মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখবে ৯টি হাইড্রেটিং ড্রিংকস

তীব্র গরমে শুধু পানিই যথেষ্ট নয়: শরীর সতেজ রাখবে ৯টি হাইড্রেটিং ড্রিংকস

তীব্র গরমে শুধু পানিই যথেষ্ট নয়: শরীর সতেজ রাখবে ৯টি হাইড্রেটিং ড্রিংকস
হাইড্রেটিং ড্রিংকস হলো এমন পানীয়, যা ঘামের মাধ্যমে হারানো তরল, ইলেকট্রোলাইট এবং প্রয়োজনীয় খনিজ পুনরুদ্ধারের জন্য পান করা হয়। ছবি : সংগৃহীত

গ্রীষ্মের তীব্র তাপ খুব দ্রুত আমাদের শরীরের শক্তি নিঃশেষ করে দিতে পারে। ফলে রৌদ্রোজ্জ্বল ও গুমোট দিনগুলোয় শরীর ক্লান্ত, পানিশূন্য (Dehydrated) ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। গ্রীষ্মকালে সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান করা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু তাপমাত্রা যখন মাত্রাতিরিক্ত বেশি হয়, তখন শুধু সাধারণ পানি পান করাই শরীরের জন্য যথেষ্ট নয়। এমন সময়েই খাদ্যতালিকায় রাখতে হয় বিশেষ হাইড্রেটিং ড্রিংকস।

হাইড্রেটিং ড্রিংকস হলো এমন কিছু বিশেষ পানীয়, যা ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে হারানো তরল, ইলেকট্রোলাইট এবং প্রয়োজনীয় খনিজ দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। এগুলো সাধারণ পানির মতো নয়; এগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন বা অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান থাকে। ফলে এটি শরীরের ভেতরে কোষগুলোতে পানি, ভিটামিন ও খনিজের সঠিক ভারসাম্য খুব দ্রুত ফিরিয়ে আনে।

তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি গরমে হারানো পুষ্টি উপাদান পুনরায় পূরণ করতে নিচের পানীয়গুলো ম্যাজিকের মতো কাজ করে :

  • ডাবের পানি : প্রাকৃতিকভাবে পটাশিয়ামের মতো উপাদানে সমৃদ্ধ হওয়ায় ডাবের পানি তাৎক্ষণিক সতেজতা ফিরিয়ে আনতে অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক হাইড্রেটিং ড্রিংক। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকার পর এটি পান করলে শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়।
  • লেবুর পানি : খুব সহজে তৈরি করা যায় এই শক্তিশালী পানীয়। লেবুর পানি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করতে (ডিটক্সিফাই) এবং ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ করতে সাহায্য করে। এটি খাবার হজমেও বেশ দারুণ কাজ করে।
  • তরমুজের রস : উচ্চ জলীয় উপাদান এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় তরমুজের রস শরীরে পানির ঘাটতি চোখের পলকে দূর করে শরীরকে শক্তিতে ভরপুর রাখে।
  • শসা-পুদিনা মেশানো পানি : হালকা, শীতল এবং ভীষণ সতেজ এই ডিটক্স ওয়াটারটি গ্রীষ্মের দুপুরে শরীরে পানির মাত্রা ঠিক রাখতে এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখতে চমত্কার ভূমিকা পালন করে।
  • অ্যালোভেরার রস : এটি মূলত এর প্রশান্তিদায়ক বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। প্রচণ্ড গরমে পেট ঠান্ডা রাখতে এবং খাবার হজমের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে অ্যালোভেরার রস মেশানো পানি পান করতে পারেন।
  • নারকেল-লেবুর ইলেকট্রোলাইট পানীয় : শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রয়োজনীয় খনিজ এবং লবণের ঘাটতি পূরণ করে এই কাস্টম পানীয়। বাইরে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর এটি পান করলে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে।
  • ঠান্ডা গ্রিন টি : প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই পানীয় কোষের ক্ষয় রোধ করে। গ্রীষ্মের দুপুরে ক্লান্তি দূর করতে বরফ দেওয়া ঠান্ডা গ্রিন টি (Iced Green Tea) দারুণ একটি বিকল্প।
  • চিয়া বীজ ভেজানো পানি : চিয়া বীজ প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে। ফলে এই পানি পান করলে শরীর দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেটেড থাকে। একই সাথে এটি আপনার শরীরে আঁশ (Fiber) এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের জোগান দেয়।
  • আখের রস : প্রাকৃতিক শক্তিবর্ধক বা ‘এনার্জি বুস্টার’ হিসেবে আখের রস শরীর তাৎক্ষণিকভাবে ঠান্ডা করতে সহায়ক। এর প্রাকৃতিক শর্করা ও খনিজ নিমিষেই ক্লান্তি দূর করে।


কখন ও কাদের এই পানীয়গুলো পান করা উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের যেকোনো অলস সময়ে এই পানীয়গুলো খাওয়া ভালো হলেও নিচের সময়গুলোতে এগুলো সবচেয়ে বেশি কার্যকর :

১. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরকে চাঙ্গা করতে।

২. নিয়মিত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রমের আগে ও পরে।

3. দীর্ঘক্ষণ রোদে চলাফেরা করার পর বা তীব্র ঘাম ঝরলে।

৪. দুপুরের দিকে যখন শরীরের এনার্জি বা শক্তি কমতে শুরু করে।

৫. গরম আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘ ভ্রমণের সময়।

যান্ত্রিক এই গরমে সুস্থ থাকতে কৃত্রিম এনার্জি ড্রিংকস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোল্ড ড্রিংকস পরিহার করে এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর ওপর ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বিষয় : স্বাস্থ্য জেনে নিন স্বাস্থ্যঝুঁকি স্বাস্থ্যবিধি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


