মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

ফুলেরজান সেতু

একটি ভাঙা ব্রিজে আটকে গেছে ৩ উপজেলার অর্থনীতি! বিপাকে রংপুর ও পীরগঞ্জের হাজারো কৃষক।

একটি ভাঙা ব্রিজে আটকে গেছে ৩ উপজেলার অর্থনীতি! বিপাকে রংপুর ও পীরগঞ্জের হাজারো কৃষক।
প্রায় চার বছর ধরে নলেয়া নদীর ওপর নির্মিত ফুলেরজান সেতুর পাটাতন ভেঙে পড়ে আছে। ছবি : সংগৃহীত

একটি সেতু কীভাবে তিনটি উপজেলার অর্থনীতি আর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থমকে দিতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ রংপুরের নলেয়া নদীর ওপর নির্মিত ফুলেরজান সেতু। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে এই সেতুর পাটাতন ভেঙে পড়ে থাকলেও তা সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে কার্যত বিচ্ছিন্ন ও অচল হয়ে পড়েছে রংপুরের পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও পীরগাছা উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এক সময় যে সেতু দিয়ে দিনরাত সব ধরনের যানবাহন চলত, সেখানে এখন মাঝারি ও ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে চরম ক্ষোভ ও দুর্ভোগের দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পীরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে শানেরহাট হয়ে মিঠাপুকুরের বড় হযরতপুর এবং বৈরতীহাট হয়ে পীরগাছাগামী সড়কের ভগবতীপুর এলাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির অবস্থান। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই পথেই যাতায়াত করতেন।

সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ায় এখন সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে যেমন নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়, তেমনই যাতায়াত ও পরিবহণ খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলে এই দুর্ভোগ রূপ নেয় চরম যন্ত্রণায়।


হযরতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসিমুল ইসলাম ও দামোদরপুর গ্রামের লিটন প্রধান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এটাই ছিল আমাদের চলাচলের প্রধান রাস্তা। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে অনেক ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। মাঝখান থেকে আমাদের পকেটের টাকা গচ্চা যাচ্ছে।"

স্থানীয় মুরগি ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া জানান, ব্রিজ ভাঙার কারণে তাঁর ব্যবসায় ধস নেমেছে। এখন অনেক দূর ঘুরে গ্রামে গিয়ে মুরগি কিনতে হচ্ছে, যার ফলে পরিবহণ খরচ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। শানেরহাট ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মান্নান খান বলেন, সেতুটি সচল থাকতে হাটের দিন ব্যবসা জমজমাট থাকত। এখন মালামাল পরিবহণ বন্ধ থাকায় বেচাকেনা প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে।

সেতুটির সংস্কার নিয়ে জানতে চাইলে শানেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান কিছুটা দায় এড়ানোর সুরে বলেন, সেতুটি আমাদের উপজেলার মধ্যে নয়, এটি মিঠাপুকুর উপজেলার অংশে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার বলা হয়েছে। তারা জানিয়েছে বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে।


তবে এই দীর্ঘ দুর্ভোগের পর অবশেষে কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকৌশলী বাদশা আলমগীর। দৈনিক নতুন আলোকে তিনি জানান, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে মাটি পরীক্ষা (Soil Test) করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী শুষ্ক মৌসুমেই এর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

ভুক্তভোগী তিন উপজেলার বাসিন্দাদের দাবি, শুধু কাগজের আশ্বাস নয়, দ্রুত যেন মাঠ পর্যায়ে এই সেতুর কাজ শুরু করে তাদের দীর্ঘ ৪ বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

বিষয় : দুর্ভোগ জেলার খবর পীরগাছা সেতু মিঠাপুকুর রংপুর বিভাগ পীরগঞ্জ (রংপুর)

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


একটি ভাঙা ব্রিজে আটকে গেছে ৩ উপজেলার অর্থনীতি! বিপাকে রংপুর ও পীরগঞ্জের হাজারো কৃষক।

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

একটি সেতু কীভাবে তিনটি উপজেলার অর্থনীতি আর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থমকে দিতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ রংপুরের নলেয়া নদীর ওপর নির্মিত ফুলেরজান সেতু। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে এই সেতুর পাটাতন ভেঙে পড়ে থাকলেও তা সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে কার্যত বিচ্ছিন্ন ও অচল হয়ে পড়েছে রংপুরের পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও পীরগাছা উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এক সময় যে সেতু দিয়ে দিনরাত সব ধরনের যানবাহন চলত, সেখানে এখন মাঝারি ও ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে চরম ক্ষোভ ও দুর্ভোগের দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পীরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে শানেরহাট হয়ে মিঠাপুকুরের বড় হযরতপুর এবং বৈরতীহাট হয়ে পীরগাছাগামী সড়কের ভগবতীপুর এলাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির অবস্থান। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই পথেই যাতায়াত করতেন।

সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ায় এখন সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে যেমন নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়, তেমনই যাতায়াত ও পরিবহণ খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলে এই দুর্ভোগ রূপ নেয় চরম যন্ত্রণায়।


হযরতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসিমুল ইসলাম ও দামোদরপুর গ্রামের লিটন প্রধান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এটাই ছিল আমাদের চলাচলের প্রধান রাস্তা। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে অনেক ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। মাঝখান থেকে আমাদের পকেটের টাকা গচ্চা যাচ্ছে।"

স্থানীয় মুরগি ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া জানান, ব্রিজ ভাঙার কারণে তাঁর ব্যবসায় ধস নেমেছে। এখন অনেক দূর ঘুরে গ্রামে গিয়ে মুরগি কিনতে হচ্ছে, যার ফলে পরিবহণ খরচ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। শানেরহাট ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মান্নান খান বলেন, সেতুটি সচল থাকতে হাটের দিন ব্যবসা জমজমাট থাকত। এখন মালামাল পরিবহণ বন্ধ থাকায় বেচাকেনা প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে।

সেতুটির সংস্কার নিয়ে জানতে চাইলে শানেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান কিছুটা দায় এড়ানোর সুরে বলেন, সেতুটি আমাদের উপজেলার মধ্যে নয়, এটি মিঠাপুকুর উপজেলার অংশে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার বলা হয়েছে। তারা জানিয়েছে বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে।


তবে এই দীর্ঘ দুর্ভোগের পর অবশেষে কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকৌশলী বাদশা আলমগীর। দৈনিক নতুন আলোকে তিনি জানান, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে মাটি পরীক্ষা (Soil Test) করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী শুষ্ক মৌসুমেই এর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

ভুক্তভোগী তিন উপজেলার বাসিন্দাদের দাবি, শুধু কাগজের আশ্বাস নয়, দ্রুত যেন মাঠ পর্যায়ে এই সেতুর কাজ শুরু করে তাদের দীর্ঘ ৪ বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো