মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

পাহাড় কেটে রাস্তা বানিয়ে চলছে কাঠ পাচার

আলীকদমে ২০০ একর বনভূমি সাবাড়: পানির জন্য হাহাকার ৫ ম্রোপাড়ায়, প্রশ্নের মুখে বন বিভাগ

আলীকদমে ২০০ একর বনভূমি সাবাড়: পানির জন্য হাহাকার ৫ ম্রোপাড়ায়, প্রশ্নের মুখে বন বিভাগ
ছবি : সংগৃহীত

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং এলাকায় প্রভাবশালী বনখেকো চক্রের তণ্ডবে ব্যাপকভাবে বন উজাড়ের ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে প্রায় ২০০ একর প্রাকৃতিক বনভূমি ধ্বংস করে কাঠ পাচার করা হচ্ছে। বন উজাড়ের প্রভাবে এলাকায় পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় অন্তত পাঁচটি ম্রোপাড়ার মানুষ এখন তীব্র পানিসংকটে ভুগছেন। হুমকির মুখে পড়েছে ওই অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পামিয়া ম্রোপাড়া, তন্তুইপাড়া, নামচাকপাড়া, কাকইপাড়া ও আদুইপাড়া এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে অন্তত ২০০ একরজুড়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। পানবাজারের লাল ইসমাইল ও লুংলেই ম্রোসহ একাধিক শক্তিশালী চক্র এই বন নিধনের সাথে জড়িত। গাছ পাচারের সুবিধার্থে পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি করা হয়েছে ট্রাক চলাচলের রাস্তা, ভরাট করা হয়েছে বন্যপ্রাণীদের বিচরণক্ষেত্র ঝিরিগুলো। লামা বন বিভাগের জোত পারমিটের কাগজ ব্যবহার করে বৈধতার আড়ালে কলার ঝিরি বাইপাস দিয়ে নিয়মিত কাঠ পাচার করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

বন উজাড়ের ফলে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পানির উৎসের ওপর। নামচাকপাড়ার বাসিন্দা মেন রাও ম্রো আক্ষেপ করে বলেন, দুই বছর আগেও এখানে হরিণ, শূকর, ভালুক ও বনমোরগের বিচরণ ছিল। এখন প্রাকৃতিক বনও নেই, বন্যপ্রাণীও নেই। পোলা ব্যাঙ ঝিরিটি শুকিয়ে যাওয়ায় পামিয়া, তন্তুইসহ পাঁচটি পাড়ার মানুষ এখন খাওয়ার পানির জন্য হাহাকার করছেন। রাস্তা তৈরির জন্য ঝিরির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ম্রোপাড়ার মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।


আদুইপাড়ার কার্বারি কামপ্লাত ম্রো বলেন, আমরা অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। বৃক্ষনিধনের ফলে ঝিরি এখন মৃত। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই বনের এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। শ্রমিকদের মাধ্যমে জানা গেছে, চকরিয়া থেকে আসা শ্রমিকরা দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে কয়েক মাস ধরে শত ফুট দীর্ঘ মাতৃগাছগুলো কেটে ফেলছে। লুংলেই ম্রো দাবি করেন, তাঁর বাবা ৫০ একর বন ইজারা দিলেও ইসমাইল সওদাগর প্রশাসন ম্যানেজ করার দোহাই দিয়ে ২০০ একর এলাকার গাছ কেটে নিচ্ছেন।

অভিযুক্ত ইসমাইল গাছ ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে জানান, তিনি কেবল তামাকচুল্লির জন্য কিছু লাকড়ি কিনেছেন। অন্যদিকে, লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে আগে কোনো তথ্য ছিল না। তবে তিনি দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


আলীকদমে ২০০ একর বনভূমি সাবাড়: পানির জন্য হাহাকার ৫ ম্রোপাড়ায়, প্রশ্নের মুখে বন বিভাগ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং এলাকায় প্রভাবশালী বনখেকো চক্রের তণ্ডবে ব্যাপকভাবে বন উজাড়ের ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে প্রায় ২০০ একর প্রাকৃতিক বনভূমি ধ্বংস করে কাঠ পাচার করা হচ্ছে। বন উজাড়ের প্রভাবে এলাকায় পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় অন্তত পাঁচটি ম্রোপাড়ার মানুষ এখন তীব্র পানিসংকটে ভুগছেন। হুমকির মুখে পড়েছে ওই অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পামিয়া ম্রোপাড়া, তন্তুইপাড়া, নামচাকপাড়া, কাকইপাড়া ও আদুইপাড়া এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে অন্তত ২০০ একরজুড়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। পানবাজারের লাল ইসমাইল ও লুংলেই ম্রোসহ একাধিক শক্তিশালী চক্র এই বন নিধনের সাথে জড়িত। গাছ পাচারের সুবিধার্থে পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি করা হয়েছে ট্রাক চলাচলের রাস্তা, ভরাট করা হয়েছে বন্যপ্রাণীদের বিচরণক্ষেত্র ঝিরিগুলো। লামা বন বিভাগের জোত পারমিটের কাগজ ব্যবহার করে বৈধতার আড়ালে কলার ঝিরি বাইপাস দিয়ে নিয়মিত কাঠ পাচার করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

বন উজাড়ের ফলে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পানির উৎসের ওপর। নামচাকপাড়ার বাসিন্দা মেন রাও ম্রো আক্ষেপ করে বলেন, দুই বছর আগেও এখানে হরিণ, শূকর, ভালুক ও বনমোরগের বিচরণ ছিল। এখন প্রাকৃতিক বনও নেই, বন্যপ্রাণীও নেই। পোলা ব্যাঙ ঝিরিটি শুকিয়ে যাওয়ায় পামিয়া, তন্তুইসহ পাঁচটি পাড়ার মানুষ এখন খাওয়ার পানির জন্য হাহাকার করছেন। রাস্তা তৈরির জন্য ঝিরির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ম্রোপাড়ার মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।


আদুইপাড়ার কার্বারি কামপ্লাত ম্রো বলেন, আমরা অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। বৃক্ষনিধনের ফলে ঝিরি এখন মৃত। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই বনের এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। শ্রমিকদের মাধ্যমে জানা গেছে, চকরিয়া থেকে আসা শ্রমিকরা দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে কয়েক মাস ধরে শত ফুট দীর্ঘ মাতৃগাছগুলো কেটে ফেলছে। লুংলেই ম্রো দাবি করেন, তাঁর বাবা ৫০ একর বন ইজারা দিলেও ইসমাইল সওদাগর প্রশাসন ম্যানেজ করার দোহাই দিয়ে ২০০ একর এলাকার গাছ কেটে নিচ্ছেন।

অভিযুক্ত ইসমাইল গাছ ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে জানান, তিনি কেবল তামাকচুল্লির জন্য কিছু লাকড়ি কিনেছেন। অন্যদিকে, লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে আগে কোনো তথ্য ছিল না। তবে তিনি দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো