উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে আবারও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার গ্রিস উপকূলে নৌকা ডুবে অন্তত ১৮ থেকে ২০ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, দালালের খপ্পরে পড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার এই ‘মরণযাত্রা’ থামছে না।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও গ্রিক কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তবরুক বন্দর থেকে একটি ছোট রাবার বোটে করে যাত্রা শুরু করেছিল ৪৩ জনের একটি দল। এর মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। মাঝ সমুদ্রে দিক হারিয়ে টানা ছয় দিন খাবার ও পানি ছাড়াই ভাসতে থাকে নৌকাটি। ক্ষুধার তীব্রতা এবং বৈরী আবহাওয়ায় একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ১৮-২০ জন।
উদ্ধার হওয়া এক বেঁচে যাওয়া তরুণের ভাষ্যমতে, দালালেরা বড় নৌকার কথা বলে তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দিয়েছিল। কোনো জিপিএস বা যোগাযোগ সরঞ্জামও ছিল না তাদের কাছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।
বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, প্রতি বছর লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি প্রাণ হারাচ্ছেন। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে মানব পাচার আইনে তদন্তাধীন ও বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৪,৪৮০টি। সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন দালালকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। তবে মূল হোতারা লিবিয়া বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করায় তাদের আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল আইন দিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। দালালরা গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষকে "গেম ঘর" (লিবিয়ায় বন্দিশালা)-এর প্রকৃত চিত্র না বলে ইউরোপের জৌলুসপূর্ণ জীবনের স্বপ্ন দেখায়। সিলেটের মতো অঞ্চলগুলো থেকে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নূর এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, "আমরা বারবার সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছি। মানুষের জীবন টাকা বা সম্পদের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। অবৈধ পথে এই মরণযাত্রা কেবল ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করছে।"

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে আবারও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার গ্রিস উপকূলে নৌকা ডুবে অন্তত ১৮ থেকে ২০ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, দালালের খপ্পরে পড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার এই ‘মরণযাত্রা’ থামছে না।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও গ্রিক কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তবরুক বন্দর থেকে একটি ছোট রাবার বোটে করে যাত্রা শুরু করেছিল ৪৩ জনের একটি দল। এর মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। মাঝ সমুদ্রে দিক হারিয়ে টানা ছয় দিন খাবার ও পানি ছাড়াই ভাসতে থাকে নৌকাটি। ক্ষুধার তীব্রতা এবং বৈরী আবহাওয়ায় একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ১৮-২০ জন।
উদ্ধার হওয়া এক বেঁচে যাওয়া তরুণের ভাষ্যমতে, দালালেরা বড় নৌকার কথা বলে তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দিয়েছিল। কোনো জিপিএস বা যোগাযোগ সরঞ্জামও ছিল না তাদের কাছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।
বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, প্রতি বছর লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি প্রাণ হারাচ্ছেন। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে মানব পাচার আইনে তদন্তাধীন ও বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৪,৪৮০টি। সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন দালালকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। তবে মূল হোতারা লিবিয়া বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করায় তাদের আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল আইন দিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। দালালরা গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষকে "গেম ঘর" (লিবিয়ায় বন্দিশালা)-এর প্রকৃত চিত্র না বলে ইউরোপের জৌলুসপূর্ণ জীবনের স্বপ্ন দেখায়। সিলেটের মতো অঞ্চলগুলো থেকে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নূর এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, "আমরা বারবার সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছি। মানুষের জীবন টাকা বা সম্পদের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। অবৈধ পথে এই মরণযাত্রা কেবল ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করছে।"

আপনার মতামত লিখুন