ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করাকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৯ মে) রাতে এবং আজ শনিবার (৩০ মে) সকালে দুই দফা চলা এই সংঘর্ষে নারী ও আইনজীবীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুমুরদী ইউনিয়নের বাবনাতলা গ্রামের বাসিন্দা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আকরাম খান ঈদের চার দিন আগে ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি চাল বিতরণের একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে অনিয়মের সত্যতা না পেয়ে তিনি উভয় পক্ষকে সতর্ক করে ফিরে যান।
এই ভিডিও ফাঁসের ঘটনাটি চুমুরদী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ ও তার পরিষদের সদস্যরা ভালোভাবে নেননি। এর জেরে শুক্রবার রাতে বাবনাতলা এলাকায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আকরাম খানকে মারধর করা হয়। পরে আকরাম খানের পক্ষ নিয়ে শাহাবুদ্দিন মোল্লার সমর্থকরা এবং চেয়ারম্যানের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষের পর, আজ শনিবার সকালে আবারও চুমুরদী ইউনিয়নের বাবনাতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওপর দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ২৫ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— আইনজীবী জাকারিয়া মোল্লা, আমেনা, হামিদা, পারভীন, অদুদ মোল্লা, আয়নাল মোল্লা, শাহ আলম মোল্লা, রুহুল মোল্লা, চান মোল্লা, শুকুর আলী মোল্লা, নূর আলম মোল্লা, মিজানুর মোল্লা, ইমদাদুল মোল্লা, সামাদ মোল্লা, রাজ্জাক মোল্লা, জোবায়ের মোল্লা, সামিউল মোল্লা, কাদের মাতুব্বর, কোহিনুর মোল্লা, ইউসুফ মাতুব্বর, জলিল মাতুব্বর, মাহবুব মোল্লা, ইবাদত মোল্লা ও রুবেল মোল্লা।
ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ মোল্লা অপপ্রচারের অভিযোগ এনে বলেন, বাবনাতলা গ্রামের টিকটকার আকরাম খান সঠিক তথ্য না জেনে আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে ভিডিও দিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে। এতে আমার সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। শুক্রবার রাতে আমার ভাই চন্দন এই বিষয়ে আকরামের কাছে জানতে চাইলে সে উত্তেজিত হয়ে উল্টো চন্দনের ওপর হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষের সাধারণ লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফেসবুকে ভিডিও দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে এবং আজ সকালে দুই দল গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করাকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৯ মে) রাতে এবং আজ শনিবার (৩০ মে) সকালে দুই দফা চলা এই সংঘর্ষে নারী ও আইনজীবীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুমুরদী ইউনিয়নের বাবনাতলা গ্রামের বাসিন্দা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আকরাম খান ঈদের চার দিন আগে ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি চাল বিতরণের একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে অনিয়মের সত্যতা না পেয়ে তিনি উভয় পক্ষকে সতর্ক করে ফিরে যান।
এই ভিডিও ফাঁসের ঘটনাটি চুমুরদী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ ও তার পরিষদের সদস্যরা ভালোভাবে নেননি। এর জেরে শুক্রবার রাতে বাবনাতলা এলাকায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আকরাম খানকে মারধর করা হয়। পরে আকরাম খানের পক্ষ নিয়ে শাহাবুদ্দিন মোল্লার সমর্থকরা এবং চেয়ারম্যানের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষের পর, আজ শনিবার সকালে আবারও চুমুরদী ইউনিয়নের বাবনাতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওপর দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ২৫ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— আইনজীবী জাকারিয়া মোল্লা, আমেনা, হামিদা, পারভীন, অদুদ মোল্লা, আয়নাল মোল্লা, শাহ আলম মোল্লা, রুহুল মোল্লা, চান মোল্লা, শুকুর আলী মোল্লা, নূর আলম মোল্লা, মিজানুর মোল্লা, ইমদাদুল মোল্লা, সামাদ মোল্লা, রাজ্জাক মোল্লা, জোবায়ের মোল্লা, সামিউল মোল্লা, কাদের মাতুব্বর, কোহিনুর মোল্লা, ইউসুফ মাতুব্বর, জলিল মাতুব্বর, মাহবুব মোল্লা, ইবাদত মোল্লা ও রুবেল মোল্লা।
ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ মোল্লা অপপ্রচারের অভিযোগ এনে বলেন, বাবনাতলা গ্রামের টিকটকার আকরাম খান সঠিক তথ্য না জেনে আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে ভিডিও দিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে। এতে আমার সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। শুক্রবার রাতে আমার ভাই চন্দন এই বিষয়ে আকরামের কাছে জানতে চাইলে সে উত্তেজিত হয়ে উল্টো চন্দনের ওপর হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষের সাধারণ লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফেসবুকে ভিডিও দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে এবং আজ সকালে দুই দল গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন