দেশের অন্যতম বৃহৎ ও গৌরবময় অবকাঠামো পদ্মা সেতু এবার শুধু জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারই করছে না, উল্টো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে। পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-২ এ নবনির্মিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে গত মে মাসে জাতীয় গ্রিডে সফলভাবে ৫৪ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা (ইউনিট) বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই যুগান্তকারী তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-২ এ ২ দশমিক ৪৯ মেগাওয়াট পিক (MWp) ক্ষমতার একটি আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও সফলভাবে চালু করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, সেতুর পরিচালন ব্যয় কমানো এবং সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি মূলত নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত। এর সুবিধা হলো— দিনের বেলায় উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ প্রথমে সার্ভিস এরিয়ার নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে। এরপর যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জমা থাকে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় গ্রিডে চলে যায়। আবার রাতের বেলা বা মেঘলা দিনে যখন রোদ থাকে না, তখন প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড থেকে নেওয়া হয়। মাস শেষে এই দুই হিসাবের সমন্বয় (অ্যাডজাস্ট) করা হয়।
সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে সৌর প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে ৫৪ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহের বিপরীতে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৪ হাজার ইউনিট। ফলে, নেওয়ার চেয়ে গ্রিডে ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ বেশি দিয়েছে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ!
এই দুর্দান্ত সমন্বয়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে চলতি জুন ২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিলে। সার্ভিস এরিয়া-২ এর জন্য এই মাসে মূল বিদ্যুৎ বিল এসেছে একদম 'শূন্য' বা জিরো টাকা! কেবল ডিমান্ড চার্জ বাবদ সরকারি নির্ধারিত ৭৫ হাজার ৭১৪ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। অথচ, গত মে মাসে এই একই স্থাপনার বিদ্যুৎ বিল এসেছিল ৫ লাখ ২১ হাজার ৬৪ টাকা। ফলে এক মাসের ব্যবধানেই সরকারের সাশ্রয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এই উদ্যোগের সফলতা নিয়ে বলেন—
পদ্মা সেতুর মতো একটি জাতীয় স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই সফল প্রয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু আমাদের বিদ্যুৎ বাবদ খরচই কমাচ্ছে না, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতেও বিশ্বমঞ্চে বড় ভূমিকা রাখছে। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতির বাস্তবায়নে এই প্রকল্প একটি মাইলফলক।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখানেই শেষ নয়। পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১, ২ এবং ৩ মিলিয়ে সর্বমোট ৬ দশমিক ০৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিশাল সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সার্ভিস এরিয়া-২ প্রকল্পটি ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে চলে গেছে এবং বাকি সার্ভিস এরিয়া-১ ও ৩ এর নেট মিটারিং কার্যক্রম দ্রুত চালুর প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
বিষয় : প্রকল্প বিদ্যুৎ সৌরবিদ্যুৎ পদ্মা সেতু

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
দেশের অন্যতম বৃহৎ ও গৌরবময় অবকাঠামো পদ্মা সেতু এবার শুধু জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারই করছে না, উল্টো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে। পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-২ এ নবনির্মিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে গত মে মাসে জাতীয় গ্রিডে সফলভাবে ৫৪ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা (ইউনিট) বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই যুগান্তকারী তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-২ এ ২ দশমিক ৪৯ মেগাওয়াট পিক (MWp) ক্ষমতার একটি আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও সফলভাবে চালু করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, সেতুর পরিচালন ব্যয় কমানো এবং সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি মূলত নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত। এর সুবিধা হলো— দিনের বেলায় উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ প্রথমে সার্ভিস এরিয়ার নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে। এরপর যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জমা থাকে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় গ্রিডে চলে যায়। আবার রাতের বেলা বা মেঘলা দিনে যখন রোদ থাকে না, তখন প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড থেকে নেওয়া হয়। মাস শেষে এই দুই হিসাবের সমন্বয় (অ্যাডজাস্ট) করা হয়।
সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে সৌর প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে ৫৪ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহের বিপরীতে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৪ হাজার ইউনিট। ফলে, নেওয়ার চেয়ে গ্রিডে ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ বেশি দিয়েছে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ!
এই দুর্দান্ত সমন্বয়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে চলতি জুন ২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিলে। সার্ভিস এরিয়া-২ এর জন্য এই মাসে মূল বিদ্যুৎ বিল এসেছে একদম 'শূন্য' বা জিরো টাকা! কেবল ডিমান্ড চার্জ বাবদ সরকারি নির্ধারিত ৭৫ হাজার ৭১৪ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। অথচ, গত মে মাসে এই একই স্থাপনার বিদ্যুৎ বিল এসেছিল ৫ লাখ ২১ হাজার ৬৪ টাকা। ফলে এক মাসের ব্যবধানেই সরকারের সাশ্রয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এই উদ্যোগের সফলতা নিয়ে বলেন—
পদ্মা সেতুর মতো একটি জাতীয় স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই সফল প্রয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু আমাদের বিদ্যুৎ বাবদ খরচই কমাচ্ছে না, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতেও বিশ্বমঞ্চে বড় ভূমিকা রাখছে। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতির বাস্তবায়নে এই প্রকল্প একটি মাইলফলক।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখানেই শেষ নয়। পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১, ২ এবং ৩ মিলিয়ে সর্বমোট ৬ দশমিক ০৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিশাল সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সার্ভিস এরিয়া-২ প্রকল্পটি ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে চলে গেছে এবং বাকি সার্ভিস এরিয়া-১ ও ৩ এর নেট মিটারিং কার্যক্রম দ্রুত চালুর প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন