চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আজ ছিল তিল ধারণের জায়গা নেই। দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় আর গগণবিদারী উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল, ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে কতটা ব্যাকুল ছিল দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। একপর্যায়ে সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমনের দুর্দান্ত ব্যাটিং তাণ্ডবে জয়ের সুবাসও পাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ক্রিকেট নির্মম, আর সেই নির্মমতার শিকার হয়ে শেষ ওভারের চরম ব্যর্থতায় আরও একবার পরাজিত দলেই থাকতে হলো টাইগারেদের। রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে মাত্র ৭ রানে জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরল সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।
গত পরশু একই মাঠে প্রথম টি-টোয়েন্টি হেরে এমনিতেই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল বাংলাদেশের। সিরিজ বাঁচিয়ে রাখার সমীকরণে আজ জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের সামনে। কিন্তু বোলারদের পর শেষ দিকে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সিরিজটা আগেভাগেই খুইয়ে ফেলল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আগামী পরশু চট্টগ্রামে দুই দলের মধ্যকার তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি এখন রূপ নিল স্রেফ নিয়মরক্ষার লড়াইয়ে।
এর আগে দুপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে ইনিংসের শুরুতেই বোলিংয়ে এসে আগুন ঝরান বাংলাদেশি বোলাররা। ফলে পাওয়ারপ্লের (প্রথম ৬ ওভার) মধ্যেই মাত্র ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়েছিল অজিরা।
কিন্তু বিপর্যয় কাটিয়ে চতুর্থ উইকেটে কাউন্টার অ্যাটাক শুরু করেন টিম ডেভিড ও ম্যাট রেনশ। এই দুই ব্যাটারের মাত্র ৫০ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ও সাইক্লোন জুটিতে চড়ে বড় স্কোরের পথে একচেটিয়া এগিয়ে যায় সফরকারীরা। দলীয় ১৪১ রানের মাথায় বিধ্বংসী ডেভিড (৪৫) এবং এরপর নিখিল চৌধুরী (৮) দ্রুত বিদায় নিলে ১৬ ওভারে সফরকারীদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৫৪ রান।
সঙ্গী হারালেও উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রেখে একাই তাণ্ডব চালিয়ে যান চার নম্বরে নামা বাঁহাতি ব্যাটার ম্যাট রেনশ। শেষ পর্যন্ত তিনি ৫২ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৮৯ রানের এক দানবীয় ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। মূলত তাঁর এই ৮৯ রানের ওপর ভর করেই ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের পাহাড় গড়ে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের হয়ে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট। এছাড়া আব্দুল গাফফার সাকলাইন, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান পান ১টি করে উইকেট।
১৯৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আজ রীতিমতো ঝোড়ো সূচনা করে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান মাত্র ২২ বলে স্কোরবোর্ডে ৪৮ রান যোগ করেন। চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে তামিমকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন অজি তারকা ম্যাট রেনশ। সাজঘরে ফেরার আগে ১৫ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩০ রান করেন তামিম।
তিন নম্বরে নেমে সৌম্য সরকারও ৩টি চারের সাহায্যে ঝোড়ো শুরুর আভাস দিয়েছিলেন, তবে ৯ বলে ১৫ রান করে তিনিও দ্রুত বিদায় নেন। এতে ৬.৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৭৭ রান। এমন চাপ তৈরি হওয়া মুহূর্তে প্রতিরোধ গড়েন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। এই দুই ব্যাটারের পাল্টা আক্রমণে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে জয়ের আশা দেখতে থাকেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। একটা পর্যায়ে ১২.৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১৩০ রান! অর্থাৎ জয়ের সমীকরণ তখন একদম হাতের মুঠোয়।
কিন্তু এই সেট জুটি ভাঙার পরই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। জয়ের এত কাছে গিয়েও শেষ দিকে ব্যাটারদের মন্থর ব্যাটিং ও দায়িত্বহীনতায় পুরো ২০ ওভার খেলে ৭ রান দূরে থাকতেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
অস্ট্রেলিয়া: ১৯৬/৫ (২০ ওভার)
ম্যাট রেনশ — ৮৯* (৫২ বল), টিম ডেভিড — ৪৫
নাসুম আহমেদ — ২/২৭, মোস্তাফিজুর রহমান — ১/৩৮
বাংলাদেশ: ১৮৯/৬ (২০ ওভার)
সাইফ হাসান —৪২, পারভেজ ইমন —৩৬, তানজিদ তামিম — ৩০
ম্যাট রেনশ — ১/১২
ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ রানে জয়ী।
সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আজ ছিল তিল ধারণের জায়গা নেই। দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় আর গগণবিদারী উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল, ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে কতটা ব্যাকুল ছিল দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। একপর্যায়ে সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমনের দুর্দান্ত ব্যাটিং তাণ্ডবে জয়ের সুবাসও পাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ক্রিকেট নির্মম, আর সেই নির্মমতার শিকার হয়ে শেষ ওভারের চরম ব্যর্থতায় আরও একবার পরাজিত দলেই থাকতে হলো টাইগারেদের। রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে মাত্র ৭ রানে জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরল সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।
গত পরশু একই মাঠে প্রথম টি-টোয়েন্টি হেরে এমনিতেই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল বাংলাদেশের। সিরিজ বাঁচিয়ে রাখার সমীকরণে আজ জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের সামনে। কিন্তু বোলারদের পর শেষ দিকে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সিরিজটা আগেভাগেই খুইয়ে ফেলল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আগামী পরশু চট্টগ্রামে দুই দলের মধ্যকার তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি এখন রূপ নিল স্রেফ নিয়মরক্ষার লড়াইয়ে।
এর আগে দুপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে ইনিংসের শুরুতেই বোলিংয়ে এসে আগুন ঝরান বাংলাদেশি বোলাররা। ফলে পাওয়ারপ্লের (প্রথম ৬ ওভার) মধ্যেই মাত্র ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়েছিল অজিরা।
কিন্তু বিপর্যয় কাটিয়ে চতুর্থ উইকেটে কাউন্টার অ্যাটাক শুরু করেন টিম ডেভিড ও ম্যাট রেনশ। এই দুই ব্যাটারের মাত্র ৫০ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ও সাইক্লোন জুটিতে চড়ে বড় স্কোরের পথে একচেটিয়া এগিয়ে যায় সফরকারীরা। দলীয় ১৪১ রানের মাথায় বিধ্বংসী ডেভিড (৪৫) এবং এরপর নিখিল চৌধুরী (৮) দ্রুত বিদায় নিলে ১৬ ওভারে সফরকারীদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৫৪ রান।
সঙ্গী হারালেও উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রেখে একাই তাণ্ডব চালিয়ে যান চার নম্বরে নামা বাঁহাতি ব্যাটার ম্যাট রেনশ। শেষ পর্যন্ত তিনি ৫২ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৮৯ রানের এক দানবীয় ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। মূলত তাঁর এই ৮৯ রানের ওপর ভর করেই ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের পাহাড় গড়ে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের হয়ে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট। এছাড়া আব্দুল গাফফার সাকলাইন, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান পান ১টি করে উইকেট।
১৯৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আজ রীতিমতো ঝোড়ো সূচনা করে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান মাত্র ২২ বলে স্কোরবোর্ডে ৪৮ রান যোগ করেন। চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে তামিমকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন অজি তারকা ম্যাট রেনশ। সাজঘরে ফেরার আগে ১৫ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩০ রান করেন তামিম।
তিন নম্বরে নেমে সৌম্য সরকারও ৩টি চারের সাহায্যে ঝোড়ো শুরুর আভাস দিয়েছিলেন, তবে ৯ বলে ১৫ রান করে তিনিও দ্রুত বিদায় নেন। এতে ৬.৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৭৭ রান। এমন চাপ তৈরি হওয়া মুহূর্তে প্রতিরোধ গড়েন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। এই দুই ব্যাটারের পাল্টা আক্রমণে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে জয়ের আশা দেখতে থাকেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। একটা পর্যায়ে ১২.৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১৩০ রান! অর্থাৎ জয়ের সমীকরণ তখন একদম হাতের মুঠোয়।
কিন্তু এই সেট জুটি ভাঙার পরই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। জয়ের এত কাছে গিয়েও শেষ দিকে ব্যাটারদের মন্থর ব্যাটিং ও দায়িত্বহীনতায় পুরো ২০ ওভার খেলে ৭ রান দূরে থাকতেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
অস্ট্রেলিয়া: ১৯৬/৫ (২০ ওভার)
ম্যাট রেনশ — ৮৯* (৫২ বল), টিম ডেভিড — ৪৫
নাসুম আহমেদ — ২/২৭, মোস্তাফিজুর রহমান — ১/৩৮
বাংলাদেশ: ১৮৯/৬ (২০ ওভার)
সাইফ হাসান —৪২, পারভেজ ইমন —৩৬, তানজিদ তামিম — ৩০
ম্যাট রেনশ — ১/১২
ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ রানে জয়ী।
সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

আপনার মতামত লিখুন