একজন নিতান্তই সাধারণ মানুষের অসাধারণ জাদুকর হিসেবে আত্মপ্রকাশ ও উত্থানের নানা রোমাঞ্চকর ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘জাদুকর’। রাজীব হোসেনের কাহিনি ও চিত্রনাট্যে এটি নির্মাণ করেছেন গুণী অভিনেতা ও নির্মাত মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। এটি তাঁর নির্দেশনায় নির্মিত দ্বিতীয় ওয়েব ফিল্ম। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বৈচিত্র্যময় অভিনয়ে দারুণ দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার পর চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে ‘জ্বিনের বাচ্চা’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে খাতা খুলেছিলেন তিনি। ‘জাদুকর’ ওয়েব ফিল্মের কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ নামভূমিকায় রুপালি পর্দায় দেখা যাবে অভিনেতা শরীফ সিরাজকে। জাদুকরের চরিত্রটি নিখুঁত ও জীবন্ত করে তুলতে তিনি কোনো ছাড় দেননি; দীর্ঘ সময় নিয়ে পেশাদার জাদুকরের অধীনে নিবিড় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। গল্পে তাঁর বিপরীত চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাওয়ানা মাহমুদ। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন আনোয়ার হক, রশিদ হারুন, হোসাইন জীবন, আহসান স্মরণ, ফারজানা জলি, মিজান রহমান ও মাহমুদা সেতু। চলচ্চিত্রটির মূল সুর ও ভাবনা নিয়ে নির্মাতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান বলেন, “এটি মূলত এক জাদুকরের জীবনের গল্প হলেও এর গভীরে রয়েছে ভালোবাসার আবেদন। আমি বিশ্বাস করি, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাদুর নাম প্রেম বা ভালোবাসা। সচরাচর যেসব গল্প দেখা যায়, তা থেকে বেরিয়ে একটু আলাদা ও ছকভাঙা ধাঁচে কাজ করার চেষ্টা ছিল। দর্শক এখানে মূল কাহিনীর পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক হররের (সাইকোলজিক্যাল হরর) একটা রোমাঞ্চকর স্বাদও পাবেন।” হলিউডের বিশ্ববিখ্যাত ‘নাউ ইউ সি মি’ এবং ‘দ্য প্রেসটিজ’-এর মতো সিনেমা থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথা জানিয়ে নির্মাতা আরও বলেন, নিজের পরিচালিত প্রথম কাজটির আগেই রাজীব হোসেনের কাছ থেকে এই চমৎকার গল্পটি শোনেন তিনি এবং তখনই এটি ভিজ্যুয়ালি পর্দায় ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। মুভির ভিজ্যুয়াল পরিবেশ তৈরিতেও ছিল বিশেষ নজর। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের এক নিরিবিলি ও নির্জন এলাকায় কয়েক মাস আগে টানা দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। গল্পের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে শুটিং দল সেখানে নতুন কিছু গাছ রোপণ করে এবং একটি কৃত্রিম ঘাটও নির্মাণ করে। বর্তমানে দৃশ্যধারণ ও সম্পাদনা (পোস্ট-প্রোডাকশন) শেষ করে মুক্তির জন্য পুরোপুরি তৈরি ‘জাদুকর’। তবে এটি কোন ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে দেখতে পাবেন দর্শক, তা নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওটিটিগুলোর সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। দ্রুতই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
তবে দেশীয় প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রচার কৌশল নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্মাতা বলেন, আমাদের এখানে অনেক চমৎকার কাজ নির্মিত হলেও সঠিক বিপণন ও প্রচারের অভাবে সেগুলো সাধারণ দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। কেবল রিলস বা শর্টস দেখা দর্শকদের জন্য নয়, কনটেন্ট বানাতে হবে সেই বিপুলসংখ্যক দর্শকের জন্য যারা মানসম্মত গল্প দেখতে মুখিয়ে থাকেন। দর্শক তৈরির এই ভাবনা না থাকলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একজন নিতান্তই সাধারণ মানুষের অসাধারণ জাদুকর হিসেবে আত্মপ্রকাশ ও উত্থানের নানা রোমাঞ্চকর ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘জাদুকর’। রাজীব হোসেনের কাহিনি ও চিত্রনাট্যে এটি নির্মাণ করেছেন গুণী অভিনেতা ও নির্মাত মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। এটি তাঁর নির্দেশনায় নির্মিত দ্বিতীয় ওয়েব ফিল্ম। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বৈচিত্র্যময় অভিনয়ে দারুণ দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার পর চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে ‘জ্বিনের বাচ্চা’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে খাতা খুলেছিলেন তিনি। ‘জাদুকর’ ওয়েব ফিল্মের কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ নামভূমিকায় রুপালি পর্দায় দেখা যাবে অভিনেতা শরীফ সিরাজকে। জাদুকরের চরিত্রটি নিখুঁত ও জীবন্ত করে তুলতে তিনি কোনো ছাড় দেননি; দীর্ঘ সময় নিয়ে পেশাদার জাদুকরের অধীনে নিবিড় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। গল্পে তাঁর বিপরীত চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাওয়ানা মাহমুদ। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন আনোয়ার হক, রশিদ হারুন, হোসাইন জীবন, আহসান স্মরণ, ফারজানা জলি, মিজান রহমান ও মাহমুদা সেতু। চলচ্চিত্রটির মূল সুর ও ভাবনা নিয়ে নির্মাতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান বলেন, “এটি মূলত এক জাদুকরের জীবনের গল্প হলেও এর গভীরে রয়েছে ভালোবাসার আবেদন। আমি বিশ্বাস করি, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাদুর নাম প্রেম বা ভালোবাসা। সচরাচর যেসব গল্প দেখা যায়, তা থেকে বেরিয়ে একটু আলাদা ও ছকভাঙা ধাঁচে কাজ করার চেষ্টা ছিল। দর্শক এখানে মূল কাহিনীর পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক হররের (সাইকোলজিক্যাল হরর) একটা রোমাঞ্চকর স্বাদও পাবেন।” হলিউডের বিশ্ববিখ্যাত ‘নাউ ইউ সি মি’ এবং ‘দ্য প্রেসটিজ’-এর মতো সিনেমা থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথা জানিয়ে নির্মাতা আরও বলেন, নিজের পরিচালিত প্রথম কাজটির আগেই রাজীব হোসেনের কাছ থেকে এই চমৎকার গল্পটি শোনেন তিনি এবং তখনই এটি ভিজ্যুয়ালি পর্দায় ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। মুভির ভিজ্যুয়াল পরিবেশ তৈরিতেও ছিল বিশেষ নজর। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের এক নিরিবিলি ও নির্জন এলাকায় কয়েক মাস আগে টানা দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। গল্পের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে শুটিং দল সেখানে নতুন কিছু গাছ রোপণ করে এবং একটি কৃত্রিম ঘাটও নির্মাণ করে। বর্তমানে দৃশ্যধারণ ও সম্পাদনা (পোস্ট-প্রোডাকশন) শেষ করে মুক্তির জন্য পুরোপুরি তৈরি ‘জাদুকর’। তবে এটি কোন ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে দেখতে পাবেন দর্শক, তা নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওটিটিগুলোর সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। দ্রুতই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। তবে দেশীয় প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রচার কৌশল নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্মাতা বলেন, আমাদের এখানে অনেক চমৎকার কাজ নির্মিত হলেও সঠিক বিপণন ও প্রচারের অভাবে সেগুলো সাধারণ দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। কেবল রিলস বা শর্টস দেখা দর্শকদের জন্য নয়, কনটেন্ট বানাতে হবে সেই বিপুলসংখ্যক দর্শকের জন্য যারা মানসম্মত গল্প দেখতে মুখিয়ে থাকেন। দর্শক তৈরির এই ভাবনা না থাকলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না।

আপনার মতামত লিখুন