প্রযুক্তি যখন মানুষের আশীর্বাদ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে অতিরিক্ত স্মার্টফোন নির্ভরতা আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য এক নীরব অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার অনীহা এবং ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি চরম আসক্তি তাদের সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও মানসিক বিকাশের প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠছে। এই জাতীয় সংকটে আশার আলো দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শনকালে তিনি শিশুদের স্মার্টফোন থেকে বের করে খেলার মাঠ ও লাইব্রেরিমুখী করার যে মহাপরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেছেন, তা কেবল একটি সরকারি ঘোষণা নয়, বরং সময়ের এক অনিবার্য দাবি।
বর্তমানে শহরের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচেও শিশুদের হাতে শোভা পায় স্মার্টফোন। মাঠের ধুলোবালি মেখে বড় হওয়া শৈশব এখন চার দেয়ালের মাঝে ভিডিও গেম আর স্ক্রল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক গঠনে ব্যাঘাত ঘটায়, যার ফলে তাদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমছে এবং খিটখিটে মেজাজ তৈরি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই বইমুখী বিপ্লব আমাদের জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটাতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের মতো বরেণ্য ব্যক্তিদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা এবং প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে মডেল হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনাটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। কেবল পাঠ্যবই নয়, বরং ধর্ম, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও বিশ্ব সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কাজগুলো শিশুদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি উদার করা সম্ভব। যখন একটি শিশু বইয়ের পাতায় নতুন বিশ্বকে চিনতে শিখবে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্মার্টফোনের নীল পর্দার প্রতি তার আকর্ষণ কমে আসবে।
স্মার্টফোন আসক্তি দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বিকল্প বিনোদন তৈরি করা। প্রতিটি পাড়ায় পাঠাগার ও খেলার মাঠের সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যেমনটি বলেছেন, অরাজনৈতিক এবং জ্ঞানভিত্তিক বইয়ের সংগ্রহশালা বাড়াতে হবে। লাইব্রেরি হবে একটি সৃজনশীল মিলনমেলা, যেখানে শিশুরা একে অপরের সাথে মতবিনিময় করবে এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করবে।
তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, কেবল সরকারি উদ্যোগ বা ভবন নির্মাণ করলেই এই লক্ষ্য পূরণ হবে না। এর জন্য প্রয়োজন একটি সুসংহত সামাজিক আন্দোলন। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। বাবা-মায়েরা নিজেরা স্মার্টফোন কমিয়ে যদি শিশুদের সাথে সময় কাটান এবং তাদের হাতে রঙিন গল্পের বই তুলে দেন, তবেই এই পরিবর্তনের সূচনা হবে। শিক্ষকদেরও ক্লাসরুমের বাইরে পাঠাগারের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে।
আমরা বিশ্বাস করি, সরকারের এই পরিকল্পনা যদি তৃণমূল পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে আমাদের শিশুরা আবারও খেলার মাঠে দৌড়াবে এবং লাইব্রেরির প্রতিটি পাতায় নতুন বিশ্বকে খুঁজে পাবে। স্মার্টফোনের ক্ষতিকর নীল পর্দা নয়, বরং বইয়ের কালো হরফেই লেখা হোক আগামী বাংলাদেশের সমৃদ্ধির গল্প। জ্ঞাননির্ভর এক নতুন প্রজন্মের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে আমাদের কাঙ্ক্ষিত মেধাভিত্তিক সমাজ।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রযুক্তি যখন মানুষের আশীর্বাদ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে অতিরিক্ত স্মার্টফোন নির্ভরতা আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য এক নীরব অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার অনীহা এবং ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি চরম আসক্তি তাদের সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও মানসিক বিকাশের প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠছে। এই জাতীয় সংকটে আশার আলো দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শনকালে তিনি শিশুদের স্মার্টফোন থেকে বের করে খেলার মাঠ ও লাইব্রেরিমুখী করার যে মহাপরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেছেন, তা কেবল একটি সরকারি ঘোষণা নয়, বরং সময়ের এক অনিবার্য দাবি।
বর্তমানে শহরের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচেও শিশুদের হাতে শোভা পায় স্মার্টফোন। মাঠের ধুলোবালি মেখে বড় হওয়া শৈশব এখন চার দেয়ালের মাঝে ভিডিও গেম আর স্ক্রল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক গঠনে ব্যাঘাত ঘটায়, যার ফলে তাদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমছে এবং খিটখিটে মেজাজ তৈরি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই বইমুখী বিপ্লব আমাদের জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটাতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের মতো বরেণ্য ব্যক্তিদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা এবং প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে মডেল হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনাটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। কেবল পাঠ্যবই নয়, বরং ধর্ম, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও বিশ্ব সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কাজগুলো শিশুদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি উদার করা সম্ভব। যখন একটি শিশু বইয়ের পাতায় নতুন বিশ্বকে চিনতে শিখবে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্মার্টফোনের নীল পর্দার প্রতি তার আকর্ষণ কমে আসবে।
স্মার্টফোন আসক্তি দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বিকল্প বিনোদন তৈরি করা। প্রতিটি পাড়ায় পাঠাগার ও খেলার মাঠের সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যেমনটি বলেছেন, অরাজনৈতিক এবং জ্ঞানভিত্তিক বইয়ের সংগ্রহশালা বাড়াতে হবে। লাইব্রেরি হবে একটি সৃজনশীল মিলনমেলা, যেখানে শিশুরা একে অপরের সাথে মতবিনিময় করবে এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করবে।
তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, কেবল সরকারি উদ্যোগ বা ভবন নির্মাণ করলেই এই লক্ষ্য পূরণ হবে না। এর জন্য প্রয়োজন একটি সুসংহত সামাজিক আন্দোলন। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। বাবা-মায়েরা নিজেরা স্মার্টফোন কমিয়ে যদি শিশুদের সাথে সময় কাটান এবং তাদের হাতে রঙিন গল্পের বই তুলে দেন, তবেই এই পরিবর্তনের সূচনা হবে। শিক্ষকদেরও ক্লাসরুমের বাইরে পাঠাগারের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে।
আমরা বিশ্বাস করি, সরকারের এই পরিকল্পনা যদি তৃণমূল পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে আমাদের শিশুরা আবারও খেলার মাঠে দৌড়াবে এবং লাইব্রেরির প্রতিটি পাতায় নতুন বিশ্বকে খুঁজে পাবে। স্মার্টফোনের ক্ষতিকর নীল পর্দা নয়, বরং বইয়ের কালো হরফেই লেখা হোক আগামী বাংলাদেশের সমৃদ্ধির গল্প। জ্ঞাননির্ভর এক নতুন প্রজন্মের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে আমাদের কাঙ্ক্ষিত মেধাভিত্তিক সমাজ।

আপনার মতামত লিখুন