জাতীয় অর্থনীতির চাকাকে আরও গতিশীল করতে এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় একধাপ এগিয়ে গেল সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সর্বশেষ সভায় ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৫টি মেগা প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা প্রকল্প ঋণ হিসেবে সংস্থান করা হবে।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর দিকে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায়, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নদী শাসন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত ৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৩টি সম্পূর্ণ নতুন এবং ২টি সংশোধিত প্রকল্প। প্রকল্পগুলোর ভেতরের মূল লক্ষ্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
শিল্পায়নে গতি (চাইনিজ ইকোনমিক জোন): প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড INDUSTRIAL জোন প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে বড় গতি আনবে।
কুষ্টিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ (পদ্মা নদীর ভাঙন রোধ): পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়ার মিরপুর ও কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রক্ষা প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী পাস হয়েছে। এর ফলে পদ্মার আগ্রাসী ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে ফসলি জমি, ঐতিহ্যবাহী এলাকা ও হাজারো পরিবার।
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি (কারিগরি শিক্ষা): শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন পেয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
নদী ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ (করতোয়া ও মুহুরি নদী): এছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন এবং ফেনী জেলার মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেয়েছে।
একনেক সভাকে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত আরও ৪টি ছোট প্রকল্পের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ।
সাভারে নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপন।
শমসেরনগরে বিএএফ শাহীন কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন।
প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ত্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রমের চতুর্থ পর্যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই সভায় আরও অংশ নেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন নীতিনির্ধারকরা।
বিষয় : একনেক প্রকল্প অনুমোদন

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
জাতীয় অর্থনীতির চাকাকে আরও গতিশীল করতে এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় একধাপ এগিয়ে গেল সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সর্বশেষ সভায় ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৫টি মেগা প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা প্রকল্প ঋণ হিসেবে সংস্থান করা হবে।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর দিকে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায়, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নদী শাসন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত ৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৩টি সম্পূর্ণ নতুন এবং ২টি সংশোধিত প্রকল্প। প্রকল্পগুলোর ভেতরের মূল লক্ষ্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
শিল্পায়নে গতি (চাইনিজ ইকোনমিক জোন): প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড INDUSTRIAL জোন প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে বড় গতি আনবে।
কুষ্টিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ (পদ্মা নদীর ভাঙন রোধ): পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়ার মিরপুর ও কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রক্ষা প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী পাস হয়েছে। এর ফলে পদ্মার আগ্রাসী ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে ফসলি জমি, ঐতিহ্যবাহী এলাকা ও হাজারো পরিবার।
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি (কারিগরি শিক্ষা): শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন পেয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
নদী ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ (করতোয়া ও মুহুরি নদী): এছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন এবং ফেনী জেলার মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেয়েছে।
একনেক সভাকে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত আরও ৪টি ছোট প্রকল্পের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ।
সাভারে নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপন।
শমসেরনগরে বিএএফ শাহীন কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন।
প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ত্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রমের চতুর্থ পর্যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই সভায় আরও অংশ নেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন নীতিনির্ধারকরা।

আপনার মতামত লিখুন