মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩তম বর্ষপূর্তিতে নিহতদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি
ছবি : সংগৃহীত

আজ থেকে ঠিক ১৩ বছর আগে, সাভারের এক আকাশছোঁয়া অট্টালিকা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া সেই কংক্রিটের নিচে চাপা পড়েছিল হাজারো শ্রমিকের স্বপ্ন, পরিবার আর বেঁচে থাকার আকুতি। ১,১৩৪ জন শ্রমিকের সেই মহাপ্রয়াণ কেবল একটি দুর্ঘটনা ছিল না, সেটি ছিল অবহেলা আর লালসার এক চরম বহিঃপ্রকাশ। আজ রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির এক যুগ পার হয়ে আরও এক বছর পূর্ণ হলো। 

কিন্তু ১৩ বছর পর দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে—আমরা কি আসলেই আমাদের সেই ভাই-বোনদের মৃত্যুর সুবিচার নিশ্চিত করতে পেরেছি? রানা প্লাজা ধসের পর সারা বিশ্বে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের নিরাপত্তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। বিদেশি ক্রেতাদের চাপে কারখানাগুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অ্যাকর্ড বা অ্যালায়েন্স-এর মতো সংস্থাগুলো কাজ করেছে। সন্দেহ নেই, আগের তুলনায় আমাদের পোশাক শিল্প এখন অনেক বেশি নিরাপদ। কিন্তু যেই জীবনের বিনিময়ে এই নিরাপত্তা কেনা হলো, সেই বিচার প্রক্রিয়া আজও প্রহসনের আড়ালে ঢাকা পড়ে আছে।

ভবন মালিক সোহেল রানাসহ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল হোতাদের বিচার কাজ এখনও আইনি মারপ্যাঁচে থমকে আছে। সাক্ষ্য গ্রহণের দীর্ঘসূত্রিতা এবং বারবার শুনানির তারিখ পরিবর্তন হওয়া আসলে আমাদের বিচার ব্যবস্থার এক চরম দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে। স্বজনহারা পরিবারগুলো যখন দেখে খুনিরা এখনও চূড়ান্ত দণ্ড থেকে মুক্ত, তখন তাঁদের ক্ষোভ কেবল পাহাড় সমান হয় না বরং তা রাষ্ট্রের প্রতি এক ধরণের আস্থাহীনতা তৈরি করে।

ছবি : সংগৃহীত

অন্যদিকে, পঙ্গুত্ব বরণকারী কয়েক হাজার শ্রমিকের পুনর্বাসনের চিত্রটিও মোটেও সুখকর নয়। সহায়তার নামে যা দেওয়া হয়েছে, তা তাঁদের আজীবনের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। বহু শ্রমিক আজও দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য অন্যের দয়ার ওপর নির্ভরশীল। একটি উন্নত দেশের পথে ধাবমান জাতির জন্য এই চিত্র অত্যন্ত লজ্জাজনক।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছরে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—কেবল বড় অট্টালিকা গড়া নয়, বরং সেই অট্টালিকার ভেতরে কাজ করা প্রতিটি মানুষের প্রাণের নিশ্চয়তা দেওয়া। আর সেই নিশ্চয়তার প্রথম ধাপ হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। বিচারের বাণী যেন নিভৃতে না কাঁদে, রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

সাভারের সেই শহীদ ভাই-বোনদের প্রতি দৈনিক নতুন আলোর পক্ষ থেকে  বিনম্র শ্রদ্ধা।

বিষয় : সম্পাদকীয় রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি শ্রমিক অধিকার ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

আজ থেকে ঠিক ১৩ বছর আগে, সাভারের এক আকাশছোঁয়া অট্টালিকা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া সেই কংক্রিটের নিচে চাপা পড়েছিল হাজারো শ্রমিকের স্বপ্ন, পরিবার আর বেঁচে থাকার আকুতি। ১,১৩৪ জন শ্রমিকের সেই মহাপ্রয়াণ কেবল একটি দুর্ঘটনা ছিল না, সেটি ছিল অবহেলা আর লালসার এক চরম বহিঃপ্রকাশ। আজ রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির এক যুগ পার হয়ে আরও এক বছর পূর্ণ হলো। 

কিন্তু ১৩ বছর পর দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে—আমরা কি আসলেই আমাদের সেই ভাই-বোনদের মৃত্যুর সুবিচার নিশ্চিত করতে পেরেছি? রানা প্লাজা ধসের পর সারা বিশ্বে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের নিরাপত্তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। বিদেশি ক্রেতাদের চাপে কারখানাগুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অ্যাকর্ড বা অ্যালায়েন্স-এর মতো সংস্থাগুলো কাজ করেছে। সন্দেহ নেই, আগের তুলনায় আমাদের পোশাক শিল্প এখন অনেক বেশি নিরাপদ। কিন্তু যেই জীবনের বিনিময়ে এই নিরাপত্তা কেনা হলো, সেই বিচার প্রক্রিয়া আজও প্রহসনের আড়ালে ঢাকা পড়ে আছে।

ভবন মালিক সোহেল রানাসহ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল হোতাদের বিচার কাজ এখনও আইনি মারপ্যাঁচে থমকে আছে। সাক্ষ্য গ্রহণের দীর্ঘসূত্রিতা এবং বারবার শুনানির তারিখ পরিবর্তন হওয়া আসলে আমাদের বিচার ব্যবস্থার এক চরম দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে। স্বজনহারা পরিবারগুলো যখন দেখে খুনিরা এখনও চূড়ান্ত দণ্ড থেকে মুক্ত, তখন তাঁদের ক্ষোভ কেবল পাহাড় সমান হয় না বরং তা রাষ্ট্রের প্রতি এক ধরণের আস্থাহীনতা তৈরি করে।

ছবি : সংগৃহীত

অন্যদিকে, পঙ্গুত্ব বরণকারী কয়েক হাজার শ্রমিকের পুনর্বাসনের চিত্রটিও মোটেও সুখকর নয়। সহায়তার নামে যা দেওয়া হয়েছে, তা তাঁদের আজীবনের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। বহু শ্রমিক আজও দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য অন্যের দয়ার ওপর নির্ভরশীল। একটি উন্নত দেশের পথে ধাবমান জাতির জন্য এই চিত্র অত্যন্ত লজ্জাজনক।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছরে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—কেবল বড় অট্টালিকা গড়া নয়, বরং সেই অট্টালিকার ভেতরে কাজ করা প্রতিটি মানুষের প্রাণের নিশ্চয়তা দেওয়া। আর সেই নিশ্চয়তার প্রথম ধাপ হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। বিচারের বাণী যেন নিভৃতে না কাঁদে, রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।


সাভারের সেই শহীদ ভাই-বোনদের প্রতি দৈনিক নতুন আলোর পক্ষ থেকে  বিনম্র শ্রদ্ধা।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো