মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

সুন্দরবন মধু আহরণ মৌসুম ২০২৬ - বনদস্যু আতঙ্ক ও সরকারি প্রস্তুতি

সুন্দরবনে শুরু হচ্ছে মধু আহরণ: বনদস্যু আতঙ্কের মাঝেও জীবিকার লড়াইয়ে মৌয়ালরা

সুন্দরবনে শুরু হচ্ছে মধু আহরণ: বনদস্যু আতঙ্কের মাঝেও জীবিকার লড়াইয়ে মৌয়ালরা
ছবি : সংগৃহীত

সব প্রস্তুতি শেষ, এবার সুন্দরবনের গহীনে মধু সংগ্রহের পালা। আজ বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মধু আহরণ মৌসুম। আগামী দুই মাস মৌয়ালরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনের ১১৪টি কূপ থেকে মধু ও মোম সংগ্রহ করবেন। তবে এবার উৎসবের আমেজের চেয়ে মৌয়ালদের মধ্যে বনদস্যু আতঙ্ক ও চাঁদাবাজির উদ্বেগই বেশি কাজ করছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে সাম্প্রতিক সময়ে বনদস্যুদের তৎপরতা ও চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মৌয়ালরা ভীত। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা এলাকার মৌয়াল দলনেতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, তারা ১২ জনের দল নিয়ে প্রস্তুত থাকলেও ডাকাতদের ভয়ে আতঙ্কিত। অনেক মৌয়ালের অভিযোগ, বনে ঢোকার আগেই মাথা পিছু ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করছে বিভিন্ন চক্র।

হরিনগর গ্রামের মৌয়াল আলমগীর হোসেনের ভাষ্য, বাঘ-কুমিরের ভয় আমাদের চিরচেনা, কিন্তু ডাকাতের ভয় এবার সব আনন্দ মাটি করে দিচ্ছে। অনেক মৌয়াল দস্যু আতঙ্কে এবার বনে যেতেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।


সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১০০ কুইন্টাল এবং মোম ৬০০ কুইন্টাল। গত মৌসুমে (২০২৪-২৫) ৮৫৪.৫ কুইন্টাল মধু এবং ২৭৫.৫ কুইন্টাল মোম সংগ্রহ করা হয়েছিল।

এবারই প্রথম পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জেই সবচেয়ে বেশি মধু আহরণ হয়। মৌয়ালদের নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ড, র‍্যাব ও বন বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

মৌয়ালদের অভিযোগ, মধু মৌসুম শুরুর আগেই কিছু অসাধু ব্যক্তি মাছ ধরার পারমিট নিয়ে বনে ঢুকে অপরিপক্ব চাক থেকে মধু কেটে নিয়েছে। এই ভেজাল ও অপরিণত মধু বর্তমানে পাইকারি বাজারে ১২০০-১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা প্রকৃত মৌয়ালদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বন বিভাগ আশা করছে, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। তবে মৌয়ালদের দাবি, শুধু টহল নয়, বনদস্যুদের দমনে কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নিলে সুন্দরবনের এই ঐতিহ্যবাহী পেশা হুমকির মুখে পড়বে।

বিষয় : দৈনিক নতুন আলো সুন্দরবন মধু_আহরণ মৌয়াল সাতক্ষীরা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


সুন্দরবনে শুরু হচ্ছে মধু আহরণ: বনদস্যু আতঙ্কের মাঝেও জীবিকার লড়াইয়ে মৌয়ালরা

প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সব প্রস্তুতি শেষ, এবার সুন্দরবনের গহীনে মধু সংগ্রহের পালা। আজ বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মধু আহরণ মৌসুম। আগামী দুই মাস মৌয়ালরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনের ১১৪টি কূপ থেকে মধু ও মোম সংগ্রহ করবেন। তবে এবার উৎসবের আমেজের চেয়ে মৌয়ালদের মধ্যে বনদস্যু আতঙ্ক ও চাঁদাবাজির উদ্বেগই বেশি কাজ করছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে সাম্প্রতিক সময়ে বনদস্যুদের তৎপরতা ও চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মৌয়ালরা ভীত। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা এলাকার মৌয়াল দলনেতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, তারা ১২ জনের দল নিয়ে প্রস্তুত থাকলেও ডাকাতদের ভয়ে আতঙ্কিত। অনেক মৌয়ালের অভিযোগ, বনে ঢোকার আগেই মাথা পিছু ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করছে বিভিন্ন চক্র।

হরিনগর গ্রামের মৌয়াল আলমগীর হোসেনের ভাষ্য, বাঘ-কুমিরের ভয় আমাদের চিরচেনা, কিন্তু ডাকাতের ভয় এবার সব আনন্দ মাটি করে দিচ্ছে। অনেক মৌয়াল দস্যু আতঙ্কে এবার বনে যেতেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।


সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১০০ কুইন্টাল এবং মোম ৬০০ কুইন্টাল। গত মৌসুমে (২০২৪-২৫) ৮৫৪.৫ কুইন্টাল মধু এবং ২৭৫.৫ কুইন্টাল মোম সংগ্রহ করা হয়েছিল।

এবারই প্রথম পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জেই সবচেয়ে বেশি মধু আহরণ হয়। মৌয়ালদের নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ড, র‍্যাব ও বন বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

মৌয়ালদের অভিযোগ, মধু মৌসুম শুরুর আগেই কিছু অসাধু ব্যক্তি মাছ ধরার পারমিট নিয়ে বনে ঢুকে অপরিপক্ব চাক থেকে মধু কেটে নিয়েছে। এই ভেজাল ও অপরিণত মধু বর্তমানে পাইকারি বাজারে ১২০০-১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা প্রকৃত মৌয়ালদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


বন বিভাগ আশা করছে, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। তবে মৌয়ালদের দাবি, শুধু টহল নয়, বনদস্যুদের দমনে কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নিলে সুন্দরবনের এই ঐতিহ্যবাহী পেশা হুমকির মুখে পড়বে।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো