গোপালগঞ্জ জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৩ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১০ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একজনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে ১২ জন শিশু গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে ৩০ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
মুকসুদপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নিয়ে মুকসুদপুরে পরিদর্শন করছেন সিভিল সার্জনঃ ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক
জেলায় হামের রোগ নির্ণয়ের জন্য কোনো পরীক্ষাগার না থাকায় নমুনা ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। একটি নমুনার ফল পেতে সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে, তবে চাপ বেশি থাকলে তা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় নিতে পারে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট শিশুদের পাশে উদ্বিগ্ন বাবা-মায়েরা সারাক্ষণ পাশে বসে আছেন। সন্তানদের সুস্থতার অপেক্ষায় তাদের দিন কাটছে উৎকণ্ঠার মধ্যে।
হঠাৎ করে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসাধীন শিশুদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে ২০ শয্যার একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেশ বিশ্বাস। তিনি বলেন, শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নিতে হবে এবং হামের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক জানান, শুধু গোপালগঞ্জ নয়, দেশের কোনো জেলা পর্যায়েই হামের পরীক্ষাগার নেই। তাই নমুনা ঢাকায় পাঠিয়েই পরীক্ষা করা হয়। তবে রোগের লক্ষণ স্পষ্ট থাকায় চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, জেলার সব সরকারি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা প্রদান, নমুনা সংগ্রহ এবং বিষয়টি সিভিল সার্জন কার্যালয়কে জানাতে হবে।
গোপালগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক হাম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মুকসুদপুর উপজেলা পরিদর্শন করছেন
উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের তুহিন শেখের ১০ মাস বয়সী মেয়ে তুবা ইসলাম তোহা জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরে তার শ্বাসকষ্ট ও সারা শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দেয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে গত ২৭ মার্চ সে মারা যায়। এই ঘটনার পরপরই জেলায় হামের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল আক্রান্ত এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেয় এবং আশপাশের এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
গোপালগঞ্জ জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৩ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১০ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একজনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে ১২ জন শিশু গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে ৩০ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
মুকসুদপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নিয়ে মুকসুদপুরে পরিদর্শন করছেন সিভিল সার্জনঃ ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক
জেলায় হামের রোগ নির্ণয়ের জন্য কোনো পরীক্ষাগার না থাকায় নমুনা ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। একটি নমুনার ফল পেতে সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে, তবে চাপ বেশি থাকলে তা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় নিতে পারে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট শিশুদের পাশে উদ্বিগ্ন বাবা-মায়েরা সারাক্ষণ পাশে বসে আছেন। সন্তানদের সুস্থতার অপেক্ষায় তাদের দিন কাটছে উৎকণ্ঠার মধ্যে।
হঠাৎ করে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসাধীন শিশুদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে ২০ শয্যার একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেশ বিশ্বাস। তিনি বলেন, শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নিতে হবে এবং হামের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক জানান, শুধু গোপালগঞ্জ নয়, দেশের কোনো জেলা পর্যায়েই হামের পরীক্ষাগার নেই। তাই নমুনা ঢাকায় পাঠিয়েই পরীক্ষা করা হয়। তবে রোগের লক্ষণ স্পষ্ট থাকায় চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, জেলার সব সরকারি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা প্রদান, নমুনা সংগ্রহ এবং বিষয়টি সিভিল সার্জন কার্যালয়কে জানাতে হবে।
গোপালগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক হাম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মুকসুদপুর উপজেলা পরিদর্শন করছেন
উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের তুহিন শেখের ১০ মাস বয়সী মেয়ে তুবা ইসলাম তোহা জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরে তার শ্বাসকষ্ট ও সারা শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দেয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে গত ২৭ মার্চ সে মারা যায়। এই ঘটনার পরপরই জেলায় হামের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল আক্রান্ত এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেয় এবং আশপাশের এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন