গতানুগতিক মেগা অবকাঠামো বা বড় বড় দালানকোঠা নির্মাণের চেনা ছক থেকে বেরিয়ে এবার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, তরুণদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রগতিশীল কর কাঠামোর দিকে নজর দিয়েছে নতুন সরকার। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রথম ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ স্লোগানকে সামনে রেখে তৈরি এই বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মহাসড়কে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রথম মহাপরিকল্পনা।
এবারের বাজেটের ৫টি প্রধান ভিন্নধর্মী দিক এবং তার প্রভাব নিচে সহজভাবে বিশ্লেষণ করা হলো :
বিগত বছরগুলোর বাজেটে যেখানে বড় বড় ঢালাই বা কংক্রিটের অবকাঠামোতে সিংহভাগ টাকা চলে যেত, এবারের বাজেট সেখানে এক ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত।
চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা আসছে আজ।
২৫ লাখ নাগরিকের ডিজিটাল চিকিৎসা: আমজনতার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির ই-হেলথ কার্ড কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
প্রান্তিক মানুষের পকেটে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দিতে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দ ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি থেকে একলাফে বাড়িয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে ৮টি নতুন কর্মসূচি:
জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদের সম্মাননা: বৈষম্যবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের জন্য আজীবন মাসিক সম্মাননা ভাতার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ড: ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪২ লাখ ৫০ হাজার চাষিকে কৃষক কার্ড-এর মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক ভর্তুকি দেওয়া হবে।
মসজিদ ও উপাসনালয়ের কর্মীদের স্বীকৃতি: দেশের ২ লাখ ৫৫ হাজারেরও বেশি ইমাম, মোয়াজ্জিন ও উপাসনালয়ের কর্মীদের জন্য চালু হচ্ছে সরকারি সম্মানি ভাতা।
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগাম টানতে অর্থমন্ত্রী এক বড় সাহসী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। চাল, ধান, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ দৈনন্দিন জীবনের ৬০টি মৌলিক ভোগ্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে করের হার কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এর ফলে আমদানিকৃত ও স্থানীয় নিত্যপণ্যের দাম বাজারে উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় বাংলাদেশের তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ও ক্রিয়েটিভিটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য জিরো ট্যাক্স: ফেসবুক, ইউটিউবসহ সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয়কে সম্পূর্ণ করমুক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে।
ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের ঢাল: এসএমই (SME) খাতের তরুণ ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ এবং নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে বার্ষিক ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ওপর কোনো আয়কর দিতে হবে না।
পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে বৈদ্যুতিক বাস, ট্রাক এবং চার্জিং স্টেশন আমদানির ওপর থাকা ৫ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। দেশে যারা ইলেকট্রিক গাড়ি (EV) ও আধুনিক ব্যাটারি বানাবে, সেইসব দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও বিদেশি বিনিয়োগ টানতে দীর্ঘমেয়াদি শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে।
জিডিপি (GDP) আকার: ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: ৬.৫% (লক্ষ্যমাত্রা)।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: ৭.৫% (নামিয়ে আনার লক্ষ্য)।
বাজেট ঘাটতি: ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা (যা মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার)।
বিষয় : বাজেট ২০২৬-২৭

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
গতানুগতিক মেগা অবকাঠামো বা বড় বড় দালানকোঠা নির্মাণের চেনা ছক থেকে বেরিয়ে এবার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, তরুণদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রগতিশীল কর কাঠামোর দিকে নজর দিয়েছে নতুন সরকার। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রথম ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ স্লোগানকে সামনে রেখে তৈরি এই বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মহাসড়কে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রথম মহাপরিকল্পনা।
এবারের বাজেটের ৫টি প্রধান ভিন্নধর্মী দিক এবং তার প্রভাব নিচে সহজভাবে বিশ্লেষণ করা হলো :
বিগত বছরগুলোর বাজেটে যেখানে বড় বড় ঢালাই বা কংক্রিটের অবকাঠামোতে সিংহভাগ টাকা চলে যেত, এবারের বাজেট সেখানে এক ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত।
চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা আসছে আজ।
২৫ লাখ নাগরিকের ডিজিটাল চিকিৎসা: আমজনতার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির ই-হেলথ কার্ড কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
প্রান্তিক মানুষের পকেটে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দিতে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দ ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি থেকে একলাফে বাড়িয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে ৮টি নতুন কর্মসূচি:
জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদের সম্মাননা: বৈষম্যবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের জন্য আজীবন মাসিক সম্মাননা ভাতার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ড: ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪২ লাখ ৫০ হাজার চাষিকে কৃষক কার্ড-এর মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক ভর্তুকি দেওয়া হবে।
মসজিদ ও উপাসনালয়ের কর্মীদের স্বীকৃতি: দেশের ২ লাখ ৫৫ হাজারেরও বেশি ইমাম, মোয়াজ্জিন ও উপাসনালয়ের কর্মীদের জন্য চালু হচ্ছে সরকারি সম্মানি ভাতা।
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগাম টানতে অর্থমন্ত্রী এক বড় সাহসী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। চাল, ধান, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ দৈনন্দিন জীবনের ৬০টি মৌলিক ভোগ্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে করের হার কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এর ফলে আমদানিকৃত ও স্থানীয় নিত্যপণ্যের দাম বাজারে উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় বাংলাদেশের তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ও ক্রিয়েটিভিটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য জিরো ট্যাক্স: ফেসবুক, ইউটিউবসহ সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয়কে সম্পূর্ণ করমুক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে।
ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের ঢাল: এসএমই (SME) খাতের তরুণ ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ এবং নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে বার্ষিক ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ওপর কোনো আয়কর দিতে হবে না।
পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে বৈদ্যুতিক বাস, ট্রাক এবং চার্জিং স্টেশন আমদানির ওপর থাকা ৫ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। দেশে যারা ইলেকট্রিক গাড়ি (EV) ও আধুনিক ব্যাটারি বানাবে, সেইসব দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও বিদেশি বিনিয়োগ টানতে দীর্ঘমেয়াদি শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে।
জিডিপি (GDP) আকার: ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: ৬.৫% (লক্ষ্যমাত্রা)।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: ৭.৫% (নামিয়ে আনার লক্ষ্য)।
বাজেট ঘাটতি: ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা (যা মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার)।

আপনার মতামত লিখুন