টানা ১৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রবহমান কুমার নদের বুকে আবারও আছড়ে পড়ল প্রথাগত বৈঠার ছন্দ। ব্যাপক রাজনৈতিক টানাপোড়েনে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর, প্রায় দুই শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা নতুন উৎসবে মেতে ওঠে।
শ্রীশ্রী বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই বাইচ দেখতে নদীপাড়ের ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নেমেছিল লক্ষাধিক উৎসুক জনতার ঢল।
শুক্রবার বিকেল চারটা থেকে পৌনে ছয়টা পর্যন্ত ভাঙ্গা পৌরসভার সোনাখোলা মরিচপট্টি থেকে শুরু হয়ে ছিলাধর মহল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত কুমার নদে এক চমৎকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সার্বিক উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ছোট-বড় মিলিয়ে ২৬টি দৃষ্টিনন্দন বাইচের নৌকা অংশ নেয়। যার মধ্যে কোনো কোনোটি ছিল ১২০ থেকে ১৪০ ফুট পর্যন্ত দীর্ঘ। হরেক রঙের পোশাকে সজ্জিত মাঝিদের সুর আর বৈঠার তালের শব্দে পুরো এলাকা এক কাব্যিক আমেজে ভরে ওঠে।
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রামবাংলার শেকড়সন্ধানী সংস্কৃতিই প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের পরিচয় বহন করে। ভাঙ্গার এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন দেশের লোকসংস্কৃতিকে আবারও নতুন আলো দেখাবে।
অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ও বিশেষ অতিথি ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, বিগত দিনে হিংসাত্মক রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে পড়ে আমাদের শত বছরের এই আনন্দ-উৎসব থমকে ছিল। শেকড়ের টানে দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে আজ ভাঙ্গাবাসী এক ছাদের নিচে জড়ো হয়েছে। আগামী বছর থেকে আরও বড় পরিসরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই বাইচ আয়োজনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী মোল্লাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
নৌকা বাইচ উপলক্ষে কুমার নদের দুই পাড়ে ও আশপাশের এলাকায় বসেছিল গ্রামীণ আনন্দ মেলা। যেখানে মিষ্টি, খেলনা ও গৃহস্থালি নানা সামগ্রী নিয়ে পসরা সাজান শাতাধিক হকার ও ব্যবসায়ী। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ বিজয়ী দলগুলোর হাতে ১ম পুরস্কার হিসেবে ফ্রিজ এবং সৌজন্য উপহারস্বরূপ এলইডি টেলিভিশন তুলে দেন।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টানা ১৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রবহমান কুমার নদের বুকে আবারও আছড়ে পড়ল প্রথাগত বৈঠার ছন্দ। ব্যাপক রাজনৈতিক টানাপোড়েনে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর, প্রায় দুই শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা নতুন উৎসবে মেতে ওঠে।
শ্রীশ্রী বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই বাইচ দেখতে নদীপাড়ের ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নেমেছিল লক্ষাধিক উৎসুক জনতার ঢল।
শুক্রবার বিকেল চারটা থেকে পৌনে ছয়টা পর্যন্ত ভাঙ্গা পৌরসভার সোনাখোলা মরিচপট্টি থেকে শুরু হয়ে ছিলাধর মহল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত কুমার নদে এক চমৎকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সার্বিক উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ছোট-বড় মিলিয়ে ২৬টি দৃষ্টিনন্দন বাইচের নৌকা অংশ নেয়। যার মধ্যে কোনো কোনোটি ছিল ১২০ থেকে ১৪০ ফুট পর্যন্ত দীর্ঘ। হরেক রঙের পোশাকে সজ্জিত মাঝিদের সুর আর বৈঠার তালের শব্দে পুরো এলাকা এক কাব্যিক আমেজে ভরে ওঠে।
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রামবাংলার শেকড়সন্ধানী সংস্কৃতিই প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের পরিচয় বহন করে। ভাঙ্গার এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন দেশের লোকসংস্কৃতিকে আবারও নতুন আলো দেখাবে।
অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ও বিশেষ অতিথি ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, বিগত দিনে হিংসাত্মক রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে পড়ে আমাদের শত বছরের এই আনন্দ-উৎসব থমকে ছিল। শেকড়ের টানে দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে আজ ভাঙ্গাবাসী এক ছাদের নিচে জড়ো হয়েছে। আগামী বছর থেকে আরও বড় পরিসরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই বাইচ আয়োজনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী মোল্লাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
নৌকা বাইচ উপলক্ষে কুমার নদের দুই পাড়ে ও আশপাশের এলাকায় বসেছিল গ্রামীণ আনন্দ মেলা। যেখানে মিষ্টি, খেলনা ও গৃহস্থালি নানা সামগ্রী নিয়ে পসরা সাজান শাতাধিক হকার ও ব্যবসায়ী। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ বিজয়ী দলগুলোর হাতে ১ম পুরস্কার হিসেবে ফ্রিজ এবং সৌজন্য উপহারস্বরূপ এলইডি টেলিভিশন তুলে দেন।

আপনার মতামত লিখুন