পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব—বিজু। পাহাড়ি জনপদের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি আজ রোববার থেকে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই বর্ণিল আয়োজনের প্রথম দিনে সকালে বিভিন্ন পাড়া থেকে আসা চাকমা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোররা চেঙ্গী নদীর তীরে ভিড় জমান।
উৎসবের প্রথম দিনটি ফুল বিজু হিসেবে পালিত হয়। ভোরে সূর্য ওঠার আগেই সব বয়সী মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে ফুল সংগ্রহ করেন। এরপর ঐতিহ্যবাহী পোশাক—নারীরা পিনন-হাদি ও গয়না, আর পুরুষেরা ধুতি-ফতুয়া পরে চেঙ্গী নদীর তীরে সমবেত হন।
কলাপাতায় নানা রঙের ফুল সাজিয়ে নদীর পানিতে ভাসিয়ে গঙ্গা দেবতাকে উৎসর্গ করেন তাঁরা। প্রার্থনা করেন সারা বছর যেন পরিবার ও সমাজ শান্তিতে কাটায়। নদী ও এর আশপাশের এলাকা যেন রঙিন ফুলে ফুলে ভরে ওঠে, আর শিশুদের আনন্দ-উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ফুল দিয়ে সাজানো হয় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা।
উৎসবের তিন দিন
উৎসবের এই তিন দিনের আলাদা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে :
ফুল দিতে আসা দীপ্তি চাকমা বলেন, নদীর তীরে মোমবাতি জ্বালিয়ে আমরা প্রার্থনা করি, যাতে নতুন বছরটি আমাদের ভালো কাটে এবং পরিবারের সবাই সুস্থ থাকে। সুপ্তা চাকমা ও রিটন চাকমা জানান, আজ ফুল বিজুর মাধ্যমেই মূলত উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে এবং আগামীকাল মূল বিজু উদযাপনের জন্য এখন জোর প্রস্তুতি চলছে।
পাহাড়ি ঐতিহ্যের এই বিজু উৎসব শুধু চাকমা সম্প্রদায় নয়, বরং আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনারই এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব—বিজু। পাহাড়ি জনপদের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি আজ রোববার থেকে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই বর্ণিল আয়োজনের প্রথম দিনে সকালে বিভিন্ন পাড়া থেকে আসা চাকমা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোররা চেঙ্গী নদীর তীরে ভিড় জমান।
উৎসবের প্রথম দিনটি ফুল বিজু হিসেবে পালিত হয়। ভোরে সূর্য ওঠার আগেই সব বয়সী মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে ফুল সংগ্রহ করেন। এরপর ঐতিহ্যবাহী পোশাক—নারীরা পিনন-হাদি ও গয়না, আর পুরুষেরা ধুতি-ফতুয়া পরে চেঙ্গী নদীর তীরে সমবেত হন।
কলাপাতায় নানা রঙের ফুল সাজিয়ে নদীর পানিতে ভাসিয়ে গঙ্গা দেবতাকে উৎসর্গ করেন তাঁরা। প্রার্থনা করেন সারা বছর যেন পরিবার ও সমাজ শান্তিতে কাটায়। নদী ও এর আশপাশের এলাকা যেন রঙিন ফুলে ফুলে ভরে ওঠে, আর শিশুদের আনন্দ-উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ফুল দিয়ে সাজানো হয় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা।
উৎসবের তিন দিন
উৎসবের এই তিন দিনের আলাদা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে :
ফুল দিতে আসা দীপ্তি চাকমা বলেন, নদীর তীরে মোমবাতি জ্বালিয়ে আমরা প্রার্থনা করি, যাতে নতুন বছরটি আমাদের ভালো কাটে এবং পরিবারের সবাই সুস্থ থাকে। সুপ্তা চাকমা ও রিটন চাকমা জানান, আজ ফুল বিজুর মাধ্যমেই মূলত উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে এবং আগামীকাল মূল বিজু উদযাপনের জন্য এখন জোর প্রস্তুতি চলছে।
পাহাড়ি ঐতিহ্যের এই বিজু উৎসব শুধু চাকমা সম্প্রদায় নয়, বরং আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনারই এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।

আপনার মতামত লিখুন