মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

রঙিন ফুলে ভরে উঠল চেঙ্গী নদীর তীর।

রঙের ছোঁয়ায় বিদায় ও বরণ: খাগড়াছড়িতে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী বিজু উৎসব

রঙের ছোঁয়ায় বিদায় ও বরণ: খাগড়াছড়িতে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী বিজু উৎসব
বিজু উৎসব উপলক্ষে চেঙ্গি নদীতে ফুল ভাসাতে আসেন চাকমা নারী, পুরুষ ও শিশুরা। ছবি : সংগৃহীত

পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব—বিজু। পাহাড়ি জনপদের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি আজ রোববার থেকে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই বর্ণিল আয়োজনের প্রথম দিনে সকালে বিভিন্ন পাড়া থেকে আসা চাকমা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোররা চেঙ্গী নদীর তীরে ভিড় জমান।

উৎসবের প্রথম দিনটি ফুল বিজু হিসেবে পালিত হয়। ভোরে সূর্য ওঠার আগেই সব বয়সী মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে ফুল সংগ্রহ করেন। এরপর ঐতিহ্যবাহী পোশাক—নারীরা পিনন-হাদি ও গয়না, আর পুরুষেরা ধুতি-ফতুয়া পরে চেঙ্গী নদীর তীরে সমবেত হন।

কলাপাতায় নানা রঙের ফুল সাজিয়ে নদীর পানিতে ভাসিয়ে গঙ্গা দেবতাকে উৎসর্গ করেন তাঁরা। প্রার্থনা করেন সারা বছর যেন পরিবার ও সমাজ শান্তিতে কাটায়। নদী ও এর আশপাশের এলাকা যেন রঙিন ফুলে ফুলে ভরে ওঠে, আর শিশুদের আনন্দ-উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ফুল দিয়ে সাজানো হয় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা।


উৎসবের তিন দিন

উৎসবের এই তিন দিনের আলাদা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে :

  • প্রথম দিন (ফুল বিজু): ফুল সংগ্রহ ও নদীতে ফুল ভাসিয়ে দেবতাকে সন্তুষ্ট করার দিন।
  • দ্বিতীয় দিন (মূল বিজু): আগামীকাল সোমবার পালিত হবে মূল বিজু। এদিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং ঐতিহ্যবাহী পাঁচন রান্নাসহ নানা মুখরোচক খাবারের মধ্য দিয়ে চলে অতিথি আপ্যায়ন।
  • তৃতীয় দিন (গইজ্যাপইজ্যা): উৎসবের শেষ দিনটি হলো বিশ্রামের দিন বা গইজ্যাপইজ্যা।


ফুল দিতে আসা দীপ্তি চাকমা বলেন, নদীর তীরে মোমবাতি জ্বালিয়ে আমরা প্রার্থনা করি, যাতে নতুন বছরটি আমাদের ভালো কাটে এবং পরিবারের সবাই সুস্থ থাকে। সুপ্তা চাকমা ও রিটন চাকমা জানান, আজ ফুল বিজুর মাধ্যমেই মূলত উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে এবং আগামীকাল মূল বিজু উদযাপনের জন্য এখন জোর প্রস্তুতি চলছে।

পাহাড়ি ঐতিহ্যের এই বিজু উৎসব শুধু চাকমা সম্প্রদায় নয়, বরং আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনারই এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।

বিষয় : বিজু উৎসব চাকমা সম্প্রদায় খাগড়াছড়ি পাহাড়ি সংস্কৃতি বাংলা নববর্ষ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


রঙের ছোঁয়ায় বিদায় ও বরণ: খাগড়াছড়িতে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী বিজু উৎসব

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব—বিজু। পাহাড়ি জনপদের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি আজ রোববার থেকে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই বর্ণিল আয়োজনের প্রথম দিনে সকালে বিভিন্ন পাড়া থেকে আসা চাকমা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোররা চেঙ্গী নদীর তীরে ভিড় জমান।

উৎসবের প্রথম দিনটি ফুল বিজু হিসেবে পালিত হয়। ভোরে সূর্য ওঠার আগেই সব বয়সী মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে ফুল সংগ্রহ করেন। এরপর ঐতিহ্যবাহী পোশাক—নারীরা পিনন-হাদি ও গয়না, আর পুরুষেরা ধুতি-ফতুয়া পরে চেঙ্গী নদীর তীরে সমবেত হন।

কলাপাতায় নানা রঙের ফুল সাজিয়ে নদীর পানিতে ভাসিয়ে গঙ্গা দেবতাকে উৎসর্গ করেন তাঁরা। প্রার্থনা করেন সারা বছর যেন পরিবার ও সমাজ শান্তিতে কাটায়। নদী ও এর আশপাশের এলাকা যেন রঙিন ফুলে ফুলে ভরে ওঠে, আর শিশুদের আনন্দ-উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ফুল দিয়ে সাজানো হয় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা।


উৎসবের তিন দিন

উৎসবের এই তিন দিনের আলাদা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে :

  • প্রথম দিন (ফুল বিজু): ফুল সংগ্রহ ও নদীতে ফুল ভাসিয়ে দেবতাকে সন্তুষ্ট করার দিন।
  • দ্বিতীয় দিন (মূল বিজু): আগামীকাল সোমবার পালিত হবে মূল বিজু। এদিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং ঐতিহ্যবাহী পাঁচন রান্নাসহ নানা মুখরোচক খাবারের মধ্য দিয়ে চলে অতিথি আপ্যায়ন।
  • তৃতীয় দিন (গইজ্যাপইজ্যা): উৎসবের শেষ দিনটি হলো বিশ্রামের দিন বা গইজ্যাপইজ্যা।


ফুল দিতে আসা দীপ্তি চাকমা বলেন, নদীর তীরে মোমবাতি জ্বালিয়ে আমরা প্রার্থনা করি, যাতে নতুন বছরটি আমাদের ভালো কাটে এবং পরিবারের সবাই সুস্থ থাকে। সুপ্তা চাকমা ও রিটন চাকমা জানান, আজ ফুল বিজুর মাধ্যমেই মূলত উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে এবং আগামীকাল মূল বিজু উদযাপনের জন্য এখন জোর প্রস্তুতি চলছে।

পাহাড়ি ঐতিহ্যের এই বিজু উৎসব শুধু চাকমা সম্প্রদায় নয়, বরং আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনারই এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো