মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

কৃষকের চোখে এখন শুধুই ক্ষতির হিসাব!

মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: বিপাকে কৃষক, মাঠে নষ্ট হচ্ছে পাকা গম

মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: বিপাকে কৃষক, মাঠে নষ্ট হচ্ছে পাকা গম

মেহেরপুর জেলাজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কৃষি খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। একদিকে মাঠে গম কাটার সময় বয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ডিজেলের অভাবে হারভেস্টার মেশিন নামানো সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে এক মানবিক ও কৃষি সংকটের মুখে পড়েছে সীমান্তবর্তী এই জেলা।

জেলার ১৭টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে ১৪টি চালু থাকলেও সেগুলোতে তেলের সরবরাহ নেই বললেই চলে। সোমবার (২৩ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, ১০টি পাম্পের মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল দেওয়া হচ্ছে। যেখানে দৈনিক ৫ হাজার লিটার তেলের চাহিদা, সেখানে বরাদ্দ মিলছে মাত্র ৩ হাজার লিটার।

চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে ১৩ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও চৈত্রের ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক গম মাটিতে নুয়ে পড়েছে। নুয়ে পড়া এই ফসল ঘরে তুলতে হারভেস্টার মেশিনের বিকল্প নেই। কিন্তু ডিজেল সংকটে হারভেস্টার মালিকরা মাঠে মেশিন নামাতে পারছেন না।

গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামের কৃষক আনসার আলী আক্ষেপ করে বলেন, এক সপ্তাহ আগেই গম কাটার উপযুক্ত হয়েছে। কিন্তু তেলের অভাবে মেশিন পাচ্ছি না। আকাশে মেঘ জমলে বুক কাঁপে, সব কষ্ট বুঝি মাঠেই মাটি হয়! একই গ্রামের কৃষক লিটন আহমেদ জানান, গত বছর বিঘাপ্রতি মাড়াই খরচ ১৫০০-১৭০০ টাকা হলেও এবার তেলের দোহাই দিয়ে ২৫০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে।

শুধু মাড়াই নয়, তেলের অভাবে সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ শ্রমিক এখন ইটভাটায় কর্মরত থাকায় হারভেস্টারের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের। হারভেস্টার মালিক জমির উদ্দিন জানান, বাধ্য হয়ে বেশি দামে মজুদদারদের কাছ থেকে তেল কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে কৃষকদের ওপর।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবার জেলায় ৫৩ হাজার ৫৬৬ টন গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মেহেরপুরের হাজারো কৃষকের সোনালি স্বপ্ন মাঠেই ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।

বিষয় : মেহেরপুর হারভেস্টার ফসল তেল

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: বিপাকে কৃষক, মাঠে নষ্ট হচ্ছে পাকা গম

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

মেহেরপুর জেলাজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কৃষি খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। একদিকে মাঠে গম কাটার সময় বয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ডিজেলের অভাবে হারভেস্টার মেশিন নামানো সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে এক মানবিক ও কৃষি সংকটের মুখে পড়েছে সীমান্তবর্তী এই জেলা।

জেলার ১৭টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে ১৪টি চালু থাকলেও সেগুলোতে তেলের সরবরাহ নেই বললেই চলে। সোমবার (২৩ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, ১০টি পাম্পের মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল দেওয়া হচ্ছে। যেখানে দৈনিক ৫ হাজার লিটার তেলের চাহিদা, সেখানে বরাদ্দ মিলছে মাত্র ৩ হাজার লিটার।

চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে ১৩ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও চৈত্রের ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক গম মাটিতে নুয়ে পড়েছে। নুয়ে পড়া এই ফসল ঘরে তুলতে হারভেস্টার মেশিনের বিকল্প নেই। কিন্তু ডিজেল সংকটে হারভেস্টার মালিকরা মাঠে মেশিন নামাতে পারছেন না।

গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামের কৃষক আনসার আলী আক্ষেপ করে বলেন, এক সপ্তাহ আগেই গম কাটার উপযুক্ত হয়েছে। কিন্তু তেলের অভাবে মেশিন পাচ্ছি না। আকাশে মেঘ জমলে বুক কাঁপে, সব কষ্ট বুঝি মাঠেই মাটি হয়! একই গ্রামের কৃষক লিটন আহমেদ জানান, গত বছর বিঘাপ্রতি মাড়াই খরচ ১৫০০-১৭০০ টাকা হলেও এবার তেলের দোহাই দিয়ে ২৫০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে।

শুধু মাড়াই নয়, তেলের অভাবে সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ শ্রমিক এখন ইটভাটায় কর্মরত থাকায় হারভেস্টারের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের। হারভেস্টার মালিক জমির উদ্দিন জানান, বাধ্য হয়ে বেশি দামে মজুদদারদের কাছ থেকে তেল কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে কৃষকদের ওপর।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবার জেলায় ৫৩ হাজার ৫৬৬ টন গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মেহেরপুরের হাজারো কৃষকের সোনালি স্বপ্ন মাঠেই ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো