মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

খাগড়াছড়ি ভ্রমণ

পাহাড়ের রানি খাগড়াছড়ি: মেঘ-পাহাড় আর ঝরনার মায়াবী হাতছানি

পাহাড়ের রানি খাগড়াছড়ি: মেঘ-পাহাড় আর ঝরনার মায়াবী হাতছানি
ছবি : সংগৃহীত

চারদিকে সবুজ পাহাড়ের সারি, মাঝখান দিয়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলে গেছে পিচঢালা সড়ক। কোথাও মেঘের খেলা, কোথাও আবার পাহাড়ের বুক চিরে ঝরনার শীতল ধারা। প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এ সময়ের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে পাহাড়ের রানি খ্যাত খাগড়াছড়ি।

পাহাড় আর বনের চিরচেনা রূপের বাইরেও খাগড়াছড়িতে রয়েছে এমন কিছু দর্শনীয় স্থান, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করতে বাধ্য।

রহস্যময় আলুটিলা সুড়ঙ্গ ও রিসাং ঝরনা:

শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এক রহস্যময় সুড়ঙ্গ। মশাল হাতে সুড়ঙ্গের এক প্রান্ত দিয়ে ঢুকে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হওয়া পর্যটকদের জন্য এক দারুণ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। সূর্যাস্তের পর এখান থেকে পুরো খাগড়াছড়ি শহরের আলোকসজ্জা উপভোগ করা যায়। আলুটিলা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে তৈইবাকলাই বা রিসাং ঝরনা, যার স্বচ্ছ জলধারা ক্লান্ত পথিককে মুহূর্তেই সতেজ করে তোলে।

নিউজিল্যান্ডপাড়া ও মায়াবিনী লেক:

শহরের খুব কাছেই পানখাইয়াপাড়া ও পেরাছড়া নিয়ে গঠিত নিউজিল্যান্ডপাড়া। সড়কের ওপর বসে পাহাড় দেখা এবং নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত উপভোগের জন্য এটি সেরা জায়গা। অন্যদিকে, জেলা শহর থেকে ২০ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে মায়াবিনী লেক। উঁচু-নিচু পাহাড়ের ভাঁজে বাঁধ দিয়ে তৈরি এই লেকে নৌকা ভ্রমণের পাশাপাশি পাহাড়ের শান্ত রূপ উপভোগ করা যায়।

দেবতা পুকুর ও তৈদুছড়া ঝরনা:

মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়িতে ৭৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত মাতাই পুখিরি বা দেবতা পুকুর। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই পুকুরের পানি কখনো কমে না বা পরিষ্কার করতে হয় না। যারা একটু বেশি রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, তাদের জন্য দীঘিনালার তৈদুছড়া ঝরনা হতে পারে সেরা পছন্দ। বড় বড় পাথরের মাঝ দিয়ে পাহাড়ি পথ পেরিয়ে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন দেখতে দেখতে এখানে পৌঁছানো যায়।

কিভাবে যাবেন ও কোথায় থাকবেন?

ঢাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনের এসি ও নন-এসি বাসে সরাসরি খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়। এসি বাসের ভাড়া ১,৭০০ টাকা এবং নন-এসি বাসের ভাড়া ৭৫০ টাকা। শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় নামার পর পর্যটন মোটেলসহ বিভিন্ন মানের হোটেলে ১,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকায় থাকা সম্ভব।

ঘুরে দেখার জন্য খাগড়াছড়ি গেট এলাকা থেকে নির্ধারিত ভাড়ায় চাঁদের গাড়ি, পিকআপ বা মাহিন্দ্র ভাড়া করা যায়। তবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি :

  • অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে আগে থেকেই হোটেল ও গাড়ি বুকিং নিশ্চিত করুন।
  • ঝরনার পিচ্ছিল পাথরে সাবধানে হাঁটুন।
  • স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন।
  • প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলে পাহাড়ের পরিবেশ নষ্ট করবেন না।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


পাহাড়ের রানি খাগড়াছড়ি: মেঘ-পাহাড় আর ঝরনার মায়াবী হাতছানি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

চারদিকে সবুজ পাহাড়ের সারি, মাঝখান দিয়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলে গেছে পিচঢালা সড়ক। কোথাও মেঘের খেলা, কোথাও আবার পাহাড়ের বুক চিরে ঝরনার শীতল ধারা। প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এ সময়ের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে পাহাড়ের রানি খ্যাত খাগড়াছড়ি।

পাহাড় আর বনের চিরচেনা রূপের বাইরেও খাগড়াছড়িতে রয়েছে এমন কিছু দর্শনীয় স্থান, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করতে বাধ্য।

রহস্যময় আলুটিলা সুড়ঙ্গ ও রিসাং ঝরনা:

শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এক রহস্যময় সুড়ঙ্গ। মশাল হাতে সুড়ঙ্গের এক প্রান্ত দিয়ে ঢুকে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হওয়া পর্যটকদের জন্য এক দারুণ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। সূর্যাস্তের পর এখান থেকে পুরো খাগড়াছড়ি শহরের আলোকসজ্জা উপভোগ করা যায়। আলুটিলা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে তৈইবাকলাই বা রিসাং ঝরনা, যার স্বচ্ছ জলধারা ক্লান্ত পথিককে মুহূর্তেই সতেজ করে তোলে।

নিউজিল্যান্ডপাড়া ও মায়াবিনী লেক:

শহরের খুব কাছেই পানখাইয়াপাড়া ও পেরাছড়া নিয়ে গঠিত নিউজিল্যান্ডপাড়া। সড়কের ওপর বসে পাহাড় দেখা এবং নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত উপভোগের জন্য এটি সেরা জায়গা। অন্যদিকে, জেলা শহর থেকে ২০ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে মায়াবিনী লেক। উঁচু-নিচু পাহাড়ের ভাঁজে বাঁধ দিয়ে তৈরি এই লেকে নৌকা ভ্রমণের পাশাপাশি পাহাড়ের শান্ত রূপ উপভোগ করা যায়।

দেবতা পুকুর ও তৈদুছড়া ঝরনা:

মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়িতে ৭৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত মাতাই পুখিরি বা দেবতা পুকুর। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই পুকুরের পানি কখনো কমে না বা পরিষ্কার করতে হয় না। যারা একটু বেশি রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, তাদের জন্য দীঘিনালার তৈদুছড়া ঝরনা হতে পারে সেরা পছন্দ। বড় বড় পাথরের মাঝ দিয়ে পাহাড়ি পথ পেরিয়ে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন দেখতে দেখতে এখানে পৌঁছানো যায়।

কিভাবে যাবেন ও কোথায় থাকবেন?

ঢাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনের এসি ও নন-এসি বাসে সরাসরি খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়। এসি বাসের ভাড়া ১,৭০০ টাকা এবং নন-এসি বাসের ভাড়া ৭৫০ টাকা। শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় নামার পর পর্যটন মোটেলসহ বিভিন্ন মানের হোটেলে ১,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকায় থাকা সম্ভব।

ঘুরে দেখার জন্য খাগড়াছড়ি গেট এলাকা থেকে নির্ধারিত ভাড়ায় চাঁদের গাড়ি, পিকআপ বা মাহিন্দ্র ভাড়া করা যায়। তবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি :

  • অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে আগে থেকেই হোটেল ও গাড়ি বুকিং নিশ্চিত করুন।
  • ঝরনার পিচ্ছিল পাথরে সাবধানে হাঁটুন।
  • স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন।
  • প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলে পাহাড়ের পরিবেশ নষ্ট করবেন না।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো