মুকসুদপুর    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
আপডেট : মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

মুকসুদপুরে অক্টোবরে ১১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৮ জন

মুকসুদপুরে অক্টোবরে ১১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৮ জন

শীতে বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি: সচেতনতায় যা করণীয়

শীতে বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি: সচেতনতায় যা করণীয়

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট: দুর্ভোগে সাধারণ রোগীরা

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট: দুর্ভোগে সাধারণ রোগীরা

মার্কস নার্সিং কলেজে জরায়ুমুখ ক্যান্সার সচেতনতা ও প্রতিরোধ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

মার্কস নার্সিং কলেজে জরায়ুমুখ ক্যান্সার সচেতনতা ও প্রতিরোধ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফরিদগঞ্জে শীত সামনে রেখে নকল প্রসাধনীর বিস্তার, ঝুঁকিতে চর্মস্বাস্থ্য

ফরিদগঞ্জে শীত সামনে রেখে নকল প্রসাধনীর বিস্তার, ঝুঁকিতে চর্মস্বাস্থ্য

মুকসুদপুর হাসপাতালে রোগীদের হয়রানি বন্ধের তাগিদ: সাংবাদিকদের সাথে ডা. ভীষ্মদেবের মতবিনিময়

মুকসুদপুর হাসপাতালে রোগীদের হয়রানি বন্ধের তাগিদ: সাংবাদিকদের সাথে ডা. ভীষ্মদেবের মতবিনিময়

মুকসুদপুরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন: সুস্থ জাতি গঠনে মায়ের দুধের বিকল্প নেই

মুকসুদপুরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন: সুস্থ জাতি গঠনে মায়ের দুধের বিকল্প নেই

গোপালগঞ্জ হার্ট ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম খুব শিগগিরই শুরু হবে: সেলিমুজ্জামান সেলিম এমপি

গোপালগঞ্জ হার্ট ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম খুব শিগগিরই শুরু হবে: সেলিমুজ্জামান সেলিম এমপি

স্বাস্থ্য

মুকসুদপুরে অক্টোবরে ১১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৮ জন

মুকসুদপুরে অক্টোবরে ১১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৮ জন
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন আক্রান্ত রোগীরা; ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। —ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবার সামগ্রিক চিত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যানে জানা গেছে, অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা হাসপাতালে ১১৫ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা প্রদানে প্রাণহানি যেমন এড়ানো গেছে, তেমনি সুস্থতার হারও সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ভর্তি হওয়া মোট ১১৫ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে সুস্থ হয়ে নিরাপদ বোধ করায় ইতোমধ্যে ৯৮ জন রোগী নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। অন্যদিকে, তুলনামূলক জটিল লক্ষণে আক্রান্ত ১৭ জন রোগীকে আরও উন্নত ও বিশেষজ্ঞ সেবার জন্য জেলা বা ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করা হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো, উক্ত সময়ে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গুজনিত কারণে কোনো রোগীর মৃত্যু ঘটেনি।

এদিকে শরৎ ও হেমন্তের এই সন্ধিক্ষণে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মূল বাহক এডিস মশার বংশবৃদ্ধি (breeding site) ধ্বংস করা অত্যন্ত জরুরি।

এজন্য বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশে কোনো অবস্থাতেই খোলা স্থানে পানি জমতে না দেওয়া, জমে থাকা ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পাত্র কিংবা টায়ার নিয়মিত পরিষ্কার রাখার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে ঘুমানোর সময় আবশ্যিকভাবে মশারি ব্যবহার করা এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে প্রতিরোধমূলক স্প্রে ও মশারোধক ক্রিম ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।

মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা আরও জানান, বর্ষা পরবর্তী সময়ে জ্বরের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়। যদি কোনো ব্যক্তির জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, চোখ বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা মারাত্মক শ্বাসকষ্টের মতো কোনো জটিল উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।


স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে মূল বার্তা প্রদান করে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো জনসচেতনতা ও সর্বাত্মক পরিচ্ছন্নতা। একা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে ডেঙ্গু সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়; বরং স্থানীয় সকল স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই মুকসুদপুর উপজেলাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখা সম্ভব।

বিষয় : গোপালগঞ্জ ডেঙ্গু পরিষ্কার প্রতিরোধ মশা মুকসুদপুর রোগী স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

মুকসুদপুরে অক্টোবরে ১১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৮ জন
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক নতুন আলো

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


মুকসুদপুরে অক্টোবরে ১১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৮ জন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবার সামগ্রিক চিত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যানে জানা গেছে, অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা হাসপাতালে ১১৫ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা প্রদানে প্রাণহানি যেমন এড়ানো গেছে, তেমনি সুস্থতার হারও সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ভর্তি হওয়া মোট ১১৫ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে সুস্থ হয়ে নিরাপদ বোধ করায় ইতোমধ্যে ৯৮ জন রোগী নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। অন্যদিকে, তুলনামূলক জটিল লক্ষণে আক্রান্ত ১৭ জন রোগীকে আরও উন্নত ও বিশেষজ্ঞ সেবার জন্য জেলা বা ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করা হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো, উক্ত সময়ে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গুজনিত কারণে কোনো রোগীর মৃত্যু ঘটেনি।

এদিকে শরৎ ও হেমন্তের এই সন্ধিক্ষণে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মূল বাহক এডিস মশার বংশবৃদ্ধি (breeding site) ধ্বংস করা অত্যন্ত জরুরি।

এজন্য বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশে কোনো অবস্থাতেই খোলা স্থানে পানি জমতে না দেওয়া, জমে থাকা ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পাত্র কিংবা টায়ার নিয়মিত পরিষ্কার রাখার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে ঘুমানোর সময় আবশ্যিকভাবে মশারি ব্যবহার করা এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে প্রতিরোধমূলক স্প্রে ও মশারোধক ক্রিম ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।

মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা আরও জানান, বর্ষা পরবর্তী সময়ে জ্বরের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়। যদি কোনো ব্যক্তির জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, চোখ বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা মারাত্মক শ্বাসকষ্টের মতো কোনো জটিল উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে মূল বার্তা প্রদান করে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো জনসচেতনতা ও সর্বাত্মক পরিচ্ছন্নতা। একা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে ডেঙ্গু সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়; বরং স্থানীয় সকল স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই মুকসুদপুর উপজেলাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখা সম্ভব।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো