মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

এবার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল নেপাল

তীব্র বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ফুঁসছে জেন-জি নেপাল: প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে বিরোধী দলের প্রশ্ন

তীব্র বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ফুঁসছে জেন-জি নেপাল: প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে বিরোধী দলের প্রশ্ন
বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আর যুবকদের ক্রমবর্ধমান হতাশা নিয়ে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে নেপাল। ছবি: সংগৃহীত

তীব্র বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আর যুবকদের ক্রমবর্ধমান হতাশা নিয়ে ফের বড় ধরনের গণবিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে হিমালয়ের দেশ নেপাল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর (বালেন শাহ) পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী।

এই আন্দোলনের পেছনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে কাজ করেছে সাম্প্রতিক ৩টি মর্মান্তিক ঘটনা। কর্মসংস্থানের অভাব আর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হতাশায় ভুগে গত তিন দিনে নেপালে তিন তরুণ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে দু’জন ইতিমধ্যেই মারা গেছেন এবং অন্যজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আত্মহত্যার ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসার পর প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট অভিযোগ—বর্তমান সরকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান তৈরি করা, মানুষের আয় বাড়ানো কিংবা তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

নেপালের তরুণদের অধিকার নিয়ে কাজ করা যুব সংগঠন জেন-জি নেপাল সরাসরি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে। তাদের দাবি, বালেন শাহ সরকার জনবিরোধী ও স্বৈরাচারী কায়দায় শাসন চালাচ্ছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, সরকারের সাম্প্রতিক বাজেট ও রাষ্ট্রীয় নীতিতে যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা কিংবা আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়ার মতো কোনো বাস্তবমুখী পদক্ষেপই রাখা হয়নি।

অন্য দিকে এই সংকটকে পুঁজি করে বর্তমান সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বিরোধী দলগুলোও। নেপালের প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস এই পুরো পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। তাদের সাফ কথা—রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা ও অর্থনৈতিক নীতিহীনতার কারণেই দেশের তরুণদের আজ এই পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।


নেপালে যুব বেকারত্বের সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও, সাম্প্রতিক এই আত্মহত্যা ও গণবিক্ষোভ দেশটির রাজনীতিকে এক নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বালেন শাহর সরকার এই জনরোষ কীভাবে সামাল দেয়, নাকি শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী নেপাল পদত্যাগের দাবি বেকার নেপালে জেন জি বিক্ষোভ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


তীব্র বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ফুঁসছে জেন-জি নেপাল: প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে বিরোধী দলের প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

তীব্র বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আর যুবকদের ক্রমবর্ধমান হতাশা নিয়ে ফের বড় ধরনের গণবিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে হিমালয়ের দেশ নেপাল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর (বালেন শাহ) পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী।

এই আন্দোলনের পেছনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে কাজ করেছে সাম্প্রতিক ৩টি মর্মান্তিক ঘটনা। কর্মসংস্থানের অভাব আর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হতাশায় ভুগে গত তিন দিনে নেপালে তিন তরুণ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে দু’জন ইতিমধ্যেই মারা গেছেন এবং অন্যজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আত্মহত্যার ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসার পর প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট অভিযোগ—বর্তমান সরকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান তৈরি করা, মানুষের আয় বাড়ানো কিংবা তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

নেপালের তরুণদের অধিকার নিয়ে কাজ করা যুব সংগঠন জেন-জি নেপাল সরাসরি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে। তাদের দাবি, বালেন শাহ সরকার জনবিরোধী ও স্বৈরাচারী কায়দায় শাসন চালাচ্ছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, সরকারের সাম্প্রতিক বাজেট ও রাষ্ট্রীয় নীতিতে যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা কিংবা আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়ার মতো কোনো বাস্তবমুখী পদক্ষেপই রাখা হয়নি।

অন্য দিকে এই সংকটকে পুঁজি করে বর্তমান সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বিরোধী দলগুলোও। নেপালের প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস এই পুরো পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। তাদের সাফ কথা—রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা ও অর্থনৈতিক নীতিহীনতার কারণেই দেশের তরুণদের আজ এই পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।


নেপালে যুব বেকারত্বের সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও, সাম্প্রতিক এই আত্মহত্যা ও গণবিক্ষোভ দেশটির রাজনীতিকে এক নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বালেন শাহর সরকার এই জনরোষ কীভাবে সামাল দেয়, নাকি শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়—সেটাই এখন দেখার বিষয়।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো