মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলসংকটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। বিশেষ করে অবেদনবিদ (অ্যানেসথেটিস্ট) ও সার্জনের অভাবে গত চার বছরে এই হাসপাতালে মাত্র একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর অস্ত্রোপচার (সিজার) সম্পন্ন হয়েছে। ফলে চার লক্ষাধিক মানুষের এই উপজেলায় অসহায় রোগীরা বাধ্য হয়ে চড়া মূল্যে বেসরকারি ক্লিনিকে সেবা নিচ্ছেন।
১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি ২০০৬ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। নতুন ভবনে ২০১৭ সাল থেকে পুরোদমে সেবা কার্যক্রম শুরু হলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে অপারেশন থিয়েটার ও কোটি টাকা মূল্যের এক্স-রে মেশিন এখন ধুলার আস্তরণে ঢাকা পড়ে নষ্ট হচ্ছে। মরিচা ধরছে শল্যচিকিৎসার সরঞ্জামে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১১৭টি অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭০ জন। শূন্য পদের সংখ্যা ৪৭টি।
চিকিৎসা নিতে আসা মাহবুব তানিম জানান, সরকারি হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো অপারেশন হয় না, এক্স-রেও বন্ধ। গরিব মানুষের পক্ষে বেসরকারি ক্লিনিকে হাজার হাজার টাকা খরচ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। পা ভেঙে যাওয়া রোগী আব্দুল বারী জানান, এক্স-রে সুবিধা না থাকায় তাকে বাধ্য হয়ে বাইরের ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করাতে হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল আজিজ জানান, অ্যানেসথেটিস্ট ও সার্জন না থাকায় অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে গত চার বছরের মধ্যে মাত্র একটি সিজারিয়ান অপারেশন করা সম্ভব হয়েছিল। জনবল সমস্যার সমাধান হলে দ্রুতই অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব হবে।
মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদা এ প্রসঙ্গে বলেন, সার্জারি ও অ্যানেসথেটিস্ট পদের পাশাপাশি এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি আমরা জানি। দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলসংকটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। বিশেষ করে অবেদনবিদ (অ্যানেসথেটিস্ট) ও সার্জনের অভাবে গত চার বছরে এই হাসপাতালে মাত্র একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর অস্ত্রোপচার (সিজার) সম্পন্ন হয়েছে। ফলে চার লক্ষাধিক মানুষের এই উপজেলায় অসহায় রোগীরা বাধ্য হয়ে চড়া মূল্যে বেসরকারি ক্লিনিকে সেবা নিচ্ছেন।
১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি ২০০৬ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। নতুন ভবনে ২০১৭ সাল থেকে পুরোদমে সেবা কার্যক্রম শুরু হলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে অপারেশন থিয়েটার ও কোটি টাকা মূল্যের এক্স-রে মেশিন এখন ধুলার আস্তরণে ঢাকা পড়ে নষ্ট হচ্ছে। মরিচা ধরছে শল্যচিকিৎসার সরঞ্জামে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১১৭টি অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭০ জন। শূন্য পদের সংখ্যা ৪৭টি।
চিকিৎসা নিতে আসা মাহবুব তানিম জানান, সরকারি হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো অপারেশন হয় না, এক্স-রেও বন্ধ। গরিব মানুষের পক্ষে বেসরকারি ক্লিনিকে হাজার হাজার টাকা খরচ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। পা ভেঙে যাওয়া রোগী আব্দুল বারী জানান, এক্স-রে সুবিধা না থাকায় তাকে বাধ্য হয়ে বাইরের ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করাতে হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল আজিজ জানান, অ্যানেসথেটিস্ট ও সার্জন না থাকায় অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে গত চার বছরের মধ্যে মাত্র একটি সিজারিয়ান অপারেশন করা সম্ভব হয়েছিল। জনবল সমস্যার সমাধান হলে দ্রুতই অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব হবে।
মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদা এ প্রসঙ্গে বলেন, সার্জারি ও অ্যানেসথেটিস্ট পদের পাশাপাশি এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি আমরা জানি। দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি।

আপনার মতামত লিখুন