তীব্র গরমে শুধু পানিই যথেষ্ট নয়: শরীর সতেজ রাখবে ৯টি হাইড্রেটিং ড্রিংকস

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

গ্রীষ্মের তীব্র তাপ খুব দ্রুত আমাদের শরীরের শক্তি নিঃশেষ করে দিতে পারে। ফলে রৌদ্রোজ্জ্বল ও গুমোট দিনগুলোয় শরীর ক্লান্ত, পানিশূন্য (Dehydrated) ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। গ্রীষ্মকালে সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান করা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু তাপমাত্রা যখন মাত্রাতিরিক্ত বেশি হয়, তখন শুধু সাধারণ পানি পান করাই শরীরের জন্য যথেষ্ট নয়। এমন সময়েই খাদ্যতালিকায় রাখতে হয় বিশেষ হাইড্রেটিং ড্রিংকস।

হাইড্রেটিং ড্রিংকস হলো এমন কিছু বিশেষ পানীয়, যা ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে হারানো তরল, ইলেকট্রোলাইট এবং প্রয়োজনীয় খনিজ দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। এগুলো সাধারণ পানির মতো নয়; এগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন বা অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান থাকে। ফলে এটি শরীরের ভেতরে কোষগুলোতে পানি, ভিটামিন ও খনিজের সঠিক ভারসাম্য খুব দ্রুত ফিরিয়ে আনে।

তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি গরমে হারানো পুষ্টি উপাদান পুনরায় পূরণ করতে নিচের পানীয়গুলো ম্যাজিকের মতো কাজ করে :

  • ডাবের পানি : প্রাকৃতিকভাবে পটাশিয়ামের মতো উপাদানে সমৃদ্ধ হওয়ায় ডাবের পানি তাৎক্ষণিক সতেজতা ফিরিয়ে আনতে অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক হাইড্রেটিং ড্রিংক। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকার পর এটি পান করলে শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়।
  • লেবুর পানি : খুব সহজে তৈরি করা যায় এই শক্তিশালী পানীয়। লেবুর পানি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করতে (ডিটক্সিফাই) এবং ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ করতে সাহায্য করে। এটি খাবার হজমেও বেশ দারুণ কাজ করে।
  • তরমুজের রস : উচ্চ জলীয় উপাদান এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় তরমুজের রস শরীরে পানির ঘাটতি চোখের পলকে দূর করে শরীরকে শক্তিতে ভরপুর রাখে।
  • শসা-পুদিনা মেশানো পানি : হালকা, শীতল এবং ভীষণ সতেজ এই ডিটক্স ওয়াটারটি গ্রীষ্মের দুপুরে শরীরে পানির মাত্রা ঠিক রাখতে এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখতে চমত্কার ভূমিকা পালন করে।
  • অ্যালোভেরার রস : এটি মূলত এর প্রশান্তিদায়ক বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। প্রচণ্ড গরমে পেট ঠান্ডা রাখতে এবং খাবার হজমের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে অ্যালোভেরার রস মেশানো পানি পান করতে পারেন।
  • নারকেল-লেবুর ইলেকট্রোলাইট পানীয় : শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রয়োজনীয় খনিজ এবং লবণের ঘাটতি পূরণ করে এই কাস্টম পানীয়। বাইরে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর এটি পান করলে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে।
  • ঠান্ডা গ্রিন টি : প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই পানীয় কোষের ক্ষয় রোধ করে। গ্রীষ্মের দুপুরে ক্লান্তি দূর করতে বরফ দেওয়া ঠান্ডা গ্রিন টি (Iced Green Tea) দারুণ একটি বিকল্প।
  • চিয়া বীজ ভেজানো পানি : চিয়া বীজ প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে। ফলে এই পানি পান করলে শরীর দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেটেড থাকে। একই সাথে এটি আপনার শরীরে আঁশ (Fiber) এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের জোগান দেয়।
  • আখের রস : প্রাকৃতিক শক্তিবর্ধক বা ‘এনার্জি বুস্টার’ হিসেবে আখের রস শরীর তাৎক্ষণিকভাবে ঠান্ডা করতে সহায়ক। এর প্রাকৃতিক শর্করা ও খনিজ নিমিষেই ক্লান্তি দূর করে।


কখন ও কাদের এই পানীয়গুলো পান করা উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের যেকোনো অলস সময়ে এই পানীয়গুলো খাওয়া ভালো হলেও নিচের সময়গুলোতে এগুলো সবচেয়ে বেশি কার্যকর :

১. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরকে চাঙ্গা করতে।

২. নিয়মিত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রমের আগে ও পরে।

3. দীর্ঘক্ষণ রোদে চলাফেরা করার পর বা তীব্র ঘাম ঝরলে।

৪. দুপুরের দিকে যখন শরীরের এনার্জি বা শক্তি কমতে শুরু করে।

৫. গরম আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘ ভ্রমণের সময়।

যান্ত্রিক এই গরমে সুস্থ থাকতে কৃত্রিম এনার্জি ড্রিংকস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোল্ড ড্রিংকস পরিহার করে এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর ওপর ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো