মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : সোমবার, ০১ জুন ২০২৬

প্রযোজক হিসেবে প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত করলেন অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক!

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সিনেমা: মর্যাদাপূর্ণ সাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবে মনোজ প্রামাণিকের সাঁকোটা দুলছে

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সিনেমা: মর্যাদাপূর্ণ সাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবে মনোজ প্রামাণিকের সাঁকোটা দুলছে
সাঁকোটা দুলছে সিনেমার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

অভিনয়ের আঙিনায় মুগ্ধতা ছড়ানোর পাশাপাশি বেশ কিছুদিন ধরেই প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত আছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক। তাঁর নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মনপাচিত্র থেকে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে এবার এল আরও বড় ও গৌরবময় স্বীকৃতি। মনোজ প্রামাণিক প্রযোজিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা সাঁকোটা দুলছে জায়গা করে নিয়েছে মর্যাদাপূর্ণ ২৮তম সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে।

আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বখ্যাত উৎসবের অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট বিভাগে অফিশিয়ালি নির্বাচিত হয়েছে মনপাচিত্র থেকে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি। সিনেমাটির আন্তর্জাতিক বা ইংরেজি নাম রাখা হয়েছে দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট (The Blind Girl and an Elephant)।

সাঁকোটা দুলছে চলচ্চিত্রটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা ইশতিয়াক আহমাদ জিহাদ। এটি এই নির্মাতার ক্যারিয়ারের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। মনপাচিত্রের সঙ্গে যৌথভাবে সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে জার্মানির স্বনামধন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মোগাদর ফিল্মস।

চলচ্চিত্রটির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে গ্রামীণ বাংলাদেশের তিন নারীকে কেন্দ্র করে, যারা গ্রামীণ কুসংস্কার, রক্ষণশীল পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা এবং নানামুখী সামাজিক নিপীড়নের বেড়াজাল ভেঙে মুক্তির স্বপ্ন দেখে। জীবনের নানা অনাকাঙ্ক্ষিত, জটিল ও বেদনাদায়ক মোড়ের মধ্য দিয়ে গল্প এগিয়ে যায়। যেখানে শেষ পর্যন্ত একজন অন্ধ তরুণী সমস্ত বাধা পেরিয়ে তার স্বপ্নের পথে যাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয় এবং এক রহস্যময় হাতির মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়। সম্পূর্ণ সাদা-কালো (Black and White) ফ্রেমে নির্মিত এই সিনেমাটি নারীর জীবন, বিশ্বাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নকে গ্রামীণ বাংলাদেশের বাস্তবতার ভিত্তিতে এক অত্যন্ত কাব্যিক চলচ্চিত্রভাষায় উপস্থাপন করেছে।

সিনেমাটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানজিদা আক্তার স্বর্ণা, তাহমিদা রহমান তৌহিদা, সুমাইয়া হক, অশোক ব্যাপারী, সাবিহা জামান, পঙ্কজ মজুমদার, মুনসিফ মিম, নিশাত তাসনিম প্রমুখ।


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিনেমাটিকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে যুক্ত হয়েছেন একঝাঁক অভিজ্ঞ মুখ। সিনেমার অ্যাসোসিয়েট প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন জার্মান প্রযোজক ক্রিস্টোফ থোকে। এ ছাড়া কনসাল্টিং প্রযোজক হিসেবে যুক্ত আছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র সমালোচক, প্রযোজক ও প্রোগ্রামার ডার্সি প্যাকুয়েট। সহপ্রযোজক হিসেবে রয়েছেন নির্মাতা ও প্রযোজক ফজলে হাসান শিশির।

নিজের প্রথম সিনেমা নিয়ে উচ্ছ্বসিত পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ বলেন, গ্রামীণ বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি কীভাবে কুসংস্কার, রক্ষণশীলতা এবং নানাবিধ সামাজিক বিধিনিষেধ নারীদের জীবনে অবদমন তৈরি করে। সেই চেনা বাস্তবতা আর অনুভূতির জায়গা থেকেই মূলত এই চলচ্চিত্রের জন্ম।

অভিনেতা ও প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমাদের এই যাত্রাটা শুরু হয়েছিল খুব সীমিত অর্থ, অল্প অভিজ্ঞতা এবং একদল স্বপ্নবান তরুণ চলচ্চিত্রকর্মীকে সাথে নিয়ে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মতো এত বড় মঞ্চে এটি নির্বাচিত হওয়া আমাদের বহু বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ, বিশ্বাস এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রচর্চার (Independent Cinema) প্রতি অঙ্গীকারেরই এক পরম স্বীকৃতি।

নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জমকালো বিশ্ব প্রিমিয়ারের (World Premiere) পর চলচ্চিত্রটি বিশ্বের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক উৎসবে পাঠানো হবে। বিশ্বভ্রমণ শেষ করে পরবর্তী সময়ে সিনেমাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে সাধারণ দর্শকদের জন্য মুক্তি দেওয়া হবে।

বিষয় : সিনেমা বিনোদন ছাপা সংস্করণ চলচ্চিত্র উৎসব

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সিনেমা: মর্যাদাপূর্ণ সাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবে মনোজ প্রামাণিকের সাঁকোটা দুলছে

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image

অভিনয়ের আঙিনায় মুগ্ধতা ছড়ানোর পাশাপাশি বেশ কিছুদিন ধরেই প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত আছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক। তাঁর নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মনপাচিত্র থেকে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে এবার এল আরও বড় ও গৌরবময় স্বীকৃতি। মনোজ প্রামাণিক প্রযোজিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা সাঁকোটা দুলছে জায়গা করে নিয়েছে মর্যাদাপূর্ণ ২৮তম সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে।

আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বখ্যাত উৎসবের অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট বিভাগে অফিশিয়ালি নির্বাচিত হয়েছে মনপাচিত্র থেকে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি। সিনেমাটির আন্তর্জাতিক বা ইংরেজি নাম রাখা হয়েছে দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট (The Blind Girl and an Elephant)।

সাঁকোটা দুলছে চলচ্চিত্রটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা ইশতিয়াক আহমাদ জিহাদ। এটি এই নির্মাতার ক্যারিয়ারের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। মনপাচিত্রের সঙ্গে যৌথভাবে সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে জার্মানির স্বনামধন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মোগাদর ফিল্মস।

চলচ্চিত্রটির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে গ্রামীণ বাংলাদেশের তিন নারীকে কেন্দ্র করে, যারা গ্রামীণ কুসংস্কার, রক্ষণশীল পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা এবং নানামুখী সামাজিক নিপীড়নের বেড়াজাল ভেঙে মুক্তির স্বপ্ন দেখে। জীবনের নানা অনাকাঙ্ক্ষিত, জটিল ও বেদনাদায়ক মোড়ের মধ্য দিয়ে গল্প এগিয়ে যায়। যেখানে শেষ পর্যন্ত একজন অন্ধ তরুণী সমস্ত বাধা পেরিয়ে তার স্বপ্নের পথে যাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয় এবং এক রহস্যময় হাতির মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়। সম্পূর্ণ সাদা-কালো (Black and White) ফ্রেমে নির্মিত এই সিনেমাটি নারীর জীবন, বিশ্বাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নকে গ্রামীণ বাংলাদেশের বাস্তবতার ভিত্তিতে এক অত্যন্ত কাব্যিক চলচ্চিত্রভাষায় উপস্থাপন করেছে।

সিনেমাটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানজিদা আক্তার স্বর্ণা, তাহমিদা রহমান তৌহিদা, সুমাইয়া হক, অশোক ব্যাপারী, সাবিহা জামান, পঙ্কজ মজুমদার, মুনসিফ মিম, নিশাত তাসনিম প্রমুখ।


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিনেমাটিকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে যুক্ত হয়েছেন একঝাঁক অভিজ্ঞ মুখ। সিনেমার অ্যাসোসিয়েট প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন জার্মান প্রযোজক ক্রিস্টোফ থোকে। এ ছাড়া কনসাল্টিং প্রযোজক হিসেবে যুক্ত আছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র সমালোচক, প্রযোজক ও প্রোগ্রামার ডার্সি প্যাকুয়েট। সহপ্রযোজক হিসেবে রয়েছেন নির্মাতা ও প্রযোজক ফজলে হাসান শিশির।

নিজের প্রথম সিনেমা নিয়ে উচ্ছ্বসিত পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ বলেন, গ্রামীণ বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি কীভাবে কুসংস্কার, রক্ষণশীলতা এবং নানাবিধ সামাজিক বিধিনিষেধ নারীদের জীবনে অবদমন তৈরি করে। সেই চেনা বাস্তবতা আর অনুভূতির জায়গা থেকেই মূলত এই চলচ্চিত্রের জন্ম।

অভিনেতা ও প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমাদের এই যাত্রাটা শুরু হয়েছিল খুব সীমিত অর্থ, অল্প অভিজ্ঞতা এবং একদল স্বপ্নবান তরুণ চলচ্চিত্রকর্মীকে সাথে নিয়ে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মতো এত বড় মঞ্চে এটি নির্বাচিত হওয়া আমাদের বহু বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ, বিশ্বাস এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রচর্চার (Independent Cinema) প্রতি অঙ্গীকারেরই এক পরম স্বীকৃতি।

নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জমকালো বিশ্ব প্রিমিয়ারের (World Premiere) পর চলচ্চিত্রটি বিশ্বের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক উৎসবে পাঠানো হবে। বিশ্বভ্রমণ শেষ করে পরবর্তী সময়ে সিনেমাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে সাধারণ দর্শকদের জন্য মুক্তি দেওয়া হবে।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো