্প করে দিয়ে স্পঞ্জ বা শুকনো কাপড় দিয়ে চেপে চেপে রক্ত শুষে নিন। কোনোভাবেই ঘষাঘষি করবেন না, এতে দাগ আরও ছড়িয়ে যাবে। দাগ না উঠলে এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ অ্যামোনিয়া মিশিয়ে একইভাবে স্পঞ্জ করুন।
৪. সোফার কভার (সুতি বা লিনেন) এবং চামড়ার আসবাব :
সুতি বা লিনেন কভার : রক্তে ভেজা থাকলে শুরুতেই ঠান্ডা পানি দিয়ে চেপে চেপে মুছে নিন। দাগ বসে গেলে এক কাপ ঠান্ডা পানিতে আধা চা-চামচ ডিশওয়াশিং লিকুইড এবং এক টেবিল চামচ অ্যামোনিয়া মিশিয়ে সাদা কাপড় দিয়ে চেপে পরিষ্কার করুন।
লেদার বা চামড়ার সোফা : ঠান্ডা পানিতে মৃদু সাবান গুলিয়ে প্রচুর ফেনা তৈরি করুন। কেবল সেই ফেনা স্পঞ্জে নিয়ে আলতো করে দাগের ওপর ঘষুন, যাতে দাগ ছড়িয়ে না পড়ে। এরপর নরম শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। পরিষ্কার করার পর লেদার কন্ডিশনার বা স্যাডল সোপ ব্যবহার করতে পারেন।
ঈদের কর্মব্যস্ততার মাঝে এই ছোট ছোট কৌশলগুলো জানা থাকলে আপনার শখের পোশাক আর ঘরের দামি আসবাবপত্র থাকবে একদম দাগমুক্ত ও নতুনের মতো।
বিষয় : জেনে নিন ঈদুল আজহা ঈদের পোশাক পোশাক

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে জবাই, চামড়া ছাড়ানো, মাংস কাটা ও তা বণ্টন করা পর্যন্ত ঈদের পুরো দিনটি কাটে তীব্র ব্যস্ততায়। আর এসব কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিজের সাধের পোশাকে, বসার ঘরের কার্পেটে বা দামি আসবাবপত্রে রক্তের দাগ লেগে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। রক্তের দাগের বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি যত পুরোনো হয়, কাপড়ে তত বেশি স্থায়ী হয়ে বসে। বিশেষ করে, ভুলবশত গরম পানি বা তাপ লাগলে এই দাগ স্থায়ী রূপ নেয়, যা পরে তোলা প্রায় অসম্ভব।
তাই এবার কোরবানির ঈদে আপনার পোশাক ও ঘরের আসবাবপত্র দাগমুক্ত রাখার সহজ উপায়গুলো জেনে নিন :
১. কাপড়ে তাজা রক্তের দাগ লাগলে করণীয় :
কোরবানির কাজ করার সময় কাপড়ে রক্ত লাগলে দেরি না করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। দাগ লাগা অংশটি সঙ্গে সঙ্গে কলের ঠান্ডা পানির নিচে ধরুন। মনে রাখবেন, ভুলেও গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না। এরপর সাধারণ ডিটারজেন্ট বা কাপড় ধোয়ার সাবান দিয়ে ভালোভাবে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। প্রয়োজন হলে এই প্রক্রিয়াটি কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করুন।
২. পুরোনো বা শুকিয়ে যাওয়া দাগের ক্ষেত্রে :
রক্তের দাগ যদি শুকিয়ে যায়, তবে কাপড়টি অন্তত ৩০ মিনিট বা তার বেশি সময় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতেও দাগ না উঠলে হালকা গরম পানিতে এনজাইমযুক্ত প্রি-সোক ডিটারজেন্ট দিয়ে আরও আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর ধুয়ে নিয়ে সামান্য ৩ শতাংশ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দাগের ওপর ১ থেকে ৩ মিনিট রাখুন। পরে ভালোভাবে ধুয়ে ইস্ত্রি করে নিন। এছাড়া কাপড়ে কয়েক ফোঁটা অ্যামোনিয়া ব্যবহার করেও ধুয়ে নেওয়া যায়।
জরুরি সতর্কতা : কাপড়ের গায়ে থাকা কেয়ার লেবেল বা ধোয়ার নির্দেশিকা অবশ্যই আগে দেখে নেবেন। সিল্ক বা রেশমি কাপড়ে অ্যামোনিয়া ব্যবহারের আগে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে তা পাতলা করে নিতে হবে, তা না হলে কাপড়ের ক্ষতি হতে পারে।
৩. বসার ঘরের কার্পেট ও সিনথেটিক ফেব্রিকস :
ঈদের দিন ঘরে মেহমান বা লোকজনের আনাগোনায় কার্পেটে রক্ত লেগে গেলে এক চা-চামচ মৃদু (নন-অ্যালকালি) ডিটারজেন্ট আধা কাপ ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি দাগের ওপর অল্প করে দিয়ে স্পঞ্জ বা শুকনো কাপড় দিয়ে চেপে চেপে রক্ত শুষে নিন। কোনোভাবেই ঘষাঘষি করবেন না, এতে দাগ আরও ছড়িয়ে যাবে। দাগ না উঠলে এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ অ্যামোনিয়া মিশিয়ে একইভাবে স্পঞ্জ করুন।
৪. সোফার কভার (সুতি বা লিনেন) এবং চামড়ার আসবাব :
সুতি বা লিনেন কভার : রক্তে ভেজা থাকলে শুরুতেই ঠান্ডা পানি দিয়ে চেপে চেপে মুছে নিন। দাগ বসে গেলে এক কাপ ঠান্ডা পানিতে আধা চা-চামচ ডিশওয়াশিং লিকুইড এবং এক টেবিল চামচ অ্যামোনিয়া মিশিয়ে সাদা কাপড় দিয়ে চেপে পরিষ্কার করুন।
লেদার বা চামড়ার সোফা : ঠান্ডা পানিতে মৃদু সাবান গুলিয়ে প্রচুর ফেনা তৈরি করুন। কেবল সেই ফেনা স্পঞ্জে নিয়ে আলতো করে দাগের ওপর ঘষুন, যাতে দাগ ছড়িয়ে না পড়ে। এরপর নরম শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। পরিষ্কার করার পর লেদার কন্ডিশনার বা স্যাডল সোপ ব্যবহার করতে পারেন।
ঈদের কর্মব্যস্ততার মাঝে এই ছোট ছোট কৌশলগুলো জানা থাকলে আপনার শখের পোশাক আর ঘরের দামি আসবাবপত্র থাকবে একদম দাগমুক্ত ও নতুনের মতো।

আপনার মতামত লিখুন