কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন–বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে শেফালী আক্তার (৫৮) কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে থানায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মী মো. হেলাল (৪১) ও মেহেদী হাসানকে (৩৩) প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বাদী শেফালী আক্তার নিজেকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের সোহেল রানার (৪৬) খালা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের মধ্যে সোহেল রানা একজন। তিনি লাকসাম উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের প্রয়াত আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী।
দুর্ঘটনাটি ঘটে ঈদের দিন শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশুসহ মোট ১২ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১০ জন, যারা সবাই বাসের যাত্রী ছিলেন।
ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, দায়িত্বরত গেটম্যানের দায়িত্বহীনতার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ অভিযোগে ওই ক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে মামলার নথিতে একজনকে অস্থায়ী গেটম্যান এবং অপরজনকে ওয়েম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান আসামি মো. হেলাল কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে এবং পদুয়া বাজার রেলগেট নম্বর ই/৪৭-এ অস্থায়ী গেটম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্য আসামি মেহেদী হাসান একই উপজেলার বাহিরীপাড়া এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে, যিনি ওই লেভেল ক্রসিংয়ে ওয়েম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য আজ দুপুরে তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।
বিষয় : কুমিল্লা পদুয়ার বাজার ট্রেন–বাস সংঘর্ষ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মার্চ ২০২৬
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন–বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে শেফালী আক্তার (৫৮) কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে থানায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মী মো. হেলাল (৪১) ও মেহেদী হাসানকে (৩৩) প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বাদী শেফালী আক্তার নিজেকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের সোহেল রানার (৪৬) খালা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের মধ্যে সোহেল রানা একজন। তিনি লাকসাম উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের প্রয়াত আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী।
দুর্ঘটনাটি ঘটে ঈদের দিন শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশুসহ মোট ১২ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১০ জন, যারা সবাই বাসের যাত্রী ছিলেন।
ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, দায়িত্বরত গেটম্যানের দায়িত্বহীনতার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ অভিযোগে ওই ক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে মামলার নথিতে একজনকে অস্থায়ী গেটম্যান এবং অপরজনকে ওয়েম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান আসামি মো. হেলাল কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে এবং পদুয়া বাজার রেলগেট নম্বর ই/৪৭-এ অস্থায়ী গেটম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্য আসামি মেহেদী হাসান একই উপজেলার বাহিরীপাড়া এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে, যিনি ওই লেভেল ক্রসিংয়ে ওয়েম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য আজ দুপুরে তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন