দীর্ঘ ২৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার ধোপাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান লাকী। তবে তাঁর এই বিদায় বেলাটি ছিল সচরাচর অনুষ্ঠানের চেয়ে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ও রাজকীয়। প্রিয় শিক্ষককে রাজকীয় সম্মান জানাতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আয়োজন করেন এক অভিনব সংবর্ধনার, যেখানে ফুল দিয়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন তিনি।
রোববার (২২ মার্চ) ধোপাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বিদায় বেলায় আবেগাপ্লুত হয়ে শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান লাকী বলেন, আমি চেষ্টা করেছি আমার দায়িত্ব সৎভাবে পালন করতে। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর ভালোবাসা আমি কখনো ভুলব না। আজকের এই রাজকীয় সম্মান আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, তোমরা সবাই ভালো মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজের সেবায় আত্মনিয়োগ করবে—এটাই আমার শেষ প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক জনি আহমেদ তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, স্যার শুধু আমাদের শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক। তাঁর শাসন ও ভালোবাসা আমাদের জীবনে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাই আমরা চেয়েছি তাঁর বিদায়টা যেন স্মরণীয় হয়ে থাকে। আরেক শিক্ষার্থী রাউফীল জানান, স্যারের কাছ থেকে তাঁরা শুধু পাঠ্যবই নয়, বরং শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার শিক্ষা পেয়েছেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে এক জাঁকজমকপূর্ণ শোভাযাত্রার মাধ্যমে ফুল দিয়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে শত শত এলাকাবাসী তাঁকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা ও বিদায় জানান। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনটি পুরো এলাকায় ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, মো. মিজানুর রহমান লাকী ২০০২ সালে ধোপাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ সফল কর্মজীবন শেষে ২০২৬ সালে অবসরে যান।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬
দীর্ঘ ২৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার ধোপাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান লাকী। তবে তাঁর এই বিদায় বেলাটি ছিল সচরাচর অনুষ্ঠানের চেয়ে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ও রাজকীয়। প্রিয় শিক্ষককে রাজকীয় সম্মান জানাতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আয়োজন করেন এক অভিনব সংবর্ধনার, যেখানে ফুল দিয়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন তিনি।
রোববার (২২ মার্চ) ধোপাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বিদায় বেলায় আবেগাপ্লুত হয়ে শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান লাকী বলেন, আমি চেষ্টা করেছি আমার দায়িত্ব সৎভাবে পালন করতে। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর ভালোবাসা আমি কখনো ভুলব না। আজকের এই রাজকীয় সম্মান আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, তোমরা সবাই ভালো মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজের সেবায় আত্মনিয়োগ করবে—এটাই আমার শেষ প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক জনি আহমেদ তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, স্যার শুধু আমাদের শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক। তাঁর শাসন ও ভালোবাসা আমাদের জীবনে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাই আমরা চেয়েছি তাঁর বিদায়টা যেন স্মরণীয় হয়ে থাকে। আরেক শিক্ষার্থী রাউফীল জানান, স্যারের কাছ থেকে তাঁরা শুধু পাঠ্যবই নয়, বরং শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার শিক্ষা পেয়েছেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে এক জাঁকজমকপূর্ণ শোভাযাত্রার মাধ্যমে ফুল দিয়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে শত শত এলাকাবাসী তাঁকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা ও বিদায় জানান। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনটি পুরো এলাকায় ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, মো. মিজানুর রহমান লাকী ২০০২ সালে ধোপাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ সফল কর্মজীবন শেষে ২০২৬ সালে অবসরে যান।

আপনার মতামত লিখুন