বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং এলাকায় প্রভাবশালী বনখেকো চক্রের তণ্ডবে ব্যাপকভাবে বন উজাড়ের ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে প্রায় ২০০ একর প্রাকৃতিক বনভূমি ধ্বংস করে কাঠ পাচার করা হচ্ছে। বন উজাড়ের প্রভাবে এলাকায় পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় অন্তত পাঁচটি ম্রোপাড়ার মানুষ এখন তীব্র পানিসংকটে ভুগছেন। হুমকির মুখে পড়েছে ওই অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পামিয়া ম্রোপাড়া, তন্তুইপাড়া, নামচাকপাড়া, কাকইপাড়া ও আদুইপাড়া এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে অন্তত ২০০ একরজুড়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। পানবাজারের লাল ইসমাইল ও লুংলেই ম্রোসহ একাধিক শক্তিশালী চক্র এই বন নিধনের সাথে জড়িত। গাছ পাচারের সুবিধার্থে পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি করা হয়েছে ট্রাক চলাচলের রাস্তা, ভরাট করা হয়েছে বন্যপ্রাণীদের বিচরণক্ষেত্র ঝিরিগুলো। লামা বন বিভাগের জোত পারমিটের কাগজ ব্যবহার করে বৈধতার আড়ালে কলার ঝিরি বাইপাস দিয়ে নিয়মিত কাঠ পাচার করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।
বন উজাড়ের ফলে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পানির উৎসের ওপর। নামচাকপাড়ার বাসিন্দা মেন রাও ম্রো আক্ষেপ করে বলেন, দুই বছর আগেও এখানে হরিণ, শূকর, ভালুক ও বনমোরগের বিচরণ ছিল। এখন প্রাকৃতিক বনও নেই, বন্যপ্রাণীও নেই। পোলা ব্যাঙ ঝিরিটি শুকিয়ে যাওয়ায় পামিয়া, তন্তুইসহ পাঁচটি পাড়ার মানুষ এখন খাওয়ার পানির জন্য হাহাকার করছেন। রাস্তা তৈরির জন্য ঝিরির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ম্রোপাড়ার মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
আদুইপাড়ার কার্বারি কামপ্লাত ম্রো বলেন, আমরা অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। বৃক্ষনিধনের ফলে ঝিরি এখন মৃত। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই বনের এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। শ্রমিকদের মাধ্যমে জানা গেছে, চকরিয়া থেকে আসা শ্রমিকরা দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে কয়েক মাস ধরে শত ফুট দীর্ঘ মাতৃগাছগুলো কেটে ফেলছে। লুংলেই ম্রো দাবি করেন, তাঁর বাবা ৫০ একর বন ইজারা দিলেও ইসমাইল সওদাগর প্রশাসন ম্যানেজ করার দোহাই দিয়ে ২০০ একর এলাকার গাছ কেটে নিচ্ছেন।
অভিযুক্ত ইসমাইল গাছ ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে জানান, তিনি কেবল তামাকচুল্লির জন্য কিছু লাকড়ি কিনেছেন। অন্যদিকে, লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে আগে কোনো তথ্য ছিল না। তবে তিনি দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং এলাকায় প্রভাবশালী বনখেকো চক্রের তণ্ডবে ব্যাপকভাবে বন উজাড়ের ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে প্রায় ২০০ একর প্রাকৃতিক বনভূমি ধ্বংস করে কাঠ পাচার করা হচ্ছে। বন উজাড়ের প্রভাবে এলাকায় পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় অন্তত পাঁচটি ম্রোপাড়ার মানুষ এখন তীব্র পানিসংকটে ভুগছেন। হুমকির মুখে পড়েছে ওই অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পামিয়া ম্রোপাড়া, তন্তুইপাড়া, নামচাকপাড়া, কাকইপাড়া ও আদুইপাড়া এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে অন্তত ২০০ একরজুড়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। পানবাজারের লাল ইসমাইল ও লুংলেই ম্রোসহ একাধিক শক্তিশালী চক্র এই বন নিধনের সাথে জড়িত। গাছ পাচারের সুবিধার্থে পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি করা হয়েছে ট্রাক চলাচলের রাস্তা, ভরাট করা হয়েছে বন্যপ্রাণীদের বিচরণক্ষেত্র ঝিরিগুলো। লামা বন বিভাগের জোত পারমিটের কাগজ ব্যবহার করে বৈধতার আড়ালে কলার ঝিরি বাইপাস দিয়ে নিয়মিত কাঠ পাচার করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।
বন উজাড়ের ফলে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পানির উৎসের ওপর। নামচাকপাড়ার বাসিন্দা মেন রাও ম্রো আক্ষেপ করে বলেন, দুই বছর আগেও এখানে হরিণ, শূকর, ভালুক ও বনমোরগের বিচরণ ছিল। এখন প্রাকৃতিক বনও নেই, বন্যপ্রাণীও নেই। পোলা ব্যাঙ ঝিরিটি শুকিয়ে যাওয়ায় পামিয়া, তন্তুইসহ পাঁচটি পাড়ার মানুষ এখন খাওয়ার পানির জন্য হাহাকার করছেন। রাস্তা তৈরির জন্য ঝিরির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ম্রোপাড়ার মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
আদুইপাড়ার কার্বারি কামপ্লাত ম্রো বলেন, আমরা অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। বৃক্ষনিধনের ফলে ঝিরি এখন মৃত। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই বনের এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। শ্রমিকদের মাধ্যমে জানা গেছে, চকরিয়া থেকে আসা শ্রমিকরা দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে কয়েক মাস ধরে শত ফুট দীর্ঘ মাতৃগাছগুলো কেটে ফেলছে। লুংলেই ম্রো দাবি করেন, তাঁর বাবা ৫০ একর বন ইজারা দিলেও ইসমাইল সওদাগর প্রশাসন ম্যানেজ করার দোহাই দিয়ে ২০০ একর এলাকার গাছ কেটে নিচ্ছেন।
অভিযুক্ত ইসমাইল গাছ ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে জানান, তিনি কেবল তামাকচুল্লির জন্য কিছু লাকড়ি কিনেছেন। অন্যদিকে, লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে আগে কোনো তথ্য ছিল না। তবে তিনি দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